চট্টগ্রামপ্রতিনিধি:
খুচরায় ১২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ১২০০ টাকা এত বেশি ইলিশ ধরা পড়ছে জাল পর্যন্ত কেটে দিতে হচ্ছে
বঙ্গোপসাগরে জাল ফেললেই ধরা পড়ছে রূপালি ইলিশ। মাছ ধরার ভর মৌসুম শুরু হলেও এতদিন আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় জেলেদের জালে খুব বেশি মাছ ধরা পড়েনি। এতে বেশ হতাশ হয়ে পড়েছিলেন জেলেরা। গত এক সপ্তাহ ধরে হাসি ফিরেছে জেলেদের মুখে।
কারণ এখন জালভর্তি ইলিশ ধরা পড়ছে। এতে জেলেরা যেমন খুশি, তেমনি খুশি লগ্নিকারী বোট মালিকরাও।
বিপুল মাছ ধরা পড়ায় চট্টগ্রামের পাইকারি আড়তে দাম কমেছে বেশ। আড়তে প্রতি মণ ইলিশ বিক্রি হচ্ছে মান ও আকারভেদে সর্বনিম্ন ৪৫ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকায়।
খুচরা বাজারেও প্রতি এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম কমে ১২শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শ্রীবাস চন্দ্র চন্দ যুগ-যুগান্তরকে বলেন, ‘বর্ষাকালের সময় পরিবর্তন হওয়ায় ইলিশ ধরার মৌসুমেও পরিবর্তন এসেছে। এখন আগস্ট থেকেই শুরু হয়ে ইলিশ ধরা চলে নভেম্বর মাস পর্যন্ত। সে হিসাবে গত জো’তে চট্টগ্রামে ৮৩৪ টন ইলিশ ধরা পড়লেও গত কদিনে জালভর্তি ইলিশ ধরা পড়ে।
গত এক সপ্তাহ আগেও ইলিশ ধরা না পড়ায় হতাশ ছিলেন জেলেরা। এখন তারাই জালভর্তি ইলিশ ধরতে পারছেন। এত বেশি ইলিশ ধরা পড়ছে জাল পর্যন্ত কেটে দেওয়ার খবর আমরা শুনেছি।’
মৎস্য কর্মকর্তা শ্রীবাস চন্দ বলেন, দুই কারণে বেশি ইলিশ ধরা পড়ছে। একটি হচ্ছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং দ্বিতীয়ত, ইলিশের মাইগ্রেশন ভালো হয়েছে।
এই ধরা পড়ার হারটা জানা যাবে আগামী জো’র পর। বেশি ধরা পড়লে দামও আগামীতে আরো কমবে।
জানা গেছে, সাগরে দুই ধরনের মাছ ধরা বোটে ইলিশ ধরেন জেলেরা। একটি হচ্ছে, সনাতনী কাঠের বোট; আরেকটি হচ্ছে বাণিজ্যিক ফিশিং ট্রলার। সনাতনী বোট আছে ৬৫ হাজারের মতো, যেগুলোর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই মৎস্য বিভাগের। আর বাণিজ্যিক ফিশিং ট্রলার আছে ২২০টির মতো। আধুনিক হওয়ায় সেসব ট্রলারের নিয়ন্ত্রণ, তদারকি করতে পারেন মৎস্য কর্মকর্তারা।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সামুদ্রিক মৎস্য দপ্তরের পরিদর্শক এস এম সাজ্জাদ উদ্দিন যুগ-যুগান্তরকে বলেন, ‘মোট সামুদ্রিক মৎস্য আহরণের ১২ শতাংশের মতো ধরা হয় বাণিজ্যিক ফিশিং ট্রলারে। বাকিটা ধরা হয় ৬৫ হাজার কাঠের বোটে। বাণিজ্যিক ফিশিং ট্রলার যেগুলো গভীর সাগরে মাছ ধরে। এসব ট্রলারের মধ্যে অবশ্য ইলিশের পরিমাণ খুব বেশি নয়।
সাগর থেকে মাছ ধরে অবতরণ কেন্দ্র বা ঘাটে নিয়ে আসেন জেলেরা। সেখানকার আড়তেই এসব মাছ পাইকারিতে বিক্রি হয়। আড়তদাররা জানান, নোয়াখালীর ইলিশ চট্টগ্রামের ফিশারিঘাটে গতকাল প্রতিমণ বিক্রি হয়েছে এক কেজি থেকে ১২শ গ্রাম ওজনের ইলিশ সর্বনিম্ন ৪৫ হাজার টাকা। আর দুই কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে মন সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকায়।
চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ির খুচরা বিক্রেতা আবদুল হামিদ যুগ-যুগান্তরকে বলেন, ‘ইলিশের দাম আগের চেয়ে অনেক কমেছে। আগামীতে আরো কমবে। গতকাল বৃহস্পতিবার ১০০০-১২০০ গ্রাম ওজনের নোয়াখালীর ইলিশ কিনেছি ১১২৫ টাকা কেজি দরে। বিক্রি করেছি ১২শ থেকে ১২৫০ টাকায়। এগুলো এক সপ্তাহ আগেও বিক্রি করেছি ১৫শ টাকায়।
আড়ত থেকে ১৩০০-১৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কিনেছি ১৩২৫ টাকায়, খুচরায় বিক্রি করেছি ১৪০০-১৫০০ টাকায়। এগুলো আগে ১৮শ টাকায় বিক্রি করেছিলাম।
আর ১৮শ থেকে ২ কেজি ওজনের ইলিশ কিনেছি কেজি ১৭০০-১৮০০ টাকায়; আর বিক্রি করেছি ১৯০০-২০০০ টাকায়। এগুলো আগে ২৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করেছিলাম।
আবদুল হামিদ বলছেন, চট্টগ্রামের আনোয়ারা, বাঁশখালী, পেকুয়া, চকরিয়া এবং কক্সবাজার সদরের ইলিশের তুলনায় নোয়াখালী এলাকার সাগরের ইলিশের দাম মনে ৩ হাজার টাকা বেশি। স্বাদেও ভালো থাকায় চাহিদা বেশি থাকে। তবে চট্টগ্রামের ইলিশ অনেক বেশি টাটকা থাকে।
Leave a Reply