ইবি প্রতিনিধি :
কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়কের পশ্চিম পাশেই একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ। শেকড় থেকে গাছের শাখা-প্রশাখা ছড়িয়ে ঠিক যেনো পুরোনো কোনো বটগাছের মতো। সড়কের আশপাশে দাড়িয়ে থাকা সব গাছকেই ভুলিয়ে এই গাছটি। গাছটি আর কোথাও নয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে। পড়ন্ত বেলায় পশ্চিমাকাশের দিকে তাকালে মনে হয় সূর্যাস্তের লাল আবির যেনো ফুটেছে এই কৃষ্ণচূড়া গাছটির ফুলে ফুলে।
শিক্ষার্থী থেকে দর্শনার্থী সবার কাছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যের এক অন্যরকম ভালোলাগা ছিলো এই কৃষ্ণচূড়া গাছটি। ১৯৯৫ সালে রোপণ করা এই গাছটি ঘিরে সব সৌন্দর্যের ভাটা পড়ে করোনাকালেই। অভিযোগ আছে মহামারির প্রথমধাপেই পরিচর্যার অভাবে মারা যায় গাছটি। এই অভিযোগের সুরে সুর মিলালেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী আজিজুল হক পিয়াস।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটেকের সামনে এই কৃষ্ণচূড়া গাছটি সবার নজর কাড়তো। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি স্বতন্ত্র সৌন্দর্য বহন করতো গাছটি। যথাযথ পরিচার্যার অভাবে গাছটি মারা গেছে। মৃত গাছটি দাড়িয়ে থাকতে দেখে খুবই মর্মাহত হই।
তবে আবারো হবে ইবির প্রধান ফটকের সামনে আবারো হবে কৃষ্ণচূড়া। সূর্যাস্থের আবির ছড়িয়ে পড়বে ফুলে ফুলে। তাই মারা যাওয়া গাছটির জায়গায় আবারো রোপণ করা চারাগাছ। মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে এই চারা রোপণ করেন ভিসি প্রফেসর ড. শেখ আবদুস সালাম।
এসময় ভিসির সাথে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মু. আতাউর রহমান। এছড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টর প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন, পরিবহন প্রশাসক প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয় জিয়া পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ড. তোজাম্মেল হোসেনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কৃষ্ণচূড়ার চারা রোপণের পরে প্রধান ফটকের দুই পাশে দুটি ফুলগাছ রোপণ করা হয়। পরে প্রধান ফটক সংলগ্ন এলাকার ফুলের বাগান পরিদর্শন করেন ভিসি। এসময় তিনি ফুলগাছসহ অন্যান্য গাছগুলো ভালোভাবে পরিচর্যার নির্দেশনা দেন কর্মচারীদের।
ভিসি অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, গাছটির সৌন্দর্য দেখতে দেখতে এর প্রতি শিক্ষার্থীদের একটা আকর্শন তৈরি হয়েছে। এজন্য গাছটি মারা যাওয়ার পর আমরা সেখানে আরেকটি গাছ রোপণের উদ্যোগ নেই। যেন শিক্ষার্থীরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকবে তখন এর সৌন্দর্য দেখে তাদের ভিতর সুন্দর অনুভূতি তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকমুখের কৃষ্ণচুড়া গাছটি মারা যাওয়ায় গত ১৫ জানুয়ারি সেটি কেটে ফেলে প্রশাসন। গাছটি মারা যাওয়ার পর সেখানে আরো একটি কৃষ্ণচুড়া গাছ রোপণের দাবি জানায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এ চারা রোপণ করে কর্তৃপক্ষ।
Leave a Reply