নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে গাড়িচাপা দেওয়ার পর নারীকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে হত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই সাবেক শিক্ষক মারা গেছেন। ঐ শিক্ষকের নাম মোহাম্মদ আজহার জাফর শাহ।
ঢাবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক এই শিক্ষককে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) আনা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেছেন, জাফর শাহকে সাড়ে ৩টার দিকে ঢামেকের জরুরি বিভাগে আনা হলে চিকিৎসক তাকে বলে মৃত ঘোষণা করেন।
গত বছরের ২ ডিসেম্বর শাহবাগ এলাকায় তার গাড়ির বাম্পারে আটকে রুবিনা আক্তার নামে এক নারী মারা যান। গাড়িতে আটকে যাওয়ার পর ওই নারী চিৎকার করেন। কিন্তু ঐ শিক্ষক গাড়ি না থামিয়ে গতি বাড়িয়ে প্রায় ১ কিলোমিটার টেনে নিয়ে যান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ধাওয়া করে নীলক্ষেত মোড়ের কাছে গাড়িটি থামান। কিন্তু তার আগেই মারা যান রুবিনা। এরপর আশপাশে থাকা লোকজন ঐ শিক্ষককে মারধর করলে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে শিক্ষার্থীরা আজহার জাফর শাহের বিরুদ্ধে অপেশাদার আচরণের অভিযোগ দেয় কর্তৃপক্ষের কাছে। বিভিন্ন সময় পরীক্ষায় নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে।
এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বিভাগীয় তদন্ত কমিটি করা হয় এবং জাফর শাহকে কারণ দর্শাতে বলা হয়। কিন্তু তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করেননি, নোটিশেরও জবাব দেননি। তাকে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হলেও শর্ত পূরণ করতে না পারায় পুনরায় সহকারী অধ্যাপক পদে পদাবনতি দেওয়া হয়। ১০ বছর পর ২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাফর শাহকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়।
Leave a Reply