কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি,
কুড়িগ্রামে এইচএসসি পরীক্ষার ফল বিপর্যয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকের মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছে। জেলার ৯টি কলেজ থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেননি। বেসরকারি বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাসের হার ১০ থেকে ৪০ শতাংশ।
শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে – রাজীবপুর উপজেলার চর শৌলমারী আদর্শ মহিলা কলেজ, ফুলবাড়ী উপজেলার রাশেদ খান মেনন কলেজ, রাজারহাট উপজেলার সিংগারডাবড়িহাট মহাবিদ্যালয়, নাগেশ্বরীর চিলাখানা মডেল কলেজ, সমাজকল্যাণ মহিলা কলেজ ও কুঠি পয়রাডাঙা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ধলডাঙা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উলিপুর উপজেলার বাগুয়া অনন্তপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রৌমারী উপজেলার টাপুরচর স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
আরও পড়ুন: বরগুনায় এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা
চিলমারী সরকারি কলেজ, সাইফুর রহমান সরকারি কলেজ, জেলা শহরের কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মাত্র একজন করে পরীক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছেন। সরকারি মীর ইসমাইল কলেজের একজন পরীক্ষার্থী ছাড়া রাজারহাট উপজেলার ৯টি কলেজে আর কেউ জিপিএ ৫ পাননি।
রাজারহাট উপজেলার সিংগারডাবড়ী মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ তৌফিকুল ইসলাম জানান, ২৩ বছর ধরে এমপিও ছাড়াই শিক্ষকরা শিক্ষাদান করছেন। কখনও এ রকম খারাপ ফল হয়নি।
গত বছর ২৩ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছেন ১০ জন। এবার ১০ জন পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল করেছেন। এমনিতেই এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে চান না। ভর্তি হওয়ার পর অনেকেই কারখানায় চলে যান, কারও বিয়ে হয়ে যায়।
ফুলবাড়ী উপজেলার রাশেদ খান মেনন কলেজের অধ্যক্ষ ফখরুল ইসলাম জানান, এই কলেজের ১২ জন পরীক্ষার্থীদের সবাই ইংরেজিতে ফেল করেছে।
কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মীর্জা নাসির উদ্দিন জানান, জেলায় এবারের সার্বিক ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে ক্লাস করতে শিক্ষার্থীদের অনাগ্রহ, নিয়মিত ক্লাস না হওয়া, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সমন্বয়হীনকে দায়ী করেন।
তিনি জানান, ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ের প্রতি শিক্ষার্থীদের ভীতি কাটানো না গেলে আগামীতেও একই ধরনের ফল হতে পারে।
Leave a Reply