ময়মনসিংহপ্রতিনিধি,
উদ্ধারকৃত তক্ষক
“এটা ‘হাঁস পা’ ধরনের। মুরগির পা হলে দাম কম ছিল। এটার দাম দেশের বাইরে হাজার কোটি টাকা। এটা নিতে পারলে পকেটমানিই দিবে দুইশো কোটি টাকা।
আমার এটার দাম হাজার কোটি টাকার বেশি। দেশের যে কোনো জায়গায় থাকেন না কেন সেখানেই ক্রেতা যাবে। মাইর নাই। অনেক সময় হেলিকাপ্টারে গিয়ে নিয়ে আসে”- ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মধুবাজারের একটি বাস কাউন্টারের পাশে বসে দুইজনের এই রকম কথা চলছিল।
পরে অপরিচিত দুই ব্যক্তির কথা শুনে কৌতুহলি হয়ে একজন এ বিষয়ে থানায় জানান। পরে থানার একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে চারজনকে আটক করে ও তক্ষক উদ্ধার করে। এ অবস্থায় মামলার পর আটকৃতদের আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সুত্র ও পুলিশ জানায়, গতকাল বুধবার রাতে মধুপুর বাজারের একটি বাস কাউন্টার থেকে একটি তক্ষকসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক কামরুল হাসান জানান, গোপন সংবাদের ভিক্তিতে খবর পেয়ে ওই স্থানে গিয়ে দেখা যায় লাল রঙের একটি প্লাস্টিকের পাত্রের মধ্যে তক্ষকটি রেখে বিক্রির উদ্যেশে কথা বলছিল নান্দাইল উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের মৃত আসকর আলীর ছেলে রবিন মিয়া (৩২)। সেখানে ক্রেতা ছিল ময়মনসিংহ জেলার সদর উপজেলার শম্ভুগঞ্জ রঘুরামপুর গ্রামের শ্রী নারায়ন সূত্রধরের ছেলে শ্রী লিটন সূত্রধর (৪০), জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাদে শুশাড়িয়া বাড়ি গ্রামের মৃত মশির উদ্দিনের ছেলে শমসের আলী (৬৫) ও একই এলাকার ঝালুর চর গ্রামের আজহার আলীর ছেলে শামীম মিয়া ৩৫। তারা তিনজন তক্ষকটি কিনতে এসেছিল। এ সময় ক্রেতারা বিভিন্ন পদ্ধতিতে যাচাই-বাচাই করছিল। এ সময় তক্ষটি মেপে দেখা ৭ইঞ্চি লম্বা ও প্রায় ২শ গ্রাম ওজন।
এ অবস্থায় দাম ধর করা হয় ৭ লাখ টাকায়। এই অবস্থায় তাৎক্ষনিত চারজনকে আটক করা হয়। তক্ষকটি দেখতে গুই সাপের বাচ্চার মতো। গায়ে র লাল সিঁদুরের ও সাদা ফোটার মতো রযেছে।আকারে ছোট তবে ছোট হলেও অনেক বয়স বলে জানায় বিক্রেতা। বিক্রেতা জানায়, এর আগেও সে এই ধরনের প্রাণী আরও বিক্রি করেছে। যারা কিনে নেয় তারা চীনের পার্টির কাছে চড়া দামে বিক্রি করে। তিনি জেনেছেন এই প্রাণী দিয়ে চীনে টিকা ছাড়াও বিভিন্ন ঔষুধ তৈরি করে। এই তক্ষকটি হাঁস পা জাতের বলে জানায়। এই জন্য এটার কদর বেশী।
জানা যায়, তক্ষক বিক্রি করার দায়ে উন্নত বিশ্বে ১২ বছরের কারাদন্ড ছাড়াও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করার আইন রয়েছে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ পীরজাদা শেখ মোহাম্মদ মোস্তাছিনুর রহমান বলেন, আটককৃতদের বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে মামলা দিয়ে তাদেরকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়।
Leave a Reply