1. nskibria2012@gmail.com : ns kibria : ns kibria
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন

উখিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ আজ শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়;

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
  • ১৬ বার পঠিত
১৯

শাহ জামান সিরাজী
এটি উখিয়া-টেকনাফের হাজারো শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্বপ্নবাজ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। বহু বছরের ত্যাগ, পরিশ্রম, দূরদর্শিতা এবং শিক্ষার প্রতি গভীর ভালোবাসার ফসল এই প্রতিষ্ঠান। এখান থেকে গড়ে উঠছে ভবিষ্যতের শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, প্রশাসক, সাংবাদিক, উদ্যোক্তা ও সুনাগরিক—যারা একদিন দেশ ও জাতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই কলেজের উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং একটি সুশৃঙ্খল, মানবিক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জনাব শাহ আলম স্যারের নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ ও কর্মস্পৃহা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি কলেজের প্রকৃত শক্তি তার পাঠদান, শৃঙ্খলা এবং শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদার মধ্যে নিহিত। তাই তিনি নিয়মিত শ্রেণিকক্ষ পরিদর্শন করেন, পাঠদান সঠিকভাবে হচ্ছে কি না তা তদারকি করেন, শিক্ষক-কর্মচারীদের অধিকার রক্ষায় আন্তরিকভাবে কাজ করেন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ, সুন্দর ও জ্ঞানচর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। তাঁর নেতৃত্বে কলেজে জবাবদিহিতা, শৃঙ্খলা ও একাডেমিক কার্যক্রমে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে।

অন্যদিকে, উখিয়া-টেকনাফের সংসদ সদস্য আলহাজ শাহজাহান চৌধুরীর শিক্ষা বিস্তারে অবদান এই অঞ্চলের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, একটি শিক্ষিত সমাজ ছাড়া কোনো জাতির টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। সেই উপলব্ধি থেকেই তিনি উখিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ প্রতিষ্ঠা ও এর উন্নয়নে দীর্ঘদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল—উখিয়া-টেকনাফের কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী যেন অর্থের অভাবে বা দূরের কারণে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়। তাঁর সেই স্বপ্ন আজ হাজারো শিক্ষার্থীর জীবনে আলোর দিশা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহ আলম স্যার ও আলহাজ শাহজাহান চৌধুরীর শিক্ষা উন্নয়নকেন্দ্রিক আন্তরিক সমন্বয় কলেজের অগ্রগতিকে আরও গতিশীল করেছে। কলেজের সার্বিক পরিস্থিতি, শিক্ষার মান, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন এবং উন্নয়নমূলক বিষয়গুলো নিয়ে নিয়মিত যোগাযোগ ও সহযোগিতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা শিক্ষার পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করছে। এই পারস্পরিক সহযোগিতা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন নয়, বরং একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ গঠনের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।

একসময় সীমিত সুযোগ-সুবিধার ছোট্ট একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করা উখিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ আজ অবকাঠামো, শিক্ষা কার্যক্রম, শৃঙ্খলা ও একাডেমিক পরিবেশে অনেক দূর এগিয়েছে। এই অগ্রযাত্রার পেছনে রয়েছে প্রতিষ্ঠাতাদের স্বপ্ন, শিক্ষকদের আন্তরিকতা, শিক্ষার্থীদের পরিশ্রম এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের অকুণ্ঠ সহযোগিতা।

একটি কলেজ শুধু ইট-পাথরের ভবন নয়; এটি মানুষের স্বপ্ন গড়ার কারখানা। আর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে যাঁরা নীরবে কাজ করে যান, তাঁদের অবদান প্রজন্মের পর প্রজন্ম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। শিক্ষা, মানবতা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের আলোয় আলোকিত হয়ে উখিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ভবিষ্যতেও এই অঞ্চলের গর্ব হয়ে থাকবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। এই প্রতিষ্ঠান আরও এগিয়ে যাক, জাতীয় পর্যায়ে আরও মর্যাদা অর্জন করুক, এবং এখান থেকে বেরিয়ে আসা প্রতিটি শিক্ষার্থী জ্ঞান, সততা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে উজ্জ্বল মানুষ হিসেবে দেশ ও সমাজের সেবায় আত্মনিয়োগ করুক—এই কামনাই রইল।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..