চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মো. সোলায়মান নামে এক যুবকের হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার খুনের বর্ণনা দিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তারা।
এর আগে, একইদিন ভোরে নগরের আকবরশাহ থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- শাহাদাত হোসেন, শেখ ফরিদ, তানভীর হাসান, জাহিদুল ইসলাম ও শাহিন আলম। নিহত মো. সোলায়মান গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সোভাগঞ্জ গ্রামের আব্দুল মন্নানের ছেলে।
সীতাকুণ্ড থানার ওসি তোফায়েল আহমেদ বলেন, গত ৩০ জুলাই সকালে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় একটি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর লাশটির সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) মর্গে পাঠানো হয়। লাশের নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছিল না। পরে ১ আগস্ট সন্ধ্যায় এক রিকশাচালকের মা আকবরশাহ থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করতে যান। বিষয়টি আকবরশাহ থানা পুলিশ আমাদের অবহিত করে। ডায়েরি করতে যাওয়া নারীর সঙ্গে উদ্ধার হওয়া লাশের বর্ণনা মিলে গেলে আমরা তাকে সীতাকুণ্ড থানায় আসতে বলি। এরপর তিনি স্বজনদের নিয়ে থানায় এসে লাশের ছবি দেখে সেটি তার ছেলে সোলায়মান বলে শনাক্ত করেন।
ওসি আরো বলেন, সোলায়মানের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও প্রযুক্তির সহায়তায় খুনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর মঙ্গলবার ভোরে আকবরশাহ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন তারা। পরে আদালতে পাঠানো হলে সেখানে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
৩০০ টাকায় ভাড়া
একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন শাহাদাত, ফরিদ, তানভীর, জাহিদুলসহ সাতজন। পরিকল্পনা অনুযায়ী নগরের কর্ণেলহাট এলাকা থেকে সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী যাওয়া-আসার কথা বলে ৩০০ টাকায় সোলায়মানের রিকশাটি ভাড়া করেন। অন্যদিকে ফরিদ, সাকিব, শাহাদাতসহ চারজন কাভার্ডভ্যানে ভাটিয়ারীর দিকে রওনা হন।
ভাটিয়ারীর কাছাকাছি বিএম গেট এলাকায় পৌঁছালে কাভার্ডভ্যান দাঁড় করিয়ে সোলায়মানের কাছ থেকে রিকশাটি নিয়ে নেন তারা এবং সোলায়মানকে কাভার্ডভ্যানে উঠিয়ে নেন। এরপর সেখানে সোলায়মানের হাত-পা বেঁধে তাকে কেবিনের নিচে ফেলে রাখেন।
রিকশাটি কাভার্ডভ্যানে উঠানোর জন্য নির্জন জায়গা খুঁজতে থাকেন তারা। উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের কোট্টা বাজার এলাকায় গিয়ে রিকশাটি কাভার্ডভ্যানে তোলার চেষ্টা করেন। তখন সেখানে কর্তব্যরত নিরাপত্তাকর্মী আবুল কাশেম ও নাসিরের সন্দেহ হলে তারা ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে যেতেই রিকশাটি ফেলে সবাই পালিয়ে যান।
চিনে ফেলায় খুন
কিছুদূর গিয়ে বাড়বকুণ্ড বাজার এলাকা থেকে কাভার্ডভ্যানটি ঘুরিয়ে শহরের দিকে রওনা দেন তারা। একপর্যায়ে সেখানে থাকা ফরিদকে চিনে ফেলেন সোলায়মান। তখন ফরিদের উদ্দেশ্যে সোলায়মান বলেন- আমি আর আপনি একই গ্যারেজে রিকশা রাখি। আপনি আমাকে চিনতে পারছেন? আমাকে ছেড়ে দেন। এরপরই ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে সোলায়মানকে কাভার্ডভ্যানের ভেতর গলায় বেল্ট পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ মহাসড়কের পাশে ফেলে দেন। ৩০ জুলাই সকালে বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশ থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।
Leave a Reply