নিজস্ব প্রতিবেদক :
বিএনপির চেয়ারপার্সন হিসেবে খালেদা জিয়া বর্তমানে কোনো দায়িত্ব পালন না করতে পারলেও কাগজে-কলমে তিনিই দলের প্রধান নেতা। দ্বিতীয় প্রধান নেতা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে পলাতক জীবনযাপন করছেন।
আর বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ নেতা হলেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাকে ঘিরেই সাংগঠনিক তৎপরতা আবর্তিত হয়।
যেকোনো রাজনৈতিক দলের মহাসচিব ও সাধারণ সম্পাদক পদ দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তৃণমূলের যোগসূত্র করে থাকেন মহাসচিব ও সাধারণ সম্পাদক। যেহেতু বিএনপির চেয়ারপার্সন নিষ্ক্রিয় ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিদেশে, কাজেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ঘিরেই দলীয় কর্মকাণ্ড আবর্তিত হওয়ায় কথা।
তবে বিএনপির বর্তমান রাজনীতিতে এটি একেবারেই ভিন্ন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের চেয়ে এখন বেশি জনপ্রিয় এবং গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলের মহাসচিবের তুলনায় রিজভীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেই তারা অনেক বেশি উজ্জীবিত এবং খুশি। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের কাছে রিজভীর জনপ্রিয়তা কিছুটা বেড়েছে। সম্প্রতি দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাকে দেখা গেছে। এদিকে রিজভীর সঙ্গে পাল্লা দিতে এরই মধ্যে মাঠে নেমেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও।
দলীয় সূত্রে সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ করে দলের ভেতর যারা ত্যাগী ও পরীক্ষিত রয়েছেন, তারা রিজভীর ওপর অনেক বেশি আস্থাশীল।
বিএনপির একজন নেতা বলেছেন, দলের জন্য রিজভী অনেক বেশি ত্যাগ স্বীকার করছেন। তার মধ্যে কোনো প্রতারণা বা প্রবঞ্চনা নেই। অন্যদিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অনেক কিছুই দলের নেতাকর্মীরা বিশ্বাস করেন না।
অনেক নেতা-কর্মী এও মনে করেন যে, গোপনে দলের ভেতরে ও বাইরে নানা চক্রান্তে যুক্ত হচ্ছেন মির্জা ফখরুল। এর প্রমাণও তারা পেয়েছেন।অপরদিকে রুহুল কবির রিজভী অত্যন্ত কর্মীবান্ধব। তিনি ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মাঝে মাঝে খোঁজখবর নিয়ে থাকেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব দিক বিবেচনায় বিএনপিতে একটি অদ্ভুত নৈরাজ্য তৈরি হয়েছে, যেখানে প্রধান নেতৃত্বের প্রতি দলীয় নেতাকর্মীদেরই কোনো আস্থা নেই। তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে বিএনপির প্রতি আস্থা রাখবে।
Leave a Reply