শরীয়তপুর প্রতিনিধি
নড়িয়া উপজেলার পদ্মা নদীর মাঝখানে অবস্থিত চরাত্রা ও নওপাড়া ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় বসবাস করছেন। বর্ষা মৌসুমে পদ্মা উত্তাল হয়ে উঠলে এ দুই চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। জরুরি প্রয়োজনে নৌপথই তাদের একমাত্র ভরসা।
চরাআত্রা ও নওপাড়া থেকে জেলা সদরসহ মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকায় শিক্ষার্থী, রোগী, নারী ও বয়স্কদের প্রতিদিনই নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষায় নদীতে স্রোত ও ঢেউ বেড়ে গেলে ছোট নৌযানে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুই ইউনিয়নে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা না থাকায় গুরুতর অসুস্থ রোগী ও প্রসূতি নারীদের চিকিৎসার জন্য নৌযানে করে পদ্মা পাড়ি দিয়ে যেতে হয়। এতে জরুরি চিকিৎসা পেতে সময়ক্ষেপণ হয়।
স্থানীয়দের দাবি, নদীপথে যাতায়াতের সময় বিভিন্ন দুর্ঘটনায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন। এমনকি নৌযানেই সন্তান জন্ম দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে প্রসূতি নারীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান তারা।
বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। উত্তাল পদ্মায় ছোট নৌযানে চলাচলের সময় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কায় থাকতে হয় চরবাসীকে। নিরাপদ নৌযান ও আধুনিক ঘাটের অভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই নদী পারাপার করতে হচ্ছে তাদের।
চরাআত্রা ও নওপাড়া ইউনিয়নের মানুষের বড় একটি অংশ কৃষিকাজ ও মাছ ধরার সঙ্গে জড়িত। যোগাযোগব্যবস্থার সংকটের কারণে উৎপাদিত কৃষিপণ্য ও মাছ বাজারজাত করতেও তাদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়। এতে একদিকে যেমন পরিবহন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষক ও জেলেরা।
স্থানীয়রা জানান, চরাআত্রা ও নওপাড়া একসময় ভয়াবহ নদীভাঙনকবলিত এলাকা ছিল। পদ্মার ভাঙনে বহু মানুষ ঘরবাড়ি ও জমিজমা হারিয়েছেন। বর্তমানে ভাঙনের প্রকোপ অনেকটা কমে আসায় নতুন করে বসতি গড়ে উঠেছে। কিন্তু যোগাযোগ ও চিকিৎসাসেবার সংকট এখনো কাটেনি।
নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন মুন্সি বলেন, ‘উন্নয়নের নানা ক্ষেত্রে এগিয়ে গেলেও যোগাযোগের দিক থেকে এখনো বিচ্ছিন্ন চরআত্রা ও নওপাড়া। বর্ষায় পদ্মার উত্তাল ঢেউয়ের সঙ্গে আমাদের প্রতিদিনের লড়াই করতে হয়। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, দুই চরেই কোনো হাসপাতাল নেই। ফলে প্রসূতি নারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অনেক সময় নৌযানে করে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ কারণে নওপাড়ায় দ্রুত একটি সেবা কেন্দ্র চালু করা জরুরি।’
চরবাসীর দাবি, শুধু বর্ষাকালে নৌযান পরিচালনা নয়, স্থায়ীভাবে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে। দ্রুতগামী ও নিরাপদ নৌযানের পাশাপাশি আধুনিক ঘাট নির্মাণ এবং নওপাড়ায় একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তারা। দীর্ঘমেয়াদে সেতু নির্মাণের মাধ্যমে সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করা গেলে পদ্মার চরে বসবাসরত প্রায় ৫০ হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।