পঞ্চগড়ের জেলা প্রতিনিধি
পঞ্চগড়ের দক্ষিণ কাশিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ জেলা প্রশাসক জেলা শুকরিয়া পারভীন। ছবি- ঢাকা মেইল
পঞ্চগড় সদর উপজেলার দক্ষিণ কাশিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় খোলা মাঠেই পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছিলেন শিক্ষকরা। এতে রোদ, ঝড় ও বৃষ্টির মধ্যে চরম দুর্ভোগে পড়তে হতো কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। সম্প্রতি ঢাকা মেইলসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিদ্যালয়টির দুরবস্থার খবর প্রকাশিত হলে বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে আসে। পরে জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীনের নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে বিদ্যালয়ে আপদকালীন চার কক্ষবিশিষ্ট মেঝে পাকা টিনশেড শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করা হয়।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে নবনির্মিত শ্রেণিকক্ষের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক জেলা শুকরিয়া পারভীন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোমিনুল হক, গড়িনাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন দিপু, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ উদ্বোধনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্কুলব্যাগ ও টিফিনবক্সও উপহার দেন জেলা প্রশাসক। উপহার পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা।
পঞ্চগড়ের দক্ষিণ কাশিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষের সামনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন। ছবি- ঢাকা মেইল
বিদ্যালয়ের ছাত্রী আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, ‘আমরা কল্পনাও করিনি ডিসি ম্যাডাম আমাদের জন্য এত সুন্দর উপহার নিয়ে আসবেন। ব্যাগটি আমার খুব প্রয়োজন ছিল।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘কয়েক মাস মাঠে পাঠদান করার পর আপাতত একটি টিনশেড শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণও দেওয়া হয়েছে। এজন্য আমরা জেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞ।’ তবে বিদ্যালয়ের স্থায়ী ভবন নির্মাণের দাবিও জানান তিনি।
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন বলেন, ‘বিদ্যালয়টির দুরবস্থার কথা জানতে পেরে জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো পিছিয়ে পড়া এলাকার মানুষের উন্নয়ন এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্যেই আমর কাজ করছি।’