আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
চরম অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ইরান নিজস্ব সেনাবাহিনীর একটি বড় অংশের বেতন পরিশোধ করতে পারছে না বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাশাপাশি ইরান সরকার দেশের সাধারণ বিক্ষোভকারীদের ওপর নজিরবিহীনভাবে দমনপীড়ন ও হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে এই দাবি করেছেন ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘মার্কিন নৌঅবরোধ এবং তীব্র মুদ্রাস্ফীতির কারণে দেউলিয়া হয়ে যাওয়া ইরান তাদের সামরিক বাহিনীর একটি বড় অংশের সদস্যদেরকে বেতন দিতে পারছে না, আবার একই সাথে নজিরবিহীন মাত্রায় বিক্ষোভকারীদের হত্যা করছে। এমনকি যখন তারা প্রতিবাদ বা বিক্ষোভ করছে না তখনও এমন নজিরবিহীন মাত্রায়।’
ইরানের বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি বড় ধরনের ‘মানবিক সংকট’ হিসেবে অভিহিত করে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘এটি এক মহাবিপর্যয়কর মানবিক সংকট, এবং এটি অবশ্যই বন্ধ করতে হবে, এখনই।’
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ, ক্রমবর্ধমান নিষেধাজ্ঞার চাপ এবং স্থবির কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে ইরানের মুদ্রা রিয়ালের মান। তেহরানের খোলা বাজারে প্রতি মার্কিন ডলারের দাম প্রথমবারের মতো ২০ লাখ রিয়াল ছাড়িয়েছে। এতে আগে থেকেই চাপের মুখে থাকা দেশটির অর্থনীতিতে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ। একই সঙ্গে আমদানি ব্যয় ও নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সপ্তাহের শুরুতে এক ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মান ১৮ লাখ ৬৫ হাজার থাকলেও, ট্রাম্প ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও জোরদার করার ঘোষণায় এক সপ্তাহের কম সময়ে ইরানি মুদ্রার মান ৭ শতাংশের বেশি কমেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ওপর চলমান সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ বজায় রাখার অংশ হিসেবেই ট্রাম্প তেহরানের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার এই চিত্রটি সামনে এনেছেন।
সূত্র: আনাদোলু