1. nskibria2012@gmail.com : ns kibria : ns kibria
মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ন

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক: সীমান্ত যখন আস্থার সংকটেসার্বভৌমত্বের সীমানায় পুশ-ইন: বন্ধুত্ব বনাম বলপ্রয়োগের রাজনীতি বন্ধুত্বের সীমান্তে অবিশ্বাসের কাঁটাতার

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬
  • ১১ বার পঠিত
১৫

মীর আব্দুর আলীমঃ
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ককে প্রায়শই ‘রক্তের অক্ষরে লেখা’ বা ‘স্বর্ণযুগ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় অধ্যায় থেকে শুরু করে আজকের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব- দুই দেশের পথচলা দীর্ঘদিনের। কিন্তু এই গভীর সুসম্পকের্  ফাটল ধরেছে। মাঝে একটি কাঁটা প্রতিনিয়ত বিঁধে থাকে, আর তা হলো সীমান্ত ইস্যু। সম্প্রতি সীমান্তে জোরপূর্বক ‘পুশ-ইন’ বা অবৈধ উপায়ে লোক ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা দুই দেশের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক টেবিলে নতুন করে অস্বস্তি এবং উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। একদিকে যখন দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, ট্রানজিট এবং আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি নিয়ে বড় বড় চুক্তি করছেন, অন্যদিকে তখন সীমান্তে অবিশ্বাসের এই অনাকাঙ্ক্ষিত কাঁটাতার সাধারণ মানুষের মনে গভীর ক্ষোভের সঞ্চার করছে। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্য তার সীমান্ত রক্ষা করা যেমন প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব, ঠিক তেমনই প্রতিবেশীর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখাও ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার অংশ। এই জটিল সমীকরণের আলোকেই বর্তমান পরিস্থিতি, এর বহুমাত্রিক প্রভাব এবং এর পেছনের রাজনীতি নিয়ে নিচে সুনির্দিষ্ট উপশিরোনাম সহ বিস্তারিত এবং তথ্যবহুল আলোচনা করা হলো:
১. জোরপূর্বক ‘পুশ-ইন’ ও সার্বভৌমত্বের সংকট: কোনো প্রকার আইনি প্রক্রিয়া, সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ বা দ্বিপাক্ষিক সম্মতি ছাড়াই সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক পুশ-ইন করার চেষ্টা স্বাধীন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর একটি সরাসরি আঘাত। আন্তর্জাতিক ডেস্ক বা সীমান্ত প্রোটোকলের তোয়াক্কা না করে যখন রাতের অন্ধকারে সীমান্ত এলাকায় মানুষ ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তখন তা কেবল অনধিকার প্রবেশই নয়, বরং একটি রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে অসম্মান করার শামিল। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র, এটি কোনো দেশের রাজনৈতিক বা সামাজিক সংকটের ‘ডাম্পিং গ্রাউন্ড’ হতে পারে না। সুনির্দিষ্ট নাগরিকত্ব প্রমাণ ছাড়া এবং ঢাকাকে না জানিয়ে এই ধরনের পুশ-ইনের প্রবণতা দুই দেশের দীর্ঘদিনের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং পঞ্চশীলা নীতির চরম অবমাননা।
২. মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন ও মানবিক বিপর্যয়: সীমান্তের শূন্য রেখায় (তবৎড় খরহব) বা কাঁটাতারের বেড়াজালের সামনে অবরুদ্ধ করে রাখা মানুষগুলোর দৃশ্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। পুশ-ইনের শিকার এই মানুষগুলোর মধ্যে একটি বড় অংশই থাকে নারী, শিশু এবং বৃদ্ধ। প্রচণ্ড শীত, ঝড় বা তীব্র গরমে খোলা আকাশের নিচে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাতে বাধ্য করা চরম অমানবিক এবং নিষ্ঠুরতা। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একে মানবাধিকারের একটি গুরুতর ও জঘন্য লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একটি গণতান্ত্রিক ও সভ্য রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছ থেকে এই ধরনের অমানবিক আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। এই মানবিক বিপর্যয় শুধু সীমান্ত এলাকার শান্তিই নষ্ট করছে না, বরং বৈশ্বিক মানবাধিকারের সূচকেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
৩. আন্তর্জাতিক আইনের অবমাননা ও রীতিনীতি লঙ্ঘন: আন্তর্জাতিক আইন এবং কনভেনশন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে তার নাগরিকত্ব সুনির্দিষ্টভাবে যাচাই না করে এবং কোনো প্রকার আইনি সুযোগ না দিয়ে জোরপূর্বক অন্য দেশে ঠেলে দেওয়া (যা চঁংয-নধপশ বা চঁংয-রহ নামে পরিচিত) সম্পূর্ণ বেআইনি ও নিষিদ্ধ। এটি জাতিসংঘের ‘টহরাবৎংধষ উবপষধৎধঃরড়হ ড়ভ ঐঁসধহ জরমযঃং’ (টউঐজ) এবং শরণার্থী সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক রীতিনীতির পরিপন্থী। ভারত আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে আইনের শাসনের কথা বললেও, নিজ সীমান্তে এর প্রতিফলন দেখাতে প্রায়শই ব্যর্থ হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইনকে তোয়াক্কা না করে একক সিদ্ধান্তে সীমান্ত পারাপারের এই অপচেষ্টা বিশ্বমঞ্চে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির কার্যকারিতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে।
৪. কূটনৈতিক প্রতিবাদ ও বাংলাদেশের জোরালো অবস্থানের অভাব: বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে এই পুশ-ইনের বিরুদ্ধে তীব্র কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মাঠপর্যায়ে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুধু স্থানীয় পর্যায়ের ‘ফ্ল্যাগ মিটিং’ বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রথাগত আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদের বৃত্তে আটকে থাকলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। ঢাকাকে এই বিষয়ে আরও জোরালো, সুনির্দিষ্ট এবং দ্বিপাক্ষিক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এটিকে অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ভারতের সাথে আলোচনার টেবিলে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানকে এমনভাবে তুলে ধরতে হবে যেন দিল্লি বুঝতে পারে যে, সীমান্ত সুরক্ষার প্রশ্নে বাংলাদেশ আপসহীন।
৫. বিজিবি ও বিএসএফ-এর দ্বিমুখী নীতি ও মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র: সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার জন্য দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয়ের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখা যায়। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দেশের সীমানা পাহারা দিতে এবং পুশ-ইন রুখে দিতে সাহসিকতার সাথে কাজ করছে। কিন্তু ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)-এর মাঠপর্যায়ের জওয়ানদের একতরফা, আক্রমণাত্মক এবং বৈরী নীতি অনেক সময় পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। একদিকে বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ে সীমান্তে মারণাস্ত্র ব্যবহার না করার বা পুশ-ইন না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে তার উল্টো আচরণ দেখা যায়। এই দ্বিমুখী নীতি দুই বাহিনীর পারস্পরিক আস্থার জায়গাকে সংকুচিত করছে।
৬. ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও নাগরিকত্ব আইনের প্রভাব: ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, বিশেষ করে আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (ঘজঈ) এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (ঈঅঅ) পাসের পর থেকেই বাংলাদেশে পুশ-ইনের আশঙ্কা তীব্র রূপ নেয়। ভারতের কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ফায়দা, ভোটের মেরুকরণ এবং উগ্র জাতীয়তাবাদী এজেন্ডা বাস্তবায়নের খেসারত দিতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। রাজনৈতিক বক্তৃতায় বাংলাদেশকে জড়িয়ে নানাবিধ মন্তব্য এবং এরপর সীমান্তে তার প্রভাব সুস্পট হয়ে ওঠে। প্রতিবেশীর অভ্যন্তরীণ রাজনীতির নেতিবাচক প্রভাব অন্য একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করবে—তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
৭. আধুনিক ও স্মার্ট সীমান্ত ব্যবস্থাপনার অনুপস্থিতি: বর্তমান একবিংশ শতাব্দীতে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা হওয়া উচিত আধুনিক, প্রযুক্তিগত ও স্মার্ট। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে এখনও বহুলাংশে এনালগ পদ্ধতিতে নজরদারি চালানো হয়। সীমান্তে অত্যাধুনিক সিসিটিভি, থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরা, মোশন সেন্সর এবং ড্রোন প্রযুক্তির ঘাটতি থাকার কারণে রাতের অন্ধকারে অপরাধী চক্র বা সীমান্তরক্ষী বাহিনী পুশ-ইনের সুযোগ পায়। একটি সুনির্দিষ্ট ও আধুনিক সীমান্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলা না হলে এই ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত অপরাধ ঠেকানো কঠিন। দুই দেশেরই উচিত সীমান্তকে কাঁটাতারের বদলে প্রযুক্তির আওতায় এনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
৮. অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব ও মনস্তাত্ত্বিক দূরত্বের মেলবন্ধন: বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে বাণিজ্য, বিদ্যুৎ, ট্রানজিট, রেল যোগাযোগ এবং জ্বালানি খাতে বিলিয়ন ডলারের অংশীদারিত্ব চলছে। বাংলাদেশ ভারতের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। কিন্তু সীমান্তে যখন পুশ-ইন বা সীমান্ত হত্যার মতো সংবেদনশীল ঘটনা ঘটে, তখন বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও ভারত-বিরোধী মনস্তাত্ত্বিক মনোভাবের জন্ম নেয়। সরকারের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক যত গভীরই হোক না কেন, জনগণের মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব দূর না হলে সেই সম্পর্ক কখনো টেকসই হয় না। সীমান্তে অবিশ্বাসের এই দেয়াল দীর্ঘমেয়াদে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের সুফলকেও ম্লান করে দিতে পারে।
৯. আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অপরাধী চক্রের উত্থানের ঝুঁকি: সীমান্তে অস্থিরতা, উত্তেজনা এবং দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি হলে তার সুফল নেয় অপরাধী চক্র। মাদক চোরাচালানকারী, মানব পাচারকারী এবং অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ীরা এই সুযোগে সক্রিয় হয়ে ওঠে। একটি অরক্ষিত, অস্থিতিশীল এবং অবিশ্বাসের সীমান্ত শুধু বাংলাদেশ বা ভারতের জন্যই নয়, বরং সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যই বড় ধরনের হুমকি। উগ্রবাদ বা আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে দুই দেশের যে যৌথ অঙ্গীকার রয়েছে, পুশ-ইনের মতো ঘটনার কারণে সৃষ্ট দূরত্বের ফলে সেই নিরাপত্তা বলয় দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
১০. ভবিষ্যৎ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি ও সমতার নীতি: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কেমন হবে, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে পারস্পরিক আস্থা, ন্যায্যতা এবং সমতার নীতির ওপর। একতরফা কোনো সিদ্ধান্ত বা পুশ-ইনের মতো বলপ্রয়োগের চেষ্টা সম্পর্ককে ‘পরাশক্তি বনাম উপগ্রহ’ রাষ্ট্রে পরিণত করার একটি প্রচ্ছন্ন প্রয়াস হিসেবে গণ্য হয়। একটি টেকসই, সুদৃঢ় এবং দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্বের জন্য ভারতকে অবশ্যই তার ‘বড় ভাই সুলভ’ বা আধিপত্যবাদী মানসিকতা পরিহার করতে হবে। সম্মান যখন দ্বিমুখী হবে, তখনই সম্পর্ক স্থায়িত্ব পাবে। সীমান্ত যদি প্রতিনিয়ত আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তবে বন্ধুত্বের সংজ্ঞাটিই ফিকে হয়ে যায়।
১১. সরকারের কৌশলগত করণীয়: সীমান্তে পুশ-ইনের এই অনাকাঙ্ক্ষিত অপচেষ্টা রুখতে এবং দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে বাংলাদেশ সরকারকে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী, কঠোর এবং বহুমাত্রিক কৌশল গ্রহণ করতে হবে। এই বিষয়ে সরকারকে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হচ্ছে: (ক)  টেকসই কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি: দ্বিপাক্ষিক আলোচনার টেবিলে পুশ-ইন এবং সীমান্ত হত্যা ইস্যুটিকে এজেন্ডার শীর্ষে রাখতে হবে। ভারতকে স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিতে হবে যে, সুনির্দিষ্ট আইনি প্রমাণ ও আদালতের রায় ছাড়া একক কোনো ব্যক্তিকে বাংলাদেশ গ্রহণ করবে না। (খ) সীমান্তের প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর জনবল বৃদ্ধি করার পাশাপাশি তাদের আরও অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত করতে হবে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে নাইট ভিশন ড্রোন নজরদারি, থার্মাল ক্যামেরা এবং স্মার্ট সেন্সর বসাতে হবে যাতে রাতের অন্ধকারেও যেকোনো পুশ-ইনের চেষ্টা তাৎক্ষণিকভাবে নস্যাৎ করা যায়। (গ) বিষয়টির আন্তর্জাতিকীকরণ (কৌশলগতভাবে): যদি দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে ভারত এই ধরনের একতরফা কর্মকাণ্ড বন্ধ না করে, তবে বাংলাদেশকে বাধ্য হয়েই এই মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গের বিষয়টি জাতিসংঘ, ওআইসি বা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফোরামগুলোতে সুকৌশলে তুলে ধরতে হবে। (ঘ) জাতীয় ঐকমত্য গঠন: সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কাদাছোড়াছুড়ি বন্ধ করে একটি অভিন্ন জাতীয় নীতি (ঘধঃরড়হধষ ঈড়হংবহংঁং) তৈরি করতে হবে। দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সরকার ও বিরোধী দল যেন এক সুরে কথা বলে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
উপসংহার: বাংলাদেশ ও ভারতের ভূ- মবড়ঢ়ড়ষরঃরপধষ বাস্তবতায় একে অপরকে এড়িয়ে চলা বা বিচ্ছিন্ন থাকা কোনো দেশের জন্যই সম্ভব নয়। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই এক দেশের শান্তি ও উন্নয়ন অন্য দেশের স্থিতিশীলতার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তবে এই ঐতিহাসিক সম্পর্ক কেবল তখনই সফল ও ফলপ্রসূ হবে, যখন তা পারস্পরিক সার্বভৌমত্ব ও সমান মর্যাদার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে। সীমান্তে ‘পুশ-ইন’-এর মতো একতরফা ও অমানবিক কর্মকাণ্ড যদি অব্যাহত থাকে, তবে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের চুক্তি, যৌথ ইশতেহার বা ‘সম্পর্কের সোনালী অধ্যায়’-এর গল্প সাধারণ মানুষের কাছে স্রেফ প্রহসন মনে হবে। অবিশ্বাসের এই কাঁটাতার উপড়ে ফেলে একটি মানবিক, আইনি ও মর্যাদাপূর্ণ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলাই হোক আগামী দিনের দ্বিপাক্ষিক কূটনীতির মূল লক্ষ্য।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..