তাহের আহমেদ-
সুনামগঞ্জ জেলার হাওরবেষ্টিত জামালগঞ্জ উপজেলার একমাত্র সরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামালগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজ-এ দীর্ঘদিন ধরে চলমান অনিয়ম, দুর্নীতি ও কথিত ‘সিন্ডিকেট’ শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন এলাকার সচেতন নাগরিকরা।
বৃহস্পতিবার , ৩১ জুলাই ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ, সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে কলেজ প্রাঙ্গণে সচেতন জামালগঞ্জবাসী-র ব্যানারে আয়োজিত হয় এক প্রতিবাদ সভা। এতে অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী ও এলাকার গুণীজনরা।
সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন— কলেজটি দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে, ভর্তি কার্যক্রমে রয়েছে জটিলতা, নানা কর্মসূচিতে অর্থ লেনদেনে স্বচ্ছতা নেই, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে বাউচার ছাড়াই টাকা আদায় করা হয়। কলেজের পুকুর নীতিমালা বহির্ভূতভাবে লিজ দিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে, উন্নয়ন প্রকল্পে ভাগ-বাটোয়ারা হচ্ছে, শিক্ষক সংকট নিরসনে নেই কোনো কার্যকর পদক্ষেপ, এমনকি একাডেমিক রুটিনও অনিয়মতান্ত্রিক ও অগোছালো।
প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন— হাসান আল মাছুম, তোফায়েল আহমেদ, সাইদিল মুরসালিন, ছাদিকুর রহমান স্বাধীন খাঁন, শাহীন মিয়া, সৈয়দ দ্বীন ইসলাম স্বপন, রিয়াদ আহমেদসহ আরও অনেকে।
বিক্ষোভ চলাকালে ছাত্র-ছাত্রীদের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো কলেজ ক্যাম্পাস। তখন কলেজে উপস্থিত এলাকার সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা প্রতিবাদকারীদের কাছে এগিয়ে আসেন এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।
ছাত্রদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়— আজ বৃহস্পতিবার, অথচ কলেজ খোলা থাকলেও প্রায় সব কক্ষ তালাবদ্ধ কেন? সরকারি পুকুরে শিক্ষার্থীরা হাত-মুখ ধোয়, স্থানীয় লোকজন গোসল করে, অথচ সেই পুকুরে মাছ চাষের জন্য লিজ দেওয়া হয়েছে— এটা কীভাবে সম্ভব?
প্রতিবাদকারীরা আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট চললেও নিয়োগে কোনো অগ্রগতি নেই। বরং কোনো রোডম্যাপ ছাড়াই চলছে একাডেমিক কার্যক্রম। এসব বিষয়ে প্রশ্ন তুললে ছাত্রদের রাজনৈতিক চাপ ও আইনি হুমকির মুখে পড়তে হয়।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধি আব্দুর রব ও শাহ মোঃ শাহজাহান মিয়া ঘটনাস্থলে এসে বলেন, তোমাদের অভিযোগগুলো গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো আমরা আমলে নেব। লেখাপড়ার মানোন্নয়নে প্রয়োজন হলে আমরাও তোমাদের সঙ্গে থেকে আন্দোলনে অংশ নেব।
পরে সরেজমিনে কলেজ ক্যাম্পাসে দেখা যায়— অধিকাংশ শ্রেণিকক্ষ তালাবদ্ধ, খোলা কয়েকটি কক্ষও ছিল ফাঁকা। কোথাও কোনো পাঠদান চলছিল না। পুকুরের চারপাশে জাল দিয়ে মাছ চাষের প্রস্তুতি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী এই কলেজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসলেও কার্যত কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন হয়নি।
Leave a Reply