1. nskibria2012@gmail.com : ns kibria : ns kibria
রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ন

ফরিদপুরে মাদ্রাসাছাত্রীকে গণধর্ষণ, দুই যুবকের যাবজ্জীবন

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ১০ বার পঠিত
১২

ফরিদপুর (মাল্টিমিডিয়া) প্রতিনিধি

ফরিদপুর সদর উপজেলায় এক মাদ্রাসাছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগে দুই যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও মামলার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর এক আসামিকে খালাস প্রদান করা হয়।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. আবুল বাশার মিঞা এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে কড়া পুলিশ প্রহরায় তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের চর দুর্গাপুর গ্রামের সুমন মোল্যা (১৯) ও একই গ্রামের ওসমান বেপারী (২৯)।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ছাত্রী রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার একটি দাখিল মাদ্রাসায় নবম শ্রেণিতে পড়ালেখা করত। এক যুবকের সঙ্গে মুঠোফোনে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর বিকেলে ওই যুবকের সঙ্গে দেখা করতে সে গোয়ালন্দ ঘাটে যায়। তাকে না পেয়ে মেয়েটি তার চাচাতো ভাইকে ফোন করে।

চাচাতো ভাই তাকে নিয়ে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা দিলে অভিযুক্ত আসামিরা কৌশলে তাদের ফরিদপুর শহরের ভাটি লক্ষ্মীপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান এবং সেখানে রাতে অবস্থান করতে বলেন। পরদিন ১৮ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আসামিরা মেয়েটিকে জিম্মি করে মোবাইল ফোনে ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এরপর সুমন মোল্যা ও ওসমান বেপারী পর্যায়ক্রমে মেয়েটিকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

ঘটনার পর কাউকে কিছু না বলতে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ভুক্তভোগীকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী বাড়িতে ফিরে স্বজনদের বিষয়টি জানালে, তার মা বাদী হয়ে ২১ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ মামলাটি দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট জমা দেয়। বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ ও দীর্ঘ শুনানি শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় প্রদান করেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে এই রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আদালতের এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ফলে সমাজে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে এবং অপরাধীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..