লাকী আক্তার
সিলেটের সীমান্তবর্তী পর্যটন কেন্দ্র গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং, জুমপাড় ও বল্লাঘাট এলাকায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দীর্ঘদিন ধরে অবাধে চলছে অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলন। পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষিত এসব স্থানে দিনের আলো কিংবা রাতের আঁধার—কোনো কিছুকেই তোয়াক্কা করছে না প্রভাবশালী এক সিন্ডিকেট। এতে পরিবেশ ও স্থানীয় জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
অর্থ আদায় ও শক্তিশালী সিন্ডিকেট
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাফলং এলাকায় কালা মানিক, জুমপাড় এলাকায় কালা সামসু এবং বল্লাঘাট এলাকায় দিলু মিয়ার নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা সাধারণ শ্রমিকদের নাম ব্যবহার করে বালু ও পাথর পরিবহনকারী যানবাহন থেকে নিয়মিত চাঁদা বা অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। প্রতি গাড়ি থেকে আনুমানিক ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।
ড্রেজার ব্যবহারে ধ্বংসের মুখে জিরো পয়েন্ট
এলাকাবাসীর অভিযোগ, জাফলং জিরো পয়েন্টের মতো স্পর্শকাতর এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু-পাথর সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে। বিশেষ করে জুমপাড় এলাকায় নিষিদ্ধ ড্রেজার মেশিন ও অন্যান্য ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে বালু তোলা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রতিদিন কোটি টাকার প্রাকৃতিক সম্পদ লুটপাট করা হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের দাবি, এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহলের সরাসরি সমর্থন রয়েছে। পাশাপাশি এলাকার বিট পুলিশ অফিসার রাজিব রায়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, পুরো বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। (তবে এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ যাচাই করা এখনও সম্ভব হয়নি।)
সাংবাদিকদের হুমকি ও মামলার ভয়
অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশ করার পর কিছু সাংবাদিককে হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মামলায় ফাঁসানো এবং হামলার ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও স্থানীয়রা জানান। বারবার সংবাদ প্রকাশিত হলেও দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে সচেতন মহলে।
নিরপেক্ষ তদন্ত ও ব্যবস্থার দাবি
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং জাফলংয়ের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় পরিবেশকর্মী, সচেতন নাগরিক ও সাধারণ অধিবাসীরা। তারা অনতিবিলম্বে এসব অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দায়ী চক্রকে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান