নিজস্ব প্রতিবেদক
পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, দেশে এখনো টেকসই ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে গেলেও আমরা এখনো এমন একটি স্থায়ী রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে পারিনি, যা জনগণের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে। ফলে বর্তমান বাস্তবতায় কিছু মৌলিক ও সীমিত লক্ষ্য অর্জনই এখন প্রধান উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) আয়োজিত এক সেমিনারে উপদেষ্টা এসব বলেন। পরিকল্পিত নগরায়নই উন্নত জীবনমানের চাবিকাঠি: গণপূর্ত উপদেষ্টা
অনুষ্ঠানে আলোচ্য বিষয় ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডেভিড সি. এঙ্গারম্যানের লেখা বই ‘অ্যাপোস্টলস অব ডেভেলপমেন্ট: সিক্স ইকোনমিস্টস অ্যান্ড দ্য ওয়ার্ল্ড দে মেড’—যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার ছয়জন প্রভাবশালী অর্থনীতিবিদের চিন্তা-চেতনা ও অবদান তুলে ধরা হয়েছে।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক ক্ষমতা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনতে না পারলে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। বাজারভিত্তিক অর্থনীতি থেকে সরে আসা সম্ভব নয়, তবে রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে যেন এই বাজারব্যবস্থা ন্যায্যতা ও সামাজিক সমতা রক্ষা করে। উপদেষ্টা বলেন, একটি অর্থবহ ও জবাবদিহিমূলক গণতন্ত্র ছাড়া দেশের উন্নয়ন কখনো টেকসই হতে পারে না। এ জন্য স্বাধীন বিচার বিভাগ, শক্তিশালী সংসদ এবং সুশাসন নিশ্চিতকারী জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, নিয়ন্ত্রণহীন বাজারব্যবস্থা উগ্র পুঁজিবাদের দিকে নিয়ে যেতে পারে, যা সমাজে গভীর বৈষম্যের জন্ম দেয়। তাই আয় ও ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠাই ন্যায়নিষ্ঠ সমাজ গঠনের মূল চাবিকাঠি।
গণতান্ত্রিক উত্তরণ সফল হলে ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারণের নতুন অধ্যায় শুরু হবে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, তখন রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের আদর্শ ও অবস্থান নতুনভাবে নির্ধারণ করতে হবে—কে বাম, কে ডান, আর কে মধ্যপন্থী।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক অধ্যাপক এ কে এনামুল হক।
Leave a Reply