মোঃ শাহাদাৎ হোসেন, কুমারখালী (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতাঃ
কুষ্টিয়া-৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমীর নির্বাচনী পরাজয়কে কেন্দ্র করে দলে দলে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল-এর কুমারখালী উপজেলা শাখা পৃথকভাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে।
বুধবার বেলা ১১টায় কুমারখালী উপজেলার হলবাজারস্থ দলীয় কার্যালয়ে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরে একই স্থানে উপজেলা যুবদল পৃথক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ লুৎফর রহমান লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমারখালী উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্বে ছিলেন তরিকুল ইসলাম লিপন, অ্যাডভোকেট শাতিল মাহমুদ ও আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু। কিন্তু বর্তমান উপজেলা ও পৌর বিএনপির কোনো নেতৃবৃন্দকে ওই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এমনকি পোলিং এজেন্ট নিয়োগের ক্ষেত্রেও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়নি।
তিনি দাবি করেন, নির্বাচন পরিচালনায় সমন্বয়হীনতা ও সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণেই কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট পরিচালনা কমিটিকে দায় নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম আনছার প্রামানিকসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, প্রার্থীর অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস, তৃণমূল নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন, অযোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা এবং সাংগঠনিক সমন্বয়ের অভাব পরাজয়ের অন্যতম কারণ। দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করায় মাঠপর্যায়ে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
বিএনপি নেতারা বলেন, গত ১৭ বছর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে খোকসা-কুমারখালীর বহু নেতাকর্মী মামলা, হামলা ও কারাবরণের শিকার হয়েছেন। অথচ যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের আন্দোলনের মাঠে সক্রিয় ভূমিকা ছিল না বলেও দাবি করা হয়।
পৃথক সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা যুবদলের নেতারা বলেন, তারা নির্বাচনের দিন পর্যন্ত দায়িত্বশীলভাবে কাজ করেছেন এবং বিভিন্ন সময়ে হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। তবে নির্বাচন পরিচালনায় বিতর্কিত ও অগ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়ায় তৃণমূল পর্যায়ে অসন্তোষ তৈরি হয়, যা নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে তারা মনে করেন।
উভয় সংবাদ সম্মেলনে কুষ্টিয়া ও কুমারখালীর বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ধানের শীষের পক্ষে পরিচালিত গণসংযোগ কার্যক্রমের আলোকচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।
Leave a Reply