1. nskibria2012@gmail.com : ns kibria : ns kibria
শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ন

ফরিদপুর গৃহহীনদের পুনর্বাসনের ৬০ ঘরে সন্ধ্যা নামলেই বসে মাদকের আসর

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬
  • ২৭ বার পঠিত
৩৩

ফরিদপুর সংবাদদাতা

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আকোটের চর গুচ্ছগ্রামের পরিত্যক্ত ৬০টি ঘর যেন এখন মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে এসব পরিত্যক্ত ঘরে বসে ইয়াবা ও গাঁজার আসর। রাত গভীর হওয়া পর্যন্ত চলে মাদক সেবন ও লেনদেন। মাদক কারবারিরা প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না।

সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আকোটের চর গুচ্ছগ্রামে মোট ১৬০টি ঘর রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০০টি ঘরে পরিবার বসবাস করলেও দীর্ঘদিন ধরে ৬০টি ঘর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। যথাযথ তদারকির অভাবে এসব ঘরই এখন মাদকসেবী ও কারবারিদের নিয়মিত আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সন্ধ্যার পর আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে মাদকসেবীরা এসে পরিত্যক্ত ঘরগুলোতে জড়ো হয়। শুধু স্থলপথ নয়, পদ্মা নদীর বিভিন্ন চর এলাকা থেকেও নৌকাযোগে অনেকের যাতায়াত রয়েছে। এলাকাটি নদী-সংলগ্ন হওয়ায় নদীপথ ব্যবহার করে সহজেই মাদক আনা-নেওয়া করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, নদীপথে ঢাকা জেলার দোহারসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও মাদকদ্রব্য এই অঞ্চলে পৌঁছে যাচ্ছে।

তারা জানান, এসব আসরে সবচেয়ে বেশি ইয়াবা ও গাঁজা সেবন করা হয়। এতে স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বেকার যুবকদের একটি অংশ মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে পুরো এলাকায়। মাদককে কেন্দ্র করে চুরি, ডাকাতি, মারামারি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও বাড়ছে বলে দাবি তাদের।

গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা ইচাহাক শেখ বলেন, সন্ধ্যার পর বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এসে পরিত্যক্ত ঘরগুলোতে ঢুকে মাদক সেবন করে। কিছুক্ষণ পর আবার চলে যায়। ভয় ও নিরাপত্তার কারণে গ্রামের মানুষ সন্ধ্যার পর ওই দিকটায় যেতে চায় না।

স্থানীয় বাসিন্দা কুলছুম বেগম বলেন, সন্ধ্যা হলেই এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করে। ছেলে-মেয়েদের বাইরে যেতে দিই না। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে এই মাদকের আসর বন্ধ করুক।

আকোটের চর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসলাম বেপারী বলেন,

গুচ্ছগ্রামের পরিত্যক্ত ঘরগুলো মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। এ বিষয়ে আমি মাসিক আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে কয়েকবার কথাও বলেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলে এ সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

সদরপুর থানার ওসি মো. আব্দুল আল মামুন শাহ্ বলেন, এ ধরনের অভিযোগ পেলে পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি এলাকায় পুলিশি টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..