1. nskibria2012@gmail.com : ns kibria : ns kibria
মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০৯ অপরাহ্ন

নীলফামারীর এক স্কুলে এসএসসিতে সবাই ফেল

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬
  • ১১ বার পঠিত
১৩

নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারীর ডোমারের ‘আমবাড়ী (বহুমুখী) বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’ থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল মানবিক শাখার ১০ শিক্ষার্থী। তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ফলে বিদ্যালয়টির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এ চিত্র সামনে আসে।

সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, রয়েছে ভবন, শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক-কর্মচারী এবং সরকারি বিভিন্ন বরাদ্দে নির্মিত একাধিক অবকাঠামো। তবে শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত উপস্থিতি নেই। নিয়মিত পাঠদানেও নেই সন্তোষজনক পরিবেশ। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়ের খাতায়-কলমে শিক্ষার্থী রয়েছে ১৫৫ জন। অথচ প্রতিদিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয় মাত্র ২০ থেকে ৩০ জন।

এনটিআরসিএ পদ্ধতি বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভএনটিআরসিএ পদ্ধতি বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯২ সালে এক একর এর বেশি জমির ওপর আমবাড়ী (বহুমুখী) বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০০ সালে বিদ্যালয়টির নিম্ন মাধ্যমিক শাখা এমপিওভুক্ত হয়। পরে ২০০৪ সালে মাধ্যমিক শাখায় পাঠদানের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে মাধ্যমিক পর্যায়ের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষক না থাকায় নিম্ন মাধ্যমিক শাখার শিক্ষকদের দিয়েই মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠদান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ছয়জন শিক্ষক ও ছয়জন কর্মচারী রয়েছেন।

এ বিষয়ে কথা হলে বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক জিকরুল হক বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে না আসা এবং অভিভাবকদের অসচেতনতা বড় সমস্যা। এর সঙ্গে এই এলাকায় বেশি বড় সমস্যা হচ্ছে বাল্যবিবাহ। এছাড়া প্রতিষ্ঠানেও শিক্ষক সংকট রয়েছে। এসব কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে। এজন্য এবার এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা সম্ভব হয়নি।’

তিনি আরও জানান, প্রথমবার আমাদের প্রতিষ্ঠানে এসএসসি পরীক্ষায় কেউ পাস করেনি। এর আগে বিগত ৫ বছরে পাশের হার শতকরা ৬০-৮০ শতাংশের মধ্যে ছিল।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গাফিলতি এবং সরকারি পর্যায়ে যথাযথ নজরদারির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টির শিক্ষাব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর মজিদ (৭৪) বলেন, এলাকায় গত দুই-তিন বছরে বাল্যবিবাহ বেড়ে গেছে। ফলে মেয়েরা স্কুলমুখী হওয়া কমিয়ে দিয়েছে। অনেক মেয়ে অল্প বয়সেই বিয়ের পিঁড়িতে বসছে। এতে তাদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। বাল্যবিবাহ বন্ধে পরিবার ও সমাজের পাশাপাশি প্রশাসনের আরও কার্যকর ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন।

একটি মেয়ের বিয়ে হয়ে গেলে শুধু তার পড়াশোনাই বন্ধ হয় না, নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগও কমে যায়। অনেক পরিবার দারিদ্র্য ও সামাজিক নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে অল্প বয়সে মেয়ের বিয়ে দিয়ে দেয়। তাই বাল্যবিবাহ রোধের পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারগুলোর মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সহযোগিতা করা প্রয়োজন বলে স্থানীয় অনেকের ভাষ্য।

এ বিষয়ে ডোমার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মো. সাফিউল ইসলাম বলেন, আমবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলাফলের প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..