1. nskibria2012@gmail.com : যুগ যুগান্তর : যুগ যুগান্তর kibria
মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৩ অপরাহ্ন

কালিহাতীতে একাধিক মাদক মামলার আসামি প্রকাশ্যে, পুলিশের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬
  • ৯ বার পঠিত

তানিয়া ইসলাম (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সাতুটিয়া এলাকায় একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারের তথ্য থাকা মো. মামুনুর রশিদ ওরফে মামুন এবং তাঁর ছেলে সিহাবের প্রকাশ্যে চলাফেরা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশের নথিতে মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারের তথ্য থাকলেও বর্তমানে তাঁরা কীভাবে এলাকায় নির্বিঘ্নে চলাফেরা করছেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি পাওয়া পুলিশের পিসিপিআর (Police Criminal Record/Police Information) নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সাতুটিয়া গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারের তথ্য রয়েছে।

নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ১১ আগস্ট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ২০১৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কালিহাতী থানার একটি মাদক মামলায়, ২০১৮ সালের ২৭ এপ্রিল কুড়িগ্রামের একটি মাদক মামলায় এবং ২০২১ সালের ২৬ জুন কালিহাতী থানার আরেকটি মাদক মামলায় তাঁর গ্রেপ্তারের তথ্য রয়েছে। এছাড়া ২০২৩ সালের ৬ অক্টোবর মাদকসংক্রান্ত আরও একটি মামলায় গ্রেপ্তারের তথ্য নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

তবে এসব মামলার বর্তমান আইনগত অবস্থান কোনটি বিচারাধীন, কোনটি নিষ্পত্তি হয়েছে কিংবা কোনো মামলায় তিনি খালাস পেয়েছেন কি না তা সংশ্লিষ্ট আদালতের নথি থেকে পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মামুনুর রশিদ ও তাঁর ছেলে সিহাব দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং অভিযুক্তদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

সম্প্রতি ভূঞাপুর থেকে উদ্ধার হওয়া দুটি ড্রাম ট্রাক নিয়েও মামুনুর রশিদের নাম আলোচনায় আসে। পুলিশ জানিয়েছে, পুলিশ সুপারের নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ট্রাক দুটি জব্দ করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, এসআই আরিফ রব্বানী জব্দ তালিকা ও সাধারণ ডায়েরির মাধ্যমে বিষয়টি আদালতকে অবহিত করেছেন। আদালতের আলামত আদালতের আদেশ ছাড়া কোনো ব্যক্তির কাছে হস্তান্তরের আইনগত সুযোগ নেই বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারের তথ্য থাকা ব্যক্তির প্রকাশ্যে চলাফেরা নিয়ে স্থানীয়দের প্রশ্ন মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা কি নিয়মিতভাবে যাচাই করছে পুলিশ? তাঁর বিরুদ্ধে কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলে তা কার্যকর করা হচ্ছে কি না? আর তাঁর ছেলে সিহাবের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলোর বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থানই বা কী?

কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাইয়ুম খান সিদ্দকী বলেন, মামলাগুলো বিচারাধীন আছে। কিন্তু থানায় কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নেই। তাই কোনো প্রমাণ ছাড়া তো তাকে ধরতে পারছি না। এরকম কিছু হলে আসামি প্রকাশ্যে ঘোরার কোনো সুযোগ দেব না। তবে এ বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সরকার যদি ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তাহলে আমরা কী করতে পারি।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. আদিবুল ইসলাম (পিপিএম-সেবা) জানান, এস এম মামুন অর রশীদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের এই বক্তব্যের পরও স্থানীয়দের প্রশ্ন, একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারের তথ্য থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে আইনগত অবস্থান স্পষ্ট করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না।

এ বিষয়ে মামুনুর রশিদ ও সিহাবের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..