1. nskibria2012@gmail.com : যুগ যুগান্তর : যুগ যুগান্তর kibria
সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ন

যোগ্য ভাবেন মরিনিয়ো রিয়ালের যে ফুটবলারকে ব্যালন ডি’অরের

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৬ বার পঠিত

ক্রীড়া ডেস্ক :

হোসে মরিনিয়োর অধীনে একদম ভিন্ন রূপের এক জুড বেলিংহামকে দেখছে ফুটবল বিশ্ব। সান্তিয়াগো বার্নাবেউতে রোববারের ম্যাচে মালাগাকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার দিনে আরও একটি চোখধাঁধানো পারফর্ম্যান্স উপহার দিয়েছেন ইংলিশ এই মিডফিল্ডার। ম্যাচে একটি দারুণ উদ্বোধনী গোল করে রিয়াল মাদ্রিদের লিগে শতভাগ জয়ের ধারা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, মাদ্রিদে নিজের প্রথম মৌসুমে যে স্বাধীন ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের জন্য বেলিংহাম বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছিলেন, সেই পুরোনো ছন্দ ও স্বাধীনতা তিনি যেন আবার ফিরে পেয়েছেন।

ম্যাচের ১৯তম মিনিটে মধ্যমাঠ থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দারুণ এক একক দৌড়ে মালাগার রক্ষণভাগ চুরমার করে দেন ২৩ বছর বয়সী এই তারকা। একজন ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে বক্সে ঢুকে চতুরতার সাথে গোলরক্ষক আলফনসো এররেরোর দুই পায়ের মাঝখান দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। এই গোলের পর বার্নাবেউজুড়ে ফের বেজে ওঠে সমর্থকদের প্রিয় ‘হে জুড’ গানটি।

সাত মিনিট পর আবারও দলের দ্বিতীয় গোলে অবদান রাখেন বেলিংহাম। তাঁর একটি শক্তিশালী হেড ডিফেন্ডার সি. পুগা গোললাইন থেকে রক্ষা করলেও বল গোলরক্ষক এররেরোর গায়ে লেগে আত্মঘাতী গোল হিসেবে জালে ঢোকে।

এরপর প্রথমার্ধেই কিলিয়ান এমবাপে ৩-০ করেন এবং ইনজুরি টাইমে ব্যবধান ৪-০ করেন আরদা গুলের। পুরো ম্যাচজুড়েই বেলিংহাম ছিলেন মূল আকর্ষণ। মাঝমাঠ থেকে বারবার আক্রমণে উঠেছেন, মাদ্রিদের রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে দারুণ সংযোগ তৈরি করেছেন এবং দ্বিতীয়ার্ধে তাঁর একটি বা পায়ের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ৩৮টি পাসের মধ্যে ৩৬টিই সফলভাবে দেওয়া বেলিংহামকে বদলি করে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার সময় করতালি দিয়ে দাঁড়িয়ে সম্মান জানান বার্নাবেউর দর্শকরা।

নতুন কোচের কৌশলে খেলার ধরন বদলে যাওয়ায় মাঠের পারফরম্যান্সে এই প্রভাব পড়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে নিচে নেমে রক্ষণ সামলানোর যে চাপ আগে ছিল, সেখান থেকে নিজেকে মুক্ত মনে করছেন বেলিংহাম।

ম্যাচ শেষে বেলিংহাম বলেন, “আমি এখন অনেক বেশি স্বাধীন অনুভব করছি। দলের প্রয়োজন অনুযায়ী মাঠে ওপরে-নিচে চলাফেরা করার পূর্ণ স্বাধীনতা আমার আছে। ফুটবলটা খুব উপভোগ করছি, আর এ কারণেই ভালো খেলতে পারছি।”

মরিনিয়োর অধীনে লা লিগার প্রথম তিন ম্যাচে বেলিংহাম ইতোমধ্যে ২টি গোল ও ২টি অ্যাসিস্ট করেছেন। আর রিয়াল মাদ্রিদও তিন ম্যাচের তিনটিতেই জিতে মোট ১০টি গোল করেছে। মরিনিয়ো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি এই তারকার আক্রমণাত্মক প্রতিভা বজায় রাখতে চান। তিনি বলেন, “জুড নিজের এবং দলের প্রতি অনেক বেশি দাবিদার, যা আমার খুব পছন্দ। আমি ওর সাথে আগেই একমত হয়েছিলাম যে, ওকে প্রায় দ্বিতীয় লেফট-ব্যাক হিসেবে নিচে নেমে রক্ষণ সামলাতে দেখতে চাই না, যা অতীতে অনেকবার দেখেছি।”

মরিনিয়োর সমাধান ছিল বেলিংহামের শক্তির ওপর ভিত্তি করে দলকে পুনর্গঠন করা। বাঁ দিকে নেমে যাওয়ার পরিবর্তে বেলিংহামকে এখন সেন্ট্রাল পজিশন দিয়ে আক্রমণভাগে ওঠানামার বাড়তি স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। মালাগার বিপক্ষে এমবাপে ও ভিনিসিয়াস জুনিয়রের পাশাপাশি বেলিংহামের এমন দৌড় প্রতিপক্ষের জন্য সামলানো অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। মরিনিয়ো আরও যোগ করেন, “একজন মিডফিল্ডার হিসেবে জুড সত্যিই অসাধারণ। ও বালন দোর এর অন্যতম বড় দাবিদার হওয়ার যোগ্য।”

২০২৫-২৬ মৌসুমে চোটের সমস্যায় ভোগার পর বেলিংহামকে এখন শারীরিক ও শারীরবৃত্তীয়ভাবে অনেক বেশি চাঙ্গা এবং কৌশলগতভাবে মুক্ত মনে হচ্ছে। আর মরিনিয়ো তাকে সেই স্বাধীনতা দেওয়ায় বার্নাবেউতে আবার আগের সুরেই বাজছে “হে জুড”।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..