1. nskibria2012@gmail.com : যুগ যুগান্তর : যুগ যুগান্তর kibria
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৯ অপরাহ্ন

টুঙ্গিপাড়া ছাত্রীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, বিক্ষোভের পর শিক্ষক বরখাস্ত

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২ বার পঠিত

মোঃ আইনুল ইসলাম রাচচু
শ্রেণিকক্ষে দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রীদের সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ কথা বলা, অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শের চেষ্টা ও ক্লাশ শেষে খাতা দেখতে একা যেতে বলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। পরে সেই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া বিষয়টি তদন্তের জন্য তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠনের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
দুপুরে এমন ঘটনা ঘটেছে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার টুঙ্গিপাড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। সাময়িক বরখাস্ত সহকারী শিক্ষক ফারুকুজ্জামান ফারুক ওই বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রেণিকক্ষে দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রীদের সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ কথা বলা, অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শের চেষ্টা ও ক্লাশ শেষে খাতা দেখতে একা যেতে বলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় টুঙ্গিপাড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফারুকুজ্জামান ফারুকের শান্তি ও বদলির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন ছাত্রীরা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম তালুকদার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ দিদারুল আলম ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তখন তাদের আশ্বাসে ঘণ্টাব্যাপী চলা বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে শ্রেণিকক্ষে ফেরেন শিক্ষার্থীরা।

টুঙ্গিপাড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী বর্ষা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ফারুক শ্রেণিকক্ষে বয়ঃসন্ধিকাল, ওড়না ছাড়া ভালো লাগে, পালস মাপার জন্য বোরকা-জামা খুলতে বলাসহ বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। এর আগেও ছাত্রীদের নিয়ে খারাপ কথা বলার জন্য অভিভাবকদের কাছে মাফ চেয়েছেন। আমরা তার দ্রুত শাস্তি ও বদলির দাবি জানাই।

একই শ্রেণির জ্যোতি সরকার জানায়, ফারুক স্যার বিভিন্ন সময়ে ছাত্রীদের আলাদাভাবে ডেকে ব্যক্তিগত ভালোলাগা-খারাপলাগা সম্পর্কে বলে অশালীন মন্তব্য করতেন। বিদ্যালয় শেষে রাস্তায় হাঁটাচলার সময় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করেন। তার শাস্তির দাবি জানাই।

আরেক শিক্ষার্থী ফারিয়া জানায়, শিক্ষক ফারুক শ্রেণিকক্ষে মেয়েদের ‘সোনা, ময়না, পাখি, চুলখোলা, লিপস্টিক’ বলে সম্বোধন করেন। এছাড়া মেয়েদের পোশাক ও ঠোঁট নিয়ে মন্তব্য করেন। পড়ানোর সময় আবাসিক হোটেল সম্পর্কেও মেয়েদের বলেন। আর অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। তার মতো শিক্ষক আমরা চাই না।

একই শ্রেণির শিক্ষার্থী লুনা, মারিয়াম জামান তোহা, সাদিয়া, মোহনা, আশামনিসহ অনেকে বলে- শিক্ষক ফারুক ছাত্রীদের সঙ্গে যেসব ভাষা ব্যবহার করে সেগুলো ওনার ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ আমরা তো তার মেয়ের মতো। আমাদের প্রতিষ্ঠানে আরও অনেক শিক্ষক আছেন, তারা এরকম তো ব্যবহার করেন না। যেসব ভাষা তিনি ব্যবহার করেন এগুলো মুখে বলা যায় না। তাই আমরা তার দ্রুত শাস্তি ও বদলির দাবি জানাই।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক ফারুকুজ্জামান ফারুককে একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে কল দিলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম তালুকদার বলেন, টুঙ্গিপাড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফারুকুজ্জামান ফারুকের শাস্তি ও বদলির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। পরে খবর পেয়ে ইউএনও স্যারের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা ঘণ্টাব্যাপী চলা বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে শ্রেণিকক্ষে ফেরে। তখন ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে শিক্ষক ফারুকের বিরুদ্ধে প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। এছাড়া তদন্তের জন্য তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন দেবেন।

টুঙ্গিপাড়া ইউএনও মোহাম্মদ দিদারুল আলম বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছি। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..