জ্যেষ্ঠপ্রতিবেদক:
ফাইল ছবি
• চুলা জ্বালানোই দায়, রান্না করতেই দিনের অর্ধেক সময় ব্যয়
• তিতাসের চাহিদা ১৯০০-২০০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস, পাচ্ছে ১৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট
• ঢাকায় আবাসিক গ্রাহকদের চাহিদা ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট
• ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ৭৪,০২৫টি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন
• অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নে কাজ চলছে: জ্বালানি উপদেষ্টা
• চুরি ঠেকাতে ব্যর্থ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান
ঢাকায় আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে গ্যাস সংকট। বাসাবাড়িতে ঠিকমতো রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। দিনের বেশিরভাগ সময় চুলায় গ্যাসের চাপ না থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর অবস্থা নাজুক। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চুলা জ্বালিয়ে রেখেও রান্না সম্ভব হচ্ছে না।
গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ সংকটের অন্যতম কারণ ‘সিস্টেম লস’। গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থায় অবৈধ সংযোগ ও লিকেজের কারণে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস অপচয় হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বৈধ গ্রাহকদের ওপর। নিয়মিত বিল পরিশোধ করেও অনেক গ্রাহক প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস পাচ্ছেন না।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড বিভিন্ন সময়ে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে অভিযান চালালেও বাস্তব পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। অভিযান চলাকালীন কিছু অবৈধ লাইন বিচ্ছিন্ন করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আবার নতুন করে সংযোগ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর সঙ্গে তিতাসের কিছু আসাধু কর্মকর্তা জড়িত থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অবৈধ সংযোগে সিস্টেম লসে ভারসাম্যহীন অবস্থায় তিতাস। ঠিক কত সংখ্যক অবৈধ সংযোগ রয়েছে তার হিসাব মেলানোও অসম্ভব। কেননা অভিযান আর সংযোগ বিচ্ছিন্নের লুকোচুরি খেলায় প্রতিনিয়ত এ সংখ্যা পরিবর্তন হয়।
এদিকে, গ্যাস সংকটের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিকল্প হিসেবে এলপিজি ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। তবে বাড়তি খরচের কারণে অনেক পরিবারই সেই বিকল্পে যেতে পারছে না। ফলে রান্না নিয়ে প্রতিদিনই অনিশ্চয়তায় পড়ছেন নগরবাসী।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অভিযান নয়, গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, নিয়মিত মনিটরিং এবং অবৈধ সংযোগের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা না নিলে এ সংকট দীর্ঘস্থায়ী হবে। একই সঙ্গে সিস্টেম লস কমাতে কার্যকর সংস্কার জরুরি বলে মনে করছেন তারা। গ্যাস সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে রাজধানীর জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, রাজধানীর বাড্ডা, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, বাসাবো, উত্তরা, আরামবাগ, লালবাগ, যাত্রাবাড়ী, জুরাইন, শ্যামপুর, খিলগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট চরমে পৌঁছেছে।
Leave a Reply