1. nskibria2012@gmail.com : যুগ যুগান্তর : যুগ যুগান্তর kibria
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৫ অপরাহ্ন

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সিএনজি চলাচল, সংঘর্ষে নিহত ১

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৫ বার পঠিত

নুরুল আলম সিকদার,

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ থাকার পরও বিভিন্ন সড়কে প্রকাশ্যেই চলছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা। নিয়ন্ত্রণহীনভাবে এসব যান চলাচল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের অভিযোগ থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি তাঁদের। এর মধ্যেই দুটি সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে নয়জন আহত এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক রোহিঙ্গার মৃত্যুর ঘটনায় ক্যাম্পের অভ্যন্তরে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উখিয়ার ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ময়নারঘোনা পুলিশ ক্যাম্পের আওতাধীন ক্যাম্প-১৮-এর এফ/৩০ ব্লকের ত্রিমুখী সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মোহাম্মদ হাশিম (৩৪) ক্যাম্প-১৭-এর এইচ/৭৫ ব্লকের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম নুর আলম। এফসিএন নম্বর ১০৩৬৪১।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সকালে ক্যাম্প-১৮-এর এফ/৩০ ব্লকের ত্রিমুখী সড়কে বিপরীত দিক থেকে আসা দুটি সিএনজির মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুই চালক ও যাত্রীসহ নয়জন আহত হন।
খবর পেয়ে ময়নারঘোনা পুলিশ ক্যাম্পের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে ক্যাম্পসংলগ্ন এমএসএফ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোহাম্মদ হাশিমের অবস্থার অবনতি হলে তাঁর মৃত্যু হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরে যানবাহন চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। নির্দিষ্ট যানবাহন ছাড়া অনুমোদনহীন সিএনজি ও অন্যান্য যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি থাকার কথা। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্যাম্পের একাধিক সড়কে দিনের বেলায় এমনকি কোনো কোনো এলাকায় রাতেও সিএনজি চলাচল করছে।
তাঁদের দাবি, ক্যাম্পের সরু ও জনবহুল সড়কে এভাবে যানবাহন চলাচলের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, সংশ্লিষ্টদের ‘ম্যানেজ’ করে কিছু সিএনজি ক্যাম্পের ভেতরে চলাচল করছে। এমনকি কিছু এপিবিএন সদস্যকে নিয়মিত মাসোহারা দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
শনিবারের দুর্ঘটনার পর ক্যাম্পের অভ্যন্তরে সিএনজি চলাচলের অনুমোদন, নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ময়নারঘোনা পুলিশ ক্যাম্পের এপিবিএন ইন্সপেক্টর মো. নাহিদ বলেন, ক্যাম্প-১৮-এর এফ/৩০ ব্লকে দুটি সিএনজির সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন মারা গেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ক্যাম্পের ভেতরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সিএনজি চলাচল এবং এর বিনিময়ে এপিবিএনের কোনো সদস্যকে মাসোহারা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মাসোহারা নিয়ে অবৈধভাবে সিএনজি চলাচলের অভিযোগ সঠিক নয়। এ ধরনের কোনো বিষয় আমাদের জানা নেই।’
একজন রোহিঙ্গার মৃত্যুর পর ক্যাম্পের অভ্যন্তরে সিএনজি চলাচল নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান বিধিনিষেধ কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগের সত্যতা এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..