1. nskibria2012@gmail.com : ns kibria : ns kibria
শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ন

ইরানের উপকূলীয় রাডার স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬
  • ২৯ বার পঠিত
৩৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের ছোড়া ড্রোন ভূপাতিত করার পর হরমুজ প্রণালির উপকূলীয় রাডার স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার (৬ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ তথ্য জানায়। তিন মাস ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে এই ঘটনা উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।

সেন্টকম জানায়, ইরান হরমুজ প্রণালির দিকে চারটি ড্রোন পাঠায়, যেগুলো আঞ্চলিক সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজ লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল বলে যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা। ড্রোনগুলো ভূপাতিত করার পর ইরানের গোরুক ও কেশম দ্বীপে অবস্থিত নজরদারি ও রাডার স্থাপনায় হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বর্তমানে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে পরোক্ষ আলোচনায় রয়েছে। সম্ভাব্য একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির মাধ্যমে তিন মাসের সংঘাত থামানোর চেষ্টা চলছে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন ইস্যু পরবর্তী আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হতে পারে।

তেহরান যেকোনো সমঝোতার অংশ হিসেবে তাদের তেল রপ্তানি থেকে অর্জিত কয়েকশ কোটি ডলারে প্রবেশাধিকার, অপরিশোধিত তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল, বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালিতে প্রভাব বজায় রাখার বিষয়গুলো সামনে আনছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান কার্যত প্রণালিটি অবরুদ্ধ রেখেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের অধিকাংশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে, তবে তাদের হাতে এখনও প্রায় ২১ থেকে ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। তিনি বলেন, ‘তাদের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আছে। শতকরা হিসেবে হয়তো ২১ থেকে ২২ শতাংশ। এটা অনেক, কিন্তু প্রথম হামলার সময় যা ছিল, তা নয়।’

ইরানের নেতৃত্ব কেন দ্রুত সমঝোতায় আসছে না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তারা শক্ত ও গর্বিত জাতি; তবে পরিস্থিতির কারণে কিছু সিদ্ধান্ত নিতে তাদের সময় লাগছে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূচনা হয়।

 

এদিকে লেবাননের দক্ষিণে ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর দুটি হামলার দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, সম্প্রতি দখল করা বউফোর্ট দুর্গের কাছেও একটি হামলা চালানো হয়েছে। লেবাননের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলা হয়েছে।

ইরান হিজবুল্লাহর প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে বলেছে, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবানন থেকে সরে না গেলে আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো সমঝোতার ক্ষেত্রে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল পুনরায় শুরু করাকে শর্ত হিসেবে দেখছে তেহরান।

মার্চের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান হামলার দুই দিন পর হিজবুল্লাহ-ইসরায়েল সংঘর্ষ নতুন করে শুরু হয়। হিজবুল্লাহ জানায়, তারা তেহরানের সমর্থনে এ পদক্ষেপ নিয়েছে।

হিজবুল্লাহ নেতা নাঈম কাসেম যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবানন সরকারের মধ্যে হওয়া একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। ওই প্রস্তাবে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি ছিল না এবং আলোচনায় হিজবুল্লাহ অংশ নেয়নি।

ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা সরাবে না এবং সামরিক অভিযানও বন্ধ করবে না। লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার ও হিজবুল্লাহ মিত্র নবিহ বেরি বলেছেন, ইসরায়েল একই সঙ্গে দখল করা এলাকা ছাড়লে দক্ষিণ লেবানন থেকে হিজবুল্লাহর সরে যাওয়ার বিষয়ে তিনি সম্মত হবেন।

এই সপ্তাহে লেবানন ছাড়াও গাজা, উত্তর ইসরায়েল ও কুয়েতে গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..