নিজস্ব প্রতিবেদক:
পল্টন ময়দানে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)-এর মহাসমাবেশে বোমা হামলার মূল কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচন করার দাবি জানিয়েছেন সিপিবি নেতৃবৃন্দ।
তারা বলেছেন, সেদিন কমিউনিস্টদের স্তব্ধ করার জন্য বোমা হামলা চালানো হয়েছিল, যাতে কমিউনিস্ট পার্টি মানুষকে নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে। হামলার পর জনগণের আরো বেশী অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সিপিবি এগিয়ে যাচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার পুরানা পল্টনস্থ মুক্তিভবনের সামনে পল্টন হত্যাকাণ্ডের ২১তম বার্ষিকীতে শহীদদের স্মরণে নির্মিত অস্থায়ী বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তারা এসব কথা বলেন। উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে সিপিবি’র মহাসমাবেশে বোমা হামলায় সিপিবি’র খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার নেতা হিমাংশু মণ্ডল, খুলনার দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরির শ্রমিক নেতা আব্দুল মজিদ, ঢাকার ডেমরা থানার লতিফ বাওয়ানি জুট মিলের শ্রমিক নেতা আবুল হাসেম ও মাদারীপুরের মোক্তার হোসেন এবং খুলনা বিএল কলেজের ছাত্র ইউনিয়ন নেতা বিপ্রদাস রায় নিহত হন এবং শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন।
শ্রদ্ধা নিবেদন ও শপথ বাক্য পাঠ শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, সেদিন অশুভ শক্তির হীন উদ্দেশ্য সফল হয়নি। তবে এখনও নানা ষড়যন্ত্র চলছে। দেশ এক গভীর সংকটের মধ্যে অতিবাহিত করছে। গণতন্ত্রহীনতা, লুটপাটতন্ত্র ও সাম্প্রদায়িকতা চরম আকার ধারণ করেছে। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে দেশ ‘৯৯ বনাম ১’ এইভাবে বিভক্ত। এই ৯৯ ভাগ মানুষ যাতে তাঁরা তাঁদের দাবি-দাওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে না পারে তার জন্য নানাভাবে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এই অবস্থা থেকে দেশকে উদ্ধারে বামপন্থার উত্থান ঘটাতে হবে।
শহীদদের প্রতি পরিপূর্ণ শ্রদ্ধা জানাতে দ্বি-দলীয় ধারার বিপরীতে বাম বিকল্প শক্তির উত্থানের আহ্বান জানিয়ে সিপিবি সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, ২০ জানুয়ারির পল্টন ময়দানের বোমা হামলার পর আলামত সংগ্রহ না করে সিপিবি নেতা-কর্মীদের তৎকালীন আওয়ামী সরকারের পুলিশ বাহিনী লাঠিচার্জ করে ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমনকি পুলিশ কমিশনার বলেছিলেন, এই হামলা দলের আভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে হয়েছে। এরপর ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার পরও বিএনপি সরকার একই কাজ করেছিল এবং একই কথা বলেছিল।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সিপিবি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক আহসান হাবীব লাবলু, ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি শামসুজ্জামান হীরা, ঢাকা জেলার সভাপতি সুকান্ত শফি কমল, ঢাকা দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার, ঢাকা জেলার সাধারণ সম্পাদক আবিদ হোসেন, ঢাকা উত্তরের সাধারণ সম্পাদক লুনা নূর ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাদেকুর রহমান শামীম, ন্যাপ কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর কেন্দ্রীয় সদস্য বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদ (মার্কসবাদী)-এর কেন্দ্রীয় সদস্য জহিরুল ইসলাম, গণফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ।
Leave a Reply