নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর ১০ স্থানে গণসমাবেশ
বিএনপি ও তার মিত্রদের আজকের গণমিছিল ঘিরে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হলে তা ঠেকাতে প্রস্তুতি নিয়েছে আওয়ামী লীগ। আজ শুক্রবার সকাল থেকেই মাঠে থাকবেন সর্বস্তরের নেতাকর্মী। রাজপথে সর্বাত্মক সতর্ক অবস্থানে থাকবেন তাঁরা। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে কোনো ধরনের ছাড় দিতে রাজি নয় ক্ষমতাসীন দলটি।
সতর্ক অবস্থানের পাশাপাশি বিএনপির গণমিছিলকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলায় আওয়ামী লীগ আজ রাজধানীতে ১০টি গণসমাবেশ করবে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের ব্যানারে বিকেল ৩টায় রাজধানীর শ্যামলীর গণসমাবেশে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যোগ দেবেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ব্যানারে একই দিন বাদ জুমা বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ও যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তার মোড়ে আরও দুটি সমাবেশ করা হবে। দুটি সমাবেশেই দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা যোগ দেবেন।
এ ছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আরও সাতটি স্পটে বড় ধরনের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এগুলো হচ্ছে- উত্তরার আমির কমপ্লেক্সের সামনে, মহাখালী ব্রিজের নিচে, ফার্মগেট আনন্দ সিনেমা হলের সামনে, গাবতলী, মিরপুর-১, মিরপুর-১০ এবং ভাটারা ইউলুপের সামনে।
দলের নেতারা বলছেন, গত ১০ ডিসেম্বর বিএনপির গণসমাবেশের মতো আজও রাজধানীর রাজপথে থাকবেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। নাশকতার আশঙ্কা সৃষ্টি হওয়ামাত্র প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি নেতাকর্মীরাও প্রতিহত করার চেষ্টা করবেন। ঢাকা মহানগরীর উত্তর ও দক্ষিণ উভয় অংশের পাড়া-মহল্লা, অলিগলি ও ছোটবড় সড়ক- সব জায়গায় ছড়িয়ে থাকবেন সরকার সমর্থক নেতাকর্মীরা।
এর আগে সোমবার দলের নবনির্বাচিত সভাপতিমণ্ডলীর বৈঠকে বিএনপির গণমিছিলের কর্মসূচি মোকাবিলা করতে সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে ১০ ডিসেম্বরের মতো মাঠে থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছিলেন, আন্দোলন-সংগ্রামের নামে বিএনপি ঢাকার রাজপথ দখলে নিয়ে আরেকবার সহিংসতা ঘটাতে চাইছে। এই অবস্থায় বিএনপিকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।
এমন প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করে বিএনপি ও সমমনাদের গণমিছিলের কর্মসূচি মোকাবিলায় কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। গতকাল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ বর্ধিত সভা করে এ সংক্রান্ত প্রস্তুতি শেষ করে। এই সভা থেকে তিনটি সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিএনপি আজ দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাজধানীর নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মগবাজার এলাকা পর্যন্ত গণমিছিল করবে। আর ‘যুগপৎ আন্দোলন’-এর অংশ হিসেবে বিএনপির সমমনা দলগুলোও গণমিছিল করবে। এই অবস্থায় ‘সহিংস’ কর্মসূচির মাধ্যমে বিএনপি ও তার মিত্ররা ঢাকার সব রাজপথ অচল করে নিজেদের দখলে নিতে চায় বলেই মনে করছেন আওয়ামী লীগ ও সরকারের নীতিনির্ধারক নেতারা।
এ ছাড়া গণমিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা রাস্তায় রাস্তায় ভাঙচুর, হামলা ও পুলিশের সঙ্গে সহিংসতায় জড়ালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একার পক্ষে সেটা সামাল দেওয়া মুশকিল হতে পারে- এমনটাও ধারণা ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের। এই পরিস্থিতিতে বিএনপি ও তাদের মিত্রদের ‘রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত’ করতেই সতর্ক অবস্থানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গতকাল সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপি গণমিছিলের নামে সহিংসতা করবে! আমরা কি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ললিপপ খাব? আমরা সতর্ক পাহারায় থাকব।’
যেভাবে ‘সতর্ক অবস্থান’ আওয়ামী লীগের :বিএনপি ও সমমনাদের গণমিছিল ঘিরে সম্ভাব্য ‘নাশকতা’ মোকাবিলায় আজ সকাল থেকে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের প্রতিটি ওয়ার্ডের রাজপথে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীর সতর্ক অবস্থান থাকবে। ঢাকা মহানগর উত্তরের অধীন ২৬টি থানা, ৫৪টি ওয়ার্ড এবং একটি ইউনিয়নের সব কটিতেই নেতাকর্মীর পাহারা বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে নিজ নিজ থানা ও ওয়ার্ড সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে অবস্থান নেবেন নেতাকর্মীরা। দলের সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীও এই অবস্থানে থাকবেন। বড় শোডাউন হবে বিকেলে শ্যামলীর গণসমাবেশকে ঘিরে।
Leave a Reply