কুমিল্লা প্রতিনিধি :
নিহত কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল
কার্যালয়ে ঢুকে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ মোহাম্মদ সোহেল (৫০) ও তাঁর এক সহযোগী আওয়ামী লীগ কর্মী হরিপদ সাহাকে (৫৫) এলোপাতাড়ি গুলি করে খুনের ঘটনায় মামলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন নিহত সোহেলের ভাই সৈয়দ মোহাম্মদ রোমান। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে দশ জনকে আসামি করা হয়েছে। রাত ১টা ১০ মিনিটে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কমল কৃষ্ণ ধর।
সোমবার (২২ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে নগরীর পাথরিয়াপাড়া থ্রি স্টার এন্টারপ্রাইজে কাউন্সিলর কার্যালয়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন ওই দুজন। কাউন্সিলর সোহেলকে এলোপাতাড়ি ৯টি গুলি করেছে ঘাতকরা। এতে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে যায়। হামলাকারীদের পিস্তলের দুটি গুলি সোহেলের মাথায়, দুটি বুকে, অন্য পাঁচটি পেট ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাগে।
কাউন্সিলর সোহেল কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য ও ওই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। নিহত হরিপদ সাহা নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য এবং সাহাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার বুকে ও পেটে গুলি লেগেছিল। এছাড়া এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ আরো ৫ জন কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কমল কৃষ্ণ ধর বলেন, আমরা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া তদন্তের স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে মামলার আসামিদের নাম প্রকাশ করেননি তিনি।
পুলিশ মামলার আসামিদের নাম প্রকাশ না করলেও নিহত কাউন্সিলর সোহেলের ঘনিষ্ঠ যুবলীগের এক নেতা জানান, এ মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে পাশের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সুজানগর পূর্বপাড়া এলাকার মৃত জানু মিয়ার ছেলে সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি শাহ আলমকে। এছাড়া তার সহযোগী সোহেল মিয়া ওরফে জেল সোহেলকে মামলার অন্যতম প্রধান আসামি করা হয়েছে।
জানা গেছে, ঘটনার পর থেকে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় সন্ত্রাসী হামলার নেতৃত্বদানকারী হিসেবে এ দুজনের নাম ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, গত সোমবার বিকেলে কাউন্সিলর সোহেল নিজ কার্যালয়ে বসে রাজনৈতিক কর্মীদেরকে নিয়ে বৈঠক করছিলেন। এ সময় সাতটি মোটরসাইকেলে করে আসা অন্তত ১০ জন কালো মুখোশধারী সন্ত্রাসী ওই কাউন্সিলরকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়তে থাকে। এতে গুলিবিদ্ধ সোহেল সঙ্গে সঙ্গেই নিজের চেয়ার থেকে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। গুলির আওয়াজে আশপাশের মানুষ ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা পাশের বউবাজার এলাকা দিকে পালিয়ে যায়।
এ সময় হামলাকারীরা গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে স্থানীয়রা গুলিবিদ্ধ কাউন্সিলরসহ আহতদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ওই দুজনের মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার সকালে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
Leave a Reply