নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি,
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে সুব্রত চন্দ্র দাস (৪৭) হত্যার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে চরজব্বর থানা পুলিশ। প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনাটিকে ‘প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা’ হিসেবে প্রচার করা হলেও, পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ অক্টোবর পশ্চিম চরজুবলী এলাকায় রাজ্জাক সওদাগরের ধানী জমির উত্তর পার্শ্বে পাকা রাস্তায় সুব্রত চন্দ্র দাসের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার সূত্র ধরে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত হিসেবে নূর মোহাম্মদ (৫৭)-কে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত নূর মোহাম্মদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন দুপুরে তিনি তার ভাগিনা ফয়সাল (১০)-কে সঙ্গে নিয়ে নিজের মোটরসাইকেলে গাছ কাটার শ্রমিকদের খাবার দিতে যাচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় ভিকটিম সুব্রত চন্দ্র দাস (৪৭) চর আমান উল্ল্যাহ থেকে তার স্ত্রী রিক্তা দাসকে আনার জন্য ভুঁইয়ার হাটে যাওয়ার পথে ঘটনাস্থলে একটি সিএনজিকে ওভারটেক করার চেষ্টা করেন। এসময় সামনে থেকে আসা একটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেল দেখতে পেয়ে সুব্রত দাস হঠাৎ ব্রেক করলে তিনি মোটরসাইকেলসহ সড়কে পড়ে যান।
ওই সময় বিপরীত দিক থেকে আসা নূর মোহাম্মদের মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তায় পড়ে থাকা ভিকটিমের উপর দিয়ে চলে যায়। নূর মোহাম্মদের মোটরসাইকেলের বাম্পার ও স্ট্যান্ডে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে সুব্রত চন্দ্র দাসের গলা কেটে যায় এবং তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী পুলিশের কাছে একই রকম ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন। গ্রেফতারকৃত আসামি নূর মোহাম্মদ বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হয়েছেন বলেও পুলিশ জানিয়েছে। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
Leave a Reply