নরসিংদীপ্রতিনিধি:
ডাকাত ও মাদক কারবারিসহ ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
বুধবার সকালে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নরসিংদীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান। এর আগে, মঙ্গলবার দিনব্যাপী জেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে শিবপুর উপজেলার সাধারচরে ডাকাতির ঘটনায় ছয়জন, কারারচরে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পাঁচজন, ইটাখোলায় মাদকসহ এক জন এবং নরসিংদী সদরে মাদকসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার শহিদ মিয়া (৩৫), আমির হোসেন (৩৪), বজলুর রহমান (৪৫), শাকিল মিয়া (২২), মনোহরদী উপজেলার আলম মিয়া (২৫), পলাশ উপজেলার সফর আলী (২৮), মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার নয়ন হোসেন (২৩), রিফাত হোসেন (১৮), নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার জুয়েল হোসেন (৩০), ঢাকার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানার রবিন (২৮), যাত্রাবাড়ি থানার কালু শেখ (৫৮), ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার রবিউল (৪৬), আল-আমিন মিয়া (২৮), জাহাঙ্গীর মিয়া (৩০) এবং বিজয়নগর থানার সোহেল মিয়া (৩৫)।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মঙ্গলবার রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ গোপন তথ্যে জানতে পারে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শিবপুর উপজেলার কারারচর এলাকায় একদল ডাকাত ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ সময় সেখানে অভিযান পরিচালনা করে নয়ন, রিফাত, জুয়েল, রবিন ও কালু শেখ নামে পাঁচ ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে দুইটি চাপাতি, দুইটি ছুরি এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক উদ্ধার করা হয়।
এদিকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ মঙ্গলবার রাতে নরসিংদী সদর উপজেলার কাউরিয়াপাড়ার লঞ্জঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে গাঁজাসহ রবিউল নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে ছয় কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
পরে ভেলানগর মাইক্রোস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে গাঁজাসহ আলামিন ও জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এর আগে, শিবপুর উপজেলার ইটাখোলায় অন্বেষা সিনেমা হলের সামনে থেকে ৪২ কেজি গাঁজাসহ সোহেল মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। পৃথক অভিযানে ৫৮ কেজি গাঁজাসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।
এর আগে, গত ২৪ জুলাই শিবপুর উপজেলার সাধারচর এলাকার অজিত চক্রবর্তীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ডাকাতরা স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন লুঠ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় মামলা হলে থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে শহিদ, আমির, সফর, বজলুর, শাকিল ও আলমকে গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুঠ হওয়া মোবাইল উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে বজলুর ও শাকিল দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ সুপার আরো জানান, মাদক উদ্ধারের ঘটনায় নরসিংদী ও শিবপুর থানায় মাদকদ্রব্য আইনে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আর ডাকাতির প্রস্তুতির ঘটনায় শিবপুর থানায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
Leave a Reply