তাহের আহমেদ – জামালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ
“সুস্থ দেহে সুন্দর মন”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জামালগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। উৎসবমুখর পরিবেশে গত ২৫ ও ২৬ জানুয়ারি (রবিবার ও সোমবার) দুই দিনব্যাপী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকীন নূর।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যানবেইসের ইউআইটিআরসিই’র সহকারী প্রোগ্রামার রবিউল ইসলাম, জামালগঞ্জ কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম বীন বারি, বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম, জামালগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিধান ভূষণ চক্রবর্তী, উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা প্রভাংশু রায়, সমাজসেবক আব্দুর রব, সাচনা বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া, কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মো. আল মামুন, সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার মো. জামাল উদ্দিন, পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মো. মুখলেছুর রহমান, সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল হুদা, কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরউদ্দিন এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সীতোষ কুমার তালুকদার। এ সময় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মোছা. তাইয়েবুন নেছা আফিন্দীসহ সহকারী শিক্ষক মুজাহিদ হোসেন, অর্চনা রাণী তালুকদার, চন্দন চন্দ্র পাল, কবির উদ্দিন, মো. আব্দুস সালাম, মো. আতাউর রহমান, আবু সোহাগ, আনোয়ার হোসেন, এবিএম মাছুম, ইমরুল হাসান পলাশ ও ইয়াসমিন চৌধুরী। ক্রীড়া প্রতিযোগিতা পরিচালনা করেন বিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক মোস্তফা কামাল খাঁন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকীন নূর বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননশীলতার বিকাশে শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান যথেষ্ট নয়। পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখে। তিনি বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামীর নেতৃত্ব দেবে—তাই তাদের বহুমাত্রিকভাবে গড়ে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব।
সভাপতির বক্তব্যে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লুৎফুর রহমান বলেন, বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক আয়োজন শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, সহনশীলতা, দলগত চেতনা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলে। তিনি আরও বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সংস্কৃতিতে সমানভাবে দক্ষ শিক্ষার্থী গড়ে তোলাই বিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য।
বক্তারা বলেন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চা শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, মননশীলতা বিকাশ এবং নেতৃত্বগুণ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সুস্থ, সচেতন ও দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত কার্যকর।
অনুষ্ঠানের শেষ দিনে বিভিন্ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে অতিথিবৃন্দ পুরস্কার তুলে দেন।
Leave a Reply