গাইবান্ধা থেকে মোঃ আবু জাফর মন্ডলঃ
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকট ও সমস্যায় জর্জরিত। বিশেষ করে চিকিৎসক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা। হাসপাতালটিতে ২৫ জন এমবিবিএস চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে মাত্র ৫ জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে বিপুলসংখ্যক রোগীর চিকিৎসাসেবা। ফলে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষ।
প্রতিদিন হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসছেন বিপুলসংখ্যক রোগী। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক সংখ্যা অপ্রতুল হওয়ায় দায়িত্ব পালনরত চিকিৎসকদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এতে রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং চিকিৎসকদেরও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
দক্ষতায় সংকট সামলে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন আরএমও ইশতিয়াক আমিন অলিক
পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইশতিয়াক আমিন অলিক সীমিত জনবল নিয়ে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। চিকিৎসক সংকটের মধ্যেও তিনি নিজের নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে রোগীদের সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন।
এ বিষয়ে আরএমও ডা. ইশতিয়াক আমিন অলিক বলেন, “হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীদের কাঙ্ক্ষিত মানের চিকিৎসাসেবা দিতে আমরা বড়ই বিপাকে আছি। ২৫ জন এমবিবিএস চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে মাত্র ৫ জন চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন। ফলে অল্পসংখ্যক চিকিৎসককে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি নিয়ে আমাদের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আবুল কাওছার নজরুল ইসলাম লেবু এবং জেলা সিভিল সার্জন রফিকুজ্জামান স্যারের সঙ্গে কথা হয়েছে। খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে বলে আমরা আশাবাদী।”
হাসপাতালের চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকটও রয়েছে। হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে মাত্র একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী দিয়ে পুরো হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে হাসপাতালের বিভিন্ন অংশ নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পলাশবাড়ী উপজেলার বিশাল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসা এই হাসপাতাল। চিকিৎসক ও জনবল সংকট দ্রুত নিরসন না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ সরকারি হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
এলাকাবাসী বলছেন, পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্রুত প্রয়োজনীয় সংখ্যক এমবিবিএস চিকিৎসক, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ অন্যান্য জনবল নিয়োগ করা হলে উপজেলার সাধারণ মানুষ উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
তাই জনস্বার্থে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও জনবল সংকট দ্রুত নিরসনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।