1. nskibria2012@gmail.com : যুগ যুগান্তর : যুগ যুগান্তর kibria
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ন

৩৭ হাজার টাকা বেতনে শতকোটি টাকার মালিক সাভারের সাবেক ধামসোনা ইউপি সচিব মহাসিন! বহুতল বাড়ি, ফ্ল্যাট ও বিপুল সম্পদের সন্ধান; দুদকের তদন্ত দাবি

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩ বার পঠিত

মোঃ রাজন মাদবর

৩৭ হাজার টাকা বেতনে শতকোটি টাকার মালিক সাভারের সাবেক ধামসোনা ইউপি সচিব মহাসিন! বহুতল বাড়ি, ফ্ল্যাট ও বিপুল সম্পদের সন্ধান; দুদকের তদন্ত দাবি
সাভারের ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব মহাসিনের অবৈধ অর্থে গড়ে তোলা বিলাসবহুল বহুতল ভবন ও অর্থ সম্পদের প্রতীকী দৃশ্য।

২৩
সরকারি খাতায় তার মাসিক বেতন স্কেল মাত্র ৩৭ হাজার টাকা। অথচ শুধু সন্তানের পড়াশোনার পেছনেই তার মাসিক ব্যয় প্রায় ৯০ হাজার টাকা। এই আকাশপাতাল ফারাক কেবল কোনো গল্পের প্লট নয়, বরং সাভারের ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব মহাসিনের বাস্তব জীবনের চিত্র। মাত্র ১১ বছরের চাকরিজীবনে তিনি ক্ষমতার চূড়ান্ত অপব্যবহার, টেন্ডারবাজি এবং লাগামহীন কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একজন সাধারণ সরকারি কর্মচারীর এমন অবিশ্বাস্য আর্থিক উত্থান স্থানীয়দের মাঝে চরম বিস্ময় ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় ও অনুসন্ধানী সূত্রগুলো বলছে, বিগত সরকারের আমলে সাবেক চেয়ারম্যানের ছত্রচ্ছায়ায় ও প্রবল প্রভাব খাটিয়ে পুরো ইউনিয়ন পরিষদকে দুর্নীতির এক অভয়ারণ্যে পরিণত করেছিলেন এই মহাসিন। স্থানীয় সরকার আইনের বিধান অনুযায়ী যেকোনো বহুতল বা সাধারণ ভবনের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিবের যৌথ স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক। আইনের এই অপরিহার্য সুযোগটিকেই নিজের পকেট ভারী করার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন তিনি। নকশা অনুমোদনের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তিনি একাই হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল অঙ্কের অবৈধ অর্থ।

দুর্নীতির এখানেই শেষ নয়। সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও টিআর-কাবিখা প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ, অসহায় মানুষের বয়স্ক ও বিধবা ভাতা, ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করার ফি এবং সাধারণ নাগরিকদের হোল্ডিং ট্যাক্সের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব তিনি আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারি তহবিলের টাকা নয়ছয় করে তিনি নিজের ব্যক্তিগত ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করেছেন। উল্লেখ্য, এর আগে তিনি সাভারের বীরুলিয়া ইউনিয়নে কর্মরত থাকাকালীনও টেন্ডারবাজি ও ব্যাপক দুর্নীতির কারণে চরম সমালোচিত হয়েছিলেন। ওই ঘটনার পর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে ধামরাইয়ের চৌহাট ইউনিয়নে বদলি করা হলেও তার দুর্নীতি ও অবৈধ উপার্জনের চাকা কখনোই থেমে থাকেনি।

দীর্ঘদিনের এই অবৈধ আয়ের মাধ্যমে মহাসিন নামে-বেনামে গড়ে তুলেছেন অঢেল সম্পদের এক বিশাল সাম্রাজ্য। সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে তার এই বিপুল সম্পদের বেশ কিছু অকাট্য প্রমাণ উন্মোচিত হয়েছে। জানা গেছে, সাভারের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তার রয়েছে একটি বিলাসবহুল ৯ তলা বাড়ি। এছাড়া রাজধানীর উত্তরার উত্তরখান এলাকায় একটি ৩ তলা ভবন, কল্যাণপুরে একাধিক সুরম্য ফ্ল্যাট এবং ধামরাইয়ের মতো বর্ধিষ্ণু এলাকায় ১৩ শতক মূল্যবান জমির সন্ধান পাওয়া গেছে। শুধু স্থাবর সম্পত্তিই নয়, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত এই কালো টাকার বিশাল অংশ তিনি বিভিন্ন ব্যবসায়ও বিনিয়োগ করেছেন বলে সুনির্দিষ্ট তথ্য মিলেছে।

সরকারি পদে থেকে এমন লাগামহীন দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সচিব মহাসিনের এই অবৈধ সম্পদের পাহাড় ও পাহাড়সম দুর্নীতির বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তার অবৈধ আয়ের উৎস খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এখন সময়ের জোর দাবি। উল্লেখ্য, এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার ব্যাংক হিসাব ও বেনামি সম্পদের আরও চমকপ্রদ এবং বিস্তারিত তথ্য নিয়ে আমাদের বিশেষ প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্ব শিগগিরই প্রকাশিত হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..