ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি,
জামাই পিঠা, বউ সুন্দরী, পাতা নকশি, হৃদয়হরণ, মালাই রোল, কুমড়া পিঠা, চিতই, ফুল পিঠা, ঝিনুক পিঠাসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিখ্যাত রসমালাই এমনই সব বাহারি পসরা নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আইডিয়াল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে হাজির হয়েছিল শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) কলেজ প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এই বর্ণিল পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়। এদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলা এই উৎসবে ষষ্ঠ থেকে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা স্টল সাজিয়ে বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তোলে।
পিঠা উৎসবের উদ্বোধন করেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হারুন অর রশিদ। আইডিয়াল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রীনা বালা মল্লিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহীন মৃধা: উদ্যোক্তা ও পরিচালক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইউনাইটেড কলেজ; সিরাজুল ইসলাম: পরিচালক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইউনাইটেড কলেজ; অভিজিৎ রায়: পরিচালক, আইডিয়াল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
অনুষ্ঠানে হারুন অর রশিদ জানান, প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার দুই দশকেরও বেশি সময় পার হলেও এবারই প্রথম এত বড় পরিসরে পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
উৎসবে শিক্ষার্থীরা মোট ৮টি স্টল বসায়। এসব স্টলে বাংলাদেশের জাতীয় ও জেলাভিত্তিক ঐতিহ্যের সঙ্গে মিল রেখে শতাধিক প্রকারের পিঠা প্রদর্শিত হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ক্ষুদে ও নবীন শিক্ষার্থীরা বর্ণিল সাজে উৎসবে মেতেছে।
সতীন পিঠা, জামাই পিঠা, সন্দেশ, নকশি পিঠা, নেভিকুলা, দুধ চিতই, পোয়া পিঠা, ছিটা রুটি, চিতল পিঠাসহ আরও অনেক কিছু। এছাড়া পাপড়ি, ঝিনুক, পাকন, রেশমি, ত্রিভুজ, ঝিলমিল, ডিম সুন্দরী, বেণি, চন্দ্রপুলি ও চিংড়ি পিঠাও দর্শকদের নজর কেড়েছে।
শিক্ষার্থী তামান্না আক্তার ও নাজিবা সুলতানা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘নানা জাতের পিঠা আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। উৎসব শেষে কলেজ কর্তৃপক্ষ বিজয়ীদের পাশাপাশি প্রতিটি স্টলকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে, যা আমাদের দারুণ অনুপ্রাণিত করেছে। অনেক সহপাঠী ও অতিথি আমাদের স্টল থেকে পিঠা কিনে খেয়েছেন এবং অনেকে বাড়িতেও নিয়ে গেছেন।’
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রীনা বালা মল্লিক বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতেই আমাদের এই পুরস্কার ও সহায়তা। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে পড়াশোনার বিকল্প নেই, তবে সৃজনশীল কাজও জরুরি।’ ইংরেজি প্রভাষক অভিজিৎ রায় যোগ করেন, ‘শিক্ষার্থীরা দিনটিকে উৎসবের রঙে রাঙিয়ে দিয়েছে।’
আয়োজকরা জানান, একসময় শীত এলেই গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে পিঠা বানানোর ধুম পড়ত। আধুনিকতার চাপে হারিয়ে যাওয়া সেই চিরন্তন ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করতেই এই আয়োজন।
Leave a Reply