1. nskibria2012@gmail.com : ns kibria : ns kibria
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ০৮:৪৭ অপরাহ্ন

জিয়াউর রহমান আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার ও গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ’

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬
  • ৩০ বার পঠিত
৪২

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি শহীদ জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং দেশ গঠনে তার অবদান স্মরণ করেন।

শনিবার (৩০মে) দলের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭১ সালে স্বজাতির চরম ক্রান্তিকালে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জিয়াউর রহমান ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায়ে বীর নায়কের স্থান অর্জন করেছেন। তার স্বাধীনতার ঘোষণার অভয়মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের ছাত্র, শ্রমিক ও যুবকসহ সর্বস্তরের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।

 

তিনি আরও বলেন, শহীদ জিয়ার প্রদর্শিত পথ, দর্শন ও কর্মসূচি আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুসংহতকরণ, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং দেশীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির রক্ষাকবচ।

তিনি অভিযোগ করেন, বিজয়ের পর তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর অগণতান্ত্রিক দমনমূলক শাসনের কারণে দেশে ভয়াবহ অরাজকতা তৈরি হয়, নাগরিক অধিকার হরণ করা হয় এবং একদলীয় দুঃশাসন চালু করা হয়। সেই নৈরাজ্যকালীন সময়ে সিপাহী-জনতার মিলিত অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে জাতীয় রাজনীতির পাদপ্রদীপে আসেন। ক্ষমতায় এসেই তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, শহীদ জিয়া স্বেচ্ছাশ্রম ও উৎপাদনের রাজনীতির মাধ্যমে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করেছিলেন এবং বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ির আখ্যা থেকে খাদ্য রফতানিকারক দেশে পরিণত করেছিলেন। দুর্নীতি ও সুবিধাবাদের কাছে তিনি কখনো মাথা নত করেননি।

তিনি আরও বলেন, এই মহান নেতার জনপ্রিয়তা দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীরা মেনে নিতে পারেনি। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

 

তবে জিয়াউর রহমান জনগণের হৃদয়ে চিরজাগরুক আছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরবর্তীতে তার সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়া আপসহীন নেতৃত্ব দিয়ে শহীদ জিয়ার পথ ধরেই বহুদলীয় গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।

বিগত আওয়ামী সরকারের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনমনে ভয় আর আতঙ্ক সৃষ্টি করে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতা আঁকড়ে রেখেছিল। গুম, খুন, নির্যাতন ও সম্পদ পাচারের মাধ্যমে এক লুটেরা মাফিয়া অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। গত ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার পতন ঘটে। ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই বিজয়কে এখন পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে হবে।

মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী দিনে জনগণের কাছে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, পরমতসহিষ্ণুতা এবং সকল নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে দল বদ্ধপরিকর। গণতন্ত্রকে স্থায়ী রূপ দিতে রাষ্ট্রের প্রতিটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার তাগিদ দেন তিনি।

রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ জিয়ার আদর্শ, সততা ও কর্মনিষ্ঠাকে জাতীয়তাবাদী শক্তির মূল প্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করে আগামী ৩০ মে তার শাহাদতবার্ষিকী দেশব্যাপী যথাযথ মর্যাদায় উদযাপনের জন্য দল, অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..