1. nskibria2012@gmail.com : ns kibria : ns kibria
সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১১:০৬ পূর্বাহ্ন

কুমিল্লা দাউদকান্দিতে প্রতিপক্ষের হামলায় সিএনজি চালকের মৃত্যু, বিচারের দাবিতে স্বজনদের আহাজারি

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬
  • ৩৭ বার পঠিত
৪৩

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের কুশিয়ারা গ্রামের এশিয়ারপাড়ে পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুরুতর আহত মো. মকবুল হোসেন (৫৫) ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। রোববার (২৮ জুন) তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে পুরো এলাকা।

নিহত মকবুল হোসেন কুশিয়ারা গ্রামের মৃত আক্কু মিয়ার ছেলে।

পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা ও থানায় দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুন সকাল আনুমানিক আটটার দিকে মকবুল হোসেনের বসতঘরের পাশ দিয়ে একটি প্রকল্পের মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বিরোধটি সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে মকবুল হোসেনসহ তাঁর পরিবারের পাঁচ সদস্যকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে।

আহতরা হলেন মকবুল হোসেন, তাঁর ছেলে ইমরান হোসেন, মেয়ে মিনু আক্তার, পুত্রবধূ তানজিনা আক্তার এবং স্বজন লামিয়া আক্তার। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে কয়েক দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে শেষ পর্যন্ত মারা যান মকবুল হোসেন।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে জাহাঙ্গীর হোসেনসহ আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে পরিবারের সদস্যদের গুরুতর জখম করা হয়। একই সঙ্গে স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া, শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগও আনা হয়েছে।

নিহতের স্ত্রী পারুল, মেয়ে লামিয়া ও বোন ঝর্না বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “সামান্য একটি কথা-কাটাকাটির জেরে আমাদের পরিবার আজ সব হারিয়েছে। মকবুল কোনো অন্যায় করেননি। তাঁকে আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

স্বজনদের অভিযোগ, হামলায় আহত পরিবারের অন্য সদস্যদের অবস্থাও ভালো নয়। অর্থাভাবে তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারছেন না। কেউ হাতে, কেউ মাথায়, আবার কেউ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম নিয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তারা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

নিহতের ভগ্নিপতি মো. কবির হোসেন বলেন, “পরিবারটি অত্যন্ত অসচ্ছল। সরকারি জায়গায় ছোট্ট একটি ঘর তুলে তাদের বসবাস। নিজেদের কোনো জমিজমা নেই। এমন একটি অসহায় পরিবারের ওপর নৃশংস হামলা চালিয়ে একজনের প্রাণ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমরা এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”

এদিকে মামলার এজাহারভুক্ত অভিযুক্তদের কাউকে এলাকায় দেখা যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, গ্রেপ্তার এড়াতে তারা আত্মগোপনে চলে গেছেন।

দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারী বলেন, “এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মামলা রেকর্ড করা হবে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..