1. nskibria2012@gmail.com : যুগ যুগান্তর : যুগ যুগান্তর kibria
শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩০ অপরাহ্ন

পাকিস্তানে নারী ও ন্যায়বিচারের মাঝে বড় বাধা লিঙ্গবৈষম্য

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৯ বার পঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

পাকিস্তানে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনায় ন্যায়বিচার পাওয়ার লড়াই শুরু হয় আদালতের দরজায় পৌঁছানোর অনেক আগেই। কখনও অভিযোগের সত্যতা নিয়ে পুলিশের সন্দেহ, কখনও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উপেক্ষা, আবার কখনও পারিবারিক সহিংসতাকে নিছক পারিবারিক বিরোধ হিসেবে দেখার প্রবণতা -এসব কারণে বিচার পাওয়ার পথ কঠিন হয়ে উঠছে দেশটির নারীদের জন্য। বিচারপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে এমন পিতৃতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি নারীর ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করছে।

এ পরিস্থিতিতে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় লিঙ্গ সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট। গত ১৪ সেপ্টেম্বর দেওয়া এক রায়ে আদালত বলেছেন, নারীদের সহিংসতা থেকে সুরক্ষা দিতে শুধু সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন যথেষ্ট নয়; তদন্ত ও বিচার পরিচালনার ক্ষেত্রেও লিঙ্গভিত্তিক পক্ষপাত দূর করতে হবে।

দুই সদস্যের বেঞ্চের পক্ষে রায়টি লিখেছেন বিচারপতি মুহাম্মদ হাশিম খান কাকার। তিনি বলেছেন, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা মোকাবিলায় পুলিশ কর্মকর্তাদের পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা ও লিঙ্গভিত্তিক পক্ষপাত শনাক্ত করা এবং তা কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের একটি মামলাকে কেন্দ্র করে দেওয়া এ রায়ের তাৎপর্য শুধু ওই মামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং পারিবারিক পরিসরে সংঘটিত সহিংসতার তদন্ত, প্রমাণ সংগ্রহ এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের দুর্বলতাগুলো নতুন করে সামনে এনেছে আদালত।

ঘরের ভেতরের সহিংসতা, আড়ালে থেকে যায় প্রমাণ

পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা তদন্ত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বিশেষ চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। কারণ, এ ধরনের অপরাধ প্রায়ই ঘরের ভেতরে, অন্যদের আড়ালে সংঘটিত হয়। সেখানে নিরপেক্ষ প্রত্যক্ষদর্শীর অভাব থাকতে পারে, পরিবারের সদস্যরা সাক্ষ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করতে পারেন এবং গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

কোনো নারী নিজ বাড়িতে হত্যার শিকার হলে শুধু তাঁর মৃত্যুই নয়, মৃত্যুর পেছনের ঘটনাগুলোও আড়ালে থেকে যেতে পারে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বলেছেন, অপরাধের সত্য উদ্‌ঘাটন করা আইনব্যবস্থার দায়িত্ব। দাম্পত্য জীবনের গোপনীয়তাকে কোনোভাবেই অপরাধীর রক্ষাকবচ হতে দেওয়া যাবে না।

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে অনুমান কিংবা সামাজিক ধারণার ওপর নির্ভর না করে তদন্তকারীদের উপলব্ধ সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে হবে। প্রতিটি প্রাসঙ্গিক আলামত শনাক্ত করা, যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা এবং তদন্তের নথিতে অন্তর্ভুক্ত করাও জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, এ নির্দেশনার গুরুত্ব অনেক। কারণ, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে পক্ষপাত বা অবহেলার কারণে প্রমাণ নষ্ট হয়ে গেলে পরবর্তী সময়ে আদালতের পক্ষে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা কঠিন হয়ে পড়ে।

নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার উদ্বেগজনক চিত্র

পাকিস্তানে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার ব্যাপকতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। জাতিসংঘের নারী সংস্থা ইউএন উইমেনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ সালের জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপে ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী বিবাহিত নারীদের ২৪ দশমিক ৫ শতাংশ জানিয়েছেন, জীবনের কোনো না কোনো সময়ে তাঁরা স্বামী বা অন্তরঙ্গ সঙ্গীর শারীরিক ও যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। জরিপের আগের ১২ মাসে এ ধরনের সহিংসতার শিকার হওয়ার হার ছিল ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ। এগুলো ২০২৬ সালের নতুন জরিপের অনুমান নয়, বরং ইউএন উইমেন ডেটাবেস থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ জাতীয় তুলনীয় পরিসংখ্যান।

এদিকে পাকিস্তান মানবাধিকার কমিশনের ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে তথাকথিত সম্মান রক্ষার নামে ৪৭০ জন নারী হত্যার শিকার হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা, সাইবার হয়রানি এবং অন্যান্য অপরাধের ঘটনাও দেশটিতে উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে।

২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে লিঙ্গ সমতা ও মূলধারায় নারীর অংশগ্রহণবিষয়ক সংসদীয় বিশেষ কমিটিও নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। তদন্তে বিলম্ব, প্রমাণ সংরক্ষণে দুর্বলতা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কথিত অবহেলার বিষয়গুলোও আলোচনায় আসে।

তবে এসব পরিসংখ্যান দিয়ে সহিংসতার পূর্ণ চিত্র পাওয়া কঠিন। ইউএন উইমেনের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশে পুলিশ ধর্ষণ, পারিবারিক সহিংসতা, হয়রানি ও তথাকথিত সম্মান রক্ষার নামে হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধের তথ্য সংগ্রহ করলেও সেগুলো জাতীয় পর্যায়ে একই মানদণ্ডে প্রকাশ করা হয় না। ফলে প্রদেশভিত্তিক পরিস্থিতি তুলনা করা এবং সহিংসতার প্রকৃত ব্যাপ্তি নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

আইন রয়েছে, দূর হয়নি বৈষম্য

নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধ ও ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় পাকিস্তানে বিভিন্ন আইন রয়েছে। ২০১২ সালের পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন ছাড়াও সিন্ধু, পাঞ্জাব, খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানে এ ধরনের সহিংসতা মোকাবিলায় পৃথক আইনগত কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।

এ ছাড়া লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার মামলার দ্রুত ও কার্যকর বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ আদালতও রয়েছে। ইউএন উইমেনের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে এ ধরনের ৪৮০টি বিশেষায়িত আদালত রয়েছে, যার মধ্যে ১১৬টি জেলা পর্যায়ে অবস্থিত। ২০২৩ সালে এসব আদালতে ৪৮ হাজার ৩৯৫টি নতুন মামলা দায়ের হয়। একই সময়ে নিষ্পত্তি হয় ৩০ হাজার ৬৩১টি মামলা।

তবে আইন প্রণয়ন কিংবা বিশেষ আদালত প্রতিষ্ঠা করলেই বিচারপ্রক্রিয়া থেকে সামাজিক পক্ষপাত দূর হয় না। অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে কোনো নারীর পোশাক, আচরণ, চরিত্র, বৈবাহিক সম্পর্ক কিংবা অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন তোলা হলে মূল অপরাধ থেকে মনোযোগ সরে যেতে পারে।

ফলে আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ভুক্তভোগীকে নানা ধরনের সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বাধার মুখে পড়তে হয়। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ে পিতৃতান্ত্রিক পক্ষপাতকে এ কারণেই শুধু সামাজিক সমস্যা হিসেবে নয়, বরং ফৌজদারি তদন্ত ও বিচারকে প্রভাবিত করতে পারে এমন গুরুতর বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

বিচার বিভাগেও নারীর প্রতিনিধিত্ব কম

পাকিস্তানের বিচারব্যবস্থায় নারীর সীমিত প্রতিনিধিত্বও আলোচনায় এসেছে। দেশটির আইন ও বিচার কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিচারক ও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে নারীর অংশগ্রহণ এখনও তুলনামূলকভাবে কম।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেশের মোট ৩ হাজার ১৪২ জন বিচারক ও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার মধ্যে ৫৬৫ জন নারী, যা প্রায় ১৮ শতাংশ। অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্ট, ফেডারেল শরিয়ত আদালত ও পাঁচটি হাইকোর্ট মিলিয়ে ১২৬ জন বিচারকের মধ্যে নারী ছিলেন মাত্র সাতজন- প্রায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।

এ পরিসংখ্যান থেকে অবশ্য বলা যায় না যে পুরুষ বিচারকেরা নারীর মামলা পরিচালনায় কম সক্ষম কিংবা নারী বিচারকেরা সব ক্ষেত্রে ভিন্ন রায় দেবেন। তবে বিচারব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে নারীর প্রতিনিধিত্বের ঘাটতি স্পষ্ট।

পাকিস্তানের প্রথম নারী সুপ্রিম কোর্ট বিচারপতি আয়েশা মালিক ২০২৫ সালে আইনজীবীদের মধ্যে নারীর অংশগ্রহণের সঙ্গে বিচারকদের মধ্যে তাঁদের প্রতিনিধিত্বের বৈষম্য তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আইনজীবীদের মধ্যে নারীর হার প্রায় ২৫ থেকে ২৬ শতাংশ হলেও বিচারকদের মধ্যে তা মাত্র ২ শতাংশ। তিনি দেশটির আইনি পরিবেশকে ব্যাপকভাবে পুরুষকেন্দ্রিক বলেও উল্লেখ করেন।

এ পরিস্থিতিতে বিচারপ্রক্রিয়ায় লিঙ্গ সংবেদনশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিচার বিভাগে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিচারপ্রক্রিয়ার প্রথম ধাপেই বদল প্রয়োজন

একজন নারী সহিংসতার শিকার হলে তাঁর ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ শুরু হয় সাধারণত থানায় অভিযোগ জানানো, হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া কিংবা চিকিৎসা-আইনি পরীক্ষা করানোর মধ্য দিয়ে। এ পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আচরণ ও সিদ্ধান্ত পরবর্তী বিচারপ্রক্রিয়ায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। অভিযোগ গ্রহণে গড়িমসি, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা না করা, আলামত সংরক্ষণে অবহেলা কিংবা ভুক্তভোগীর বক্তব্যকে গুরুত্ব না দেওয়ার মতো ঘটনা তদন্তকে দুর্বল করে দিতে পারে।

ইউএন উইমেনের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে ২০২১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় ৪০ হাজারের বেশি আইন প্রয়োগকারী পেশাজীবীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা মোকাবিলায় দেশটিতে ২১টি বিশেষায়িত পুলিশ স্টেশন বা ইউনিটও রয়েছে। পাশাপাশি জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে ধর্ষণবিরোধী সংকট মোকাবিলা কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা মূল্যায়নে আরও স্বচ্ছ ও তুলনাযোগ্য তথ্য প্রয়োজন। বিভিন্ন প্রদেশে অভিযোগ গ্রহণ থেকে শুরু করে তদন্ত, বিচার এবং অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার প্রতিটি ধাপে কী অগ্রগতি হচ্ছে, তার পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনও সহজে পাওয়া যায় না।

লিঙ্গ সংবেদনশীল বিচারব্যবস্থায় জোর

পাকিস্তানের বিচার বিভাগও লিঙ্গ সংবেদনশীল বিচারব্যবস্থাকে সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে। জাতীয় বিচার বিভাগীয় নীতিনির্ধারণী কমিটি ২০২৬-২৭ সালের কর্মসূচিতে এ বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।

আইন ও বিচার কমিশনের কর্মপরিকল্পনায় নারী সহায়তা কেন্দ্র, আইনি সহায়তা ও পরামর্শ, পারিবারিক সহায়তা, মধ্যস্থতা, লিঙ্গনিরপেক্ষ ভাষার ব্যবহার এবং আইনি সচেতনতা বাড়ানোর মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইউএন উইমেনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সংস্থাটি পাকিস্তানের ৩৭টি সরকারি, সংসদীয় ও বিচারিক প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করেছে। একই সময়ে বিচার খাতের ২২৪ জন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দক্ষতা উন্নয়নেও সহায়তা দেওয়া হয়। এ ছাড়া ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ছয়টি ধর্ষণবিরোধী সংকট মোকাবিলা কেন্দ্র ২০২৫ সাল নাগাদ ১ হাজার ৭২৪ জন নারী এবং ২৭ জন বালককে চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্য ও আইনি সহায়তা দিয়েছে।

এসব উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও বিচারব্যবস্থায় নারীর প্রতিনিধিত্বের ঘাটতি এবং সহিংসতার অব্যাহত ঘটনাগুলো প্রমাণ করে, সামনে আরও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, লিঙ্গসংবেদনশীল তদন্ত মানেই প্রমাণের মানদণ্ড শিথিল করা কিংবা কাউকে আগেভাগে দোষী সাব্যস্ত করা নয়। বরং অপরাধ সংঘটনের পরিস্থিতি, নারী ও পুরুষের মধ্যকার ক্ষমতার অসমতা, ভুক্তভোগীর অভিযোগ জানানোর সুযোগ এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহের বাস্তব বাধাগুলো বিবেচনায় নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা।

পারিবারিক সহিংসতার ক্ষেত্রে এ দৃষ্টিভঙ্গি বিশেষভাবে জরুরি। বাড়ির ভেতরে কোনো ঘটনা ঘটেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী না থাকতেই পারে। আবার ভুক্তভোগী মারা গেলে তাঁর নিজের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগও থাকে না। কিন্তু এসব সীমাবদ্ধতা অপরাধের তদন্ত বন্ধ করে দেওয়ার কারণ হতে পারে না। বরং অন্যান্য সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন করতে হবে।

পাকিস্তানে নারীর ন্যায়বিচারের সংকট শুধু আদালতে নারী বিচারকের সংখ্যা কিংবা আইনের ঘাটতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সামাজিক মানসিকতা, পুলিশের ভূমিকা, তদন্তের মান, চিকিৎসা-আইনি সেবার প্রাপ্যতা এবং গণমাধ্যমে ব্যবহৃত ভাষা। সুপ্রিম কোর্টের সেপ্টেম্বরের রায় সেই বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে। আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত ভাষাও নিরপেক্ষ বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। সহিংসতার শিকার নারীর চরিত্র, পোশাক বা আচরণের দিকে আঙুল তুলে প্রায়ই অপরাধীর আসল অপরাধকে ছোট করে দেখার চেষ্টা করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট তার রায়ে এই প্রবণতাকে কঠোরভাবে খণ্ডন করে জানিয়েছে, বৈবাহিক সম্পর্ক বা পারিবারিক সম্মানের দোহাই দিয়ে সহিংসতার তদন্তকে শিথিল করার কোনো সুযোগ নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..