মির্জা আব্দুর রব বুলবুল, জেলা প্রতিনিধি (সিরাজগঞ্জ) ঃ-
বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। এদেশের শতকরা ৮০% লোক কৃষক। কৃষিই এ দেশের সার্বিক উন্নয়নের মুল চালিকা শক্তি। আবহমান গ্রাম-বাংলার প্রতিটি ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকেরা দেশের বিভিন্ন স্থানে দিন দিন কৃষি শ্রমিক হিসেবে আদিবাসী নারী শ্রমিকরা অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে
উঠেছে। কৃষি প্রধান দেশে আদিবাসী নারী কৃষি কাজে বিরাট অবদান রাখছে। যা ছবিতে দৃশ্যমান। শুধু কৃষি শ্রমিক নয়, গৃহস্থালীর কাজে, রাস্তাতে মাটিকাটা ও গৃহ নির্মাণ কাজে যোগালদার সহ বিভিন্ন প্রকার কাজ কর্মে আদিবাসী নারীদের অংশগ্রহণমূলক কাজের পরিধি বর্তমান সময়ে চোখে পড়ার মত তারা তাদের শ্রম দিয়ে দেশ তথা জাতিকে এগিয়ে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় তারা তাদের শ্রম যথাযথভাবে দিয়েও ন্যায্য মজুরী হতে বঞ্চিত হচ্ছেন। তথ্য অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রতিনিয়ত সব ক্ষেত্রে নারীরা পুরুষের চেয়ে বেশী কাজ করে পক্ষান্তরে মজুরী বৈষম্যের শিকারের সম্মূখীন হয়,এতে তাদের কোন অভিযোগ নেই। তারা শুধু নিয়মিতভাবে কাজ চায় বেঁচে থাকার তাগিদে তাদের মাঝে রয়েছে শুধু বুকভরা হাহাকার আর হতাশা। সব মিলিয়ে জীবনযুদ্ধে আদিবাসী নারীদের নিবেদিত এক বলিষ্ট যোদ্ধার আমরণ-আপোসহীন সংগ্রামের চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। এক সময়ে আবহমান বাংলার আদিবাসী নারীদের নরম হাতে রঙ-বেঙের চুড়ি শোভা পেত, বর্তমান সময়ে সে হাতে চুড়ির বদলে তাদের নিত্যসঙ্গী হয়েছে কৃষিকাজের সরঞ্জাম কাঁচি, কোদাল,
হাতুড়ি কিংবা নানা রকমের কৃষি সরঞ্জাম। কমলমতি আদিবাসী নারীদের হাত দিয়ে তারা কৃষি ক্ষেতে অধিক ফসল ফলানোর জন্য তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কাকডাকা ভোরে ঘুম থেকে উঠে সংসারের যাবতীয় কাজ-কর্ম সেরে তারা পৌঁছে যায় তাদের আরেক কর্মস্থলে, তাদের ঠিকমত খাওয়ার ও বিশ্রামের সময় নেই। জীবন-জীবিকার তাগিদে জীবনে বেঁচে থাকার জন্য তারা তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। আদিবাসী নারী শ্রমিকের অধিকাংশই কৃষি কাজের বিভিন্ন অঙ্গনে শ্রমিক হিসেবে নিয়োজিত। এদের মধ্যে কেউ কেউ আবার ধানের চাতাল মিলের ধান শুকানোর শ্রমিক হিসেবে কাজ
করে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় সরেজমিনে তথ্য অনুসন্ধানে কথা হয় সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার গুরপিপুল গ্রামের শ্রীমতি কাঞ্চনবালা, নাটোর জেলার গুরুদাসপুর
উপজেলার পিঁপলা গ্রামে শ্রীমতি আরতি ধর, পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল গ্রামের শ্রীমতি নয়নবালা এর সাথে তারা গভীর আপেক্ষের সাথে তাদের
কথাগুলো বলেন, এত পরিশ্রমের পরেও আদিবাসী নারীরা কর্মক্ষেত্রে মজুরী বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। জানা যায়, চলতি ইরি-বোরো ধান রোপণ মৌসুমে একজন পুরুষ শ্রমিক
প্রতিদিন-৭০০/- টাকা ৮০০/-টাকা হিসেবে পারিশ্রমিক পান, সেখানে নারী শ্রমিকগণ প্রতিদিন-৩০০/- টাকা ৪০০/-টাকা পারিশ্রমিক পান।এ টাকা দিয়েই তারা
তাদের সংসার চালান। তারা শিক্ষা,চিকিৎসা,সামাজিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে আদিবাসী নারীরা বেঁচে আছেন সমাজে অবহেলিত হয়ে, দারিদ্রতার কশাঘাতে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে এদের সকল স্বপ্ন সাধ। একই কাজ করে আদিবাসী নারীরা পুরুষদের চেয়ে কম মজুরী পাচ্ছে। এ নামমাত্র মজুরী, তাও কাজ না পাওয়ার ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস তাদের মধ্যে নেই। সরেজমিনে তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায় যে, এ সকল আদিবাসী নারীদের মধ্যে বেশীর ভাগ নারী বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত, আবার কেউ কেউ আছেন অধিক সন্তানের জননী অভাবের তাড়নায় তারা এ পেশাকে জীবনে
বেঁচে থাকার অবলম্বন হিসেবে বেচে নিয়েছেন। সমাজের এ সকল অবহেলিত নারীদের নিয়ে অনেক দেশী-বিদেশী সংস্থা নারীদের অধিকার সমাজে প্রতিষ্ঠা করার কাজ করছে, এ নিয়ে সমাজের শিক্ষিত ভদ্রলোকদের এ ব্যাপারে কোন মাথাব্যথা নেই। নারীরা শ্রমিকরা জানান নিতান্তই ক্ষুদার জ্বালা মেটানোর জন্যই তারা এ পেশাকে বেচে নিয়েছেন । কাজ পাবে না এ ভয়ে তারা মালিকদের মজুরী বেশী দেওয়ার কথা বলতে সাহস পায় না। বাংলাদেশের
প্রকৃত বাস্তবতা হলো, অধিকাংশ আদিবাসী নারী শ্রমিকেরা বেশিভাগ বসবাস করে পাকা রাস্তা পার্শ্বে অথবা অন্যের বাড়ীতে ঘর তুলে বসবাস করেন। এলাকার জনপ্রতিনিধি চেয়ারম্যান ও মেম্বরগণ এ সকল নারীদের খোঁজ খবর নেয় না। তারা বলেন যে, তাদের দেখার মত একমাত্র সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আর কেউ নেই এ দুনিয়াতে সমাজের সর্বস্তরের বিত্তশীল মানুষেরা যদি আদিবাসী নারীদের পাশে এসে দাঁড়ায় তাহলে তাদের প্রতিটি পরিবারে অর্থনৈতিক মুক্তি ও স্বচ্ছলতা আসবে বলে এলাকাবাসী এ প্রতিবেদককে জানান।