পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাটের পাটগ্রামে বিষধর সাপের কামড়ে স্নেহা (৬) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। অপরদিকে, বিষাক্ত সাপের কামড়ে উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের উফারমারা এলাকায় মারুফ হোসেন (১৪) নামে এক শিকার্থীকে আহত অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
গত বুধবার (৬ মে), পাটগ্রাম উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নে স্নেহা (৬) নামে এক শিশু বিকেলে বাড়ির উঠানে খেলতে গেলে একটি বিষধর সাপ ছোবল মারে। এতে ঐ শিশুটিকে আহত অবস্থায় পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। স্নেহা ৯ নং ওয়ার্ড ককোয়াবাড়ি এলাকার শামীম হোসেনের মেয়ে।
পরের দিন বৃহস্পতিবার (৭ মে), বুড়িমারী ইউনিয়নের উফারমারা এলাকায় বিষধর সাপের কামড়ে মারুফ হোসেন নামে এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হলে পরিবারের লোকজন পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক অবস্থার অবনতি দেখে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
এদিকে, উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের আউলিয়ারহাট এলাকায় আরেকটি শিশুকে বিষধর সাপ কামড়ের খবর আসে। ফলে পুরো উপজেলায় সাপ কামড়ের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
উপজেলার সচেতন মহল বলছে, সাপের কামড়ে আহত ব্যক্তিকে আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিতে হবে। আমাদের মধ্যে অনেকে আছে কবিরাজ, ওঝা দিয়ে চিকিৎসা করানোর চেষ্টা করে, এতে রোগী মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে।
পাটগ্রাম বিসমিল্লাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আব্দুল আকবর বিন আফসার বলেন,পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত সাপের কামড়ের এন্টিভেনম মজুদ, সচেতনতা বৃদ্ধি, নিজেকে সতর্ক রাখা এবং অন্যজনকে সতর্ক করার আহবান জানান।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ দেবব্রত কুমার রায় জানান, সাপ কামড়ের ঔষধ বা প্রতিষেধক এন্টিভেনম পাটগ্রাম উপজেলা হাসপাতালে রয়েছে। তবে, সাপ কামড়ের রোগীকে সাথে সাথে হাসপাতালে নিয়ে আসলে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে সেটা বিষধর কি-না নিশ্চিত হয়ে চিকিৎসা দিলে রোগী শতভাগ সুস্থ্য হওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু কবিরাজ বা ওঝা দিয়ে চিকিৎসা করে দেরিতে হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসকের কিছুই করার থাকে না।
Leave a Reply