নুরুল আলম সিকদার,
কক্সবাজারের উখিয়ায় প্রায় দুই বছর ধরে বিদ্যুৎহীন একটি পরিবার। সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর বকেয়া বিল পরিশোধ করলেও নতুন করে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ পরিবারের। বরং সংযোগ পেতে বিভিন্ন সময়ে ৯০ হাজার, ৩০ হাজার এবং সর্বশেষ ১১ হাজার ২২৬ টাকা জরিমানা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ছৈয়দ আলম।
তবে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের দাবি, তদন্তে ছৈয়দ আলমের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই নিয়ম অনুযায়ী জরিমানা পরিশোধ করেই সংযোগ নিতে হবে।
ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ফলিয়াপাড়া গ্রামে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, প্রায় দুই বছর আগে পল্লী বিদ্যুতের মূল লাইনে ত্রুটির কারণে একই সময়ে ১৪টি বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে অন্য বাড়িগুলোতে সংযোগ দেওয়া হলেও ছৈয়দ আলমের বাড়িতে আর বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়নি।
ছৈয়দ আলমের দাবি, তিনি কখনো অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করেননি। তার বাড়ির সংযোগ মূল খুঁটি থেকেই বিচ্ছিন্ন ছিল। এরপরও তার বিরুদ্ধে অবৈধ সংযোগ ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
সংযোগ চালুর বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করলে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তার। তবে টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় পরে অবৈধ সংযোগ ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ছৈয়দ আলম বলেন, “কখনো ৯০ হাজার, কখনো ৩০ হাজার, আবার সর্বশেষ ১১ হাজার ২২৬ টাকা জরিমানা চাওয়া হয়েছে। আমি গরিব মানুষ। এত টাকা কোথা থেকে দেব?”
পরিবারটির অভিযোগ, দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। দিনের আলোতেই তাদের পড়াশোনা করতে হয়। রাত নামলেই পুরো বাড়ি অন্ধকারে ডুবে যায়।
পরিবারের সদস্য রাবিয়া বলেন, সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর বকেয়া বিল পরিশোধ করা হলেও বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা হয়নি। এখন আবার জরিমানার কথা বলা হচ্ছে।
স্থানীয়দেরও দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বাড়িটিতে বিদ্যুৎ না থাকলেও সেখানে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়টি তারা দেখেননি। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সমাধানের দাবি তাদের।
তবে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।
উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম কায়জর নূর জানান, প্রথম দফার তদন্তে ছৈয়দ আলমের বিরুদ্ধে অবৈধ সংযোগ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ কারণে নিয়ম অনুযায়ী সর্বনিম্ন নির্ধারিত জরিমানা পরিশোধ করে সংযোগ চালুর জন্য তাকে বলা হয়েছে।
তবে এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—মূল লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পর কীভাবে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হলো? অবৈধ সংযোগ ব্যবহারের অভিযোগের ভিত্তি কী? আর যে তদন্তের ভিত্তিতে জরিমানা দাবি করা হচ্ছে, সেই তদন্ত প্রতিবেদনে ঠিক কী উল্লেখ করা হয়েছে?
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, তারা কোনো অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করেনি। অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বলছে, তদন্তে এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে দুই পক্ষের ভিন্ন বক্তব্য।
পরিবারটির দাবি, বিষয়টি পুনঃতদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা পরিষ্কার করা হোক। একই সঙ্গে তদন্তের ফলাফল স্পষ্ট করে নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।