1. nskibria2012@gmail.com : যুগ যুগান্তর : যুগ যুগান্তর kibria
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৮ অপরাহ্ন

পঞ্চগড়ে ৬ কোটি টাকার সেতু, উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ল সড়ক

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৫ বার পঠিত

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে সেতু। চার বছরের বেশি সময় ধরে চলেছে নির্মাণকাজ, হয়েছে তিন দফা সংশোধনও। সবশেষে দুই মাস আগে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু টানা বৃষ্টিও নয়, রাতের হালকা বৃষ্টিতেই ধসে পড়েছে সেতুর দুই পাশের প্রায় ২০০ মিটার সংযোগ সড়ক। এতে প্রশ্ন উঠেছে নির্মাণকাজের মান নিয়ে।

ঘটনাটি পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ঝলইশালশিরি ইউনিয়নের ধরধরা এলাকার। টাঙ্গন নদীর ওপর নির্মিত সেতুটির সংযোগ সড়কের ইটের এইচবিবি অংশের বিভিন্ন স্থান ধসে গিয়ে বর্তমানে যানবাহন ও মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর উভয় পাশে প্রায় ২০০ মিটার এইচবিবি সড়কের বিভিন্ন অংশ দেবে ও ভেঙে গেছে। কোথাও ইট সরে গিয়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, আবার কোথাও সড়কের একাংশ নিচে নেমে গেছে। স্থানীয়রা বলছেন, সামান্য বৃষ্টিতেই যদি সড়কের এই অবস্থা হয়, তাহলে বর্ষা মৌসুমে এর স্থায়িত্ব নিয়ে তারা শঙ্কিত।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজের শুরু থেকেই প্রকল্পটি নিয়ে নানা প্রশ্ন ছিল। এর মধ্যে সেতু সংলগ্ন টাঙ্গন নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে সংযোগ সড়ক ভরাটের অভিযোগও ওঠে। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।

স্থানীয় ইউপি সদস্য প্রিয়নাথসহ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, নদী থেকে বালু তুলে সড়ক ভরাটের সময় তাদের বলা হয়েছিল, এতে রাস্তা আরও মজবুত ও টেকসই হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও এলজিইডির মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের এমন আশ্বাসে তারা তখন কাজে বাধা দেননি। তাদের দাবি, নদী থেকে তোলা নরম বালুর ওপর পর্যাপ্তভাবে মাটি ও অন্যান্য উপকরণ না দিয়ে দ্রুত হেরিংবোন সড়ক নির্মাণ করায় এখন তা ধসে পড়ছে।

এর আগে সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থানীয়দের অভিযোগের মুখে তা আর উদ্বোধন করা হয়নি বলে জানা গেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ সেসময় এলাকাবাসীর অভিযোগ শুনে কাজের দুরবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এলজিইডির জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেন বলে স্থানীয়রা জানান। ওই ঘটনার ভিডিও ও খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা শিক্ষক মফিজুর রহমান বলেন, চার বছরের বেশি সময় ধরে নির্মাণকাজ চলার পর মাত্র দুই মাস আগে সড়কটি মানুষের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। এত অল্প সময়ের মধ্যে সামান্য বৃষ্টিতে সড়ক ধসে পড়া নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তার মতে, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় এলজিইডির তদারকি যথাযথ ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করা প্রয়োজন।

তবে সড়ক ধসে পড়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে এলজিইডি। বোদা উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী আকরাম হোসেন বলেন, “সেতুর দুই দিকের প্রায় ২০০ মিটারের এইচবিবি রাস্তাটি বৃষ্টিতে ভেঙে পড়েছে। ইতিমধ্যে রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করতে সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এত অল্প সময়ের ব্যবধানে রাস্তাটি এভাবে ধসে যাবে, তা আমরাও ভাবিনি। নিম্নমানের কাজের পেছনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কী ধরনের গাফিলতি ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

তিনি জানান, সেতুর আটোয়ারী অংশের সংযোগ সড়কটি এইচবিবি পরিবর্তে স্থায়ীভাবে কার্পেটিং করার জন্য নতুন বরাদ্দের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

পঞ্চগড় এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শফিউল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি জানার পরপরই আমরা সেখানে যান চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছি। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এখনো চূড়ান্ত বিল দেওয়া হয়নি। তদন্তে যদি ঠিকাদারের গাফিলতি বা কাজের নিম্নমানের প্রমাণ মেলে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রকল্পটির নির্মাণকাজ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এস কর্পোরেশন। প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত জনগুরুত্বপূর্ণ এই সেতু ও সংযোগ সড়কের একটি অংশ ব্যবহারের দুই মাসের মধ্যেই ধসে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, সাময়িক সংস্কার নয়, নির্মাণকাজের মান যাচাই করে ত্রুটির স্থায়ী সমাধান করতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..