1. nskibria2012@gmail.com : যুগ যুগান্তর : যুগ যুগান্তর kibria
রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন

কালীগঙ্গায় নৌকাবাইচে জনস্রোত, কুড়িগ্রামের ‘মায়ের দোয়া’ চ্যাম্পিয়ন

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২ বার পঠিত

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:
ঐতিহ্য আর উচ্ছ্বাসের মিলনে শনিবার (৩ অক্টোবর) উৎসবের নগরীতে পরিণত হয় মানিকগঞ্জের কালীগঙ্গা নদী। নদীর দুই পাড়ে কয়েক লাখ মানুষের ঢল, ঢাক-বাদ্য, জারি-সারি আর নৌকার তীব্র প্রতিযোগিতায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ লোকজ সংস্কৃতির অন্যতম আকর্ষণীয় আয়োজন ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ ফিরে পায় নতুন প্রাণ।
জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয় মানিকগঞ্জ পৌরসভার বেউথা ঘাট এলাকায়। প্রতিযোগিতায় মানিকগঞ্জসহ কুড়িগ্রাম, টাঙ্গাইল ও পাবনা থেকে আসা চার ক্যাটাগরির মোট ২২টি নৌকা অংশ নেয়। খেল্লা-গয়ইটা, ঘাসি-ছিপা, ছান্দি ও পানসি—ভিন্ন ভিন্ন ধরনের নৌকার প্রতিযোগিতায় নদীর দুই তীরে তৈরি হয় উৎসবের আবহ।
শনিবার বিকেলে বেউথা ঘাট থেকে শুরু হওয়া বাইচ কালীগঙ্গার বিভিন্ন অংশ অতিক্রম করে তরা-মির্জাপুর মাঝিপাড়া ত্রিমোহনা এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সকাল থেকেই নদীর দুই পাড়ে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। যে যেখানে জায়গা পেয়েছেন, সেখানেই দাঁড়িয়ে কিংবা বসে উপভোগ করেছেন নৌকাবাইচ। এ উপলক্ষে নদীর পাড়ে বসে গ্রামীণ মেলাও।
এবারের প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের বাগুয়ারচর গ্রামের খেল্লা নৌকা ‘মায়ের দোয়া’। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর চ্যাম্পিয়ন হয়ে নৌকাটি জিতে নেয় ১০০ সিসি মোটরসাইকেল। একই বিভাগে রানার্সআপ হয় টাঙ্গাইলের নাগরপুরের ‘মা-বাবার দোয়া’; পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় ১৬ সিএফটি ফ্রিজ।
ঘাসি নৌকা বিভাগে যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হয় মানিকগঞ্জের সিংগাইরের ‘বাইমাইল এক্সপ্রেস’ ও ‘কালাম সিকদার এক্সপ্রেস’। ছান্দি বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয় হরিরামপুরের ‘গায়ান বাড়ি’ এবং পানসি বিভাগে শিরোপা অর্জন করে মানিকগঞ্জ সদরের ‘জাগীর জনতা এক্সপ্রেস’। বিভিন্ন বিভাগের রানার্সআপদের দেওয়া হয় ফ্রিজসহ আকর্ষণীয় পুরস্কার।
এ ছাড়া অংশগ্রহণকারী পাঁচটি নৌকাকে ১১ সিএফটি ফ্রিজ এবং আরও সাতটি নৌকার প্রতিনিধিকে ৮ সিএফটি ফ্রিজ দেওয়া হয়। ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’ পর্বে অংশ নেওয়া নৌকা ও ব্যক্তিদের জন্য ছিল টেলিভিশন, প্রেসার কুকার ও রাইস কুকারসহ বিভিন্ন পুরস্কার। প্রতিযোগিতায় ৭০ ও ৮০ হাত দীর্ঘ দুটি কলাগাছের ভেলাও অংশ নেয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য, খাদ্যমন্ত্রী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আফরোজা খানম রিতা। বিশেষ অতিথি ছিলেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর।
এ সময় জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, নৌকাবাইচ পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আ. ত. ম. জহীর আলম খান লোদী, সদস্য-সচিব মাসুদ পারভেজসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
‘মায়ের দোয়া’ নৌকার পরিচালক মজিবুর রহমান জানান, গত ৩০ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের বাগুয়ারচর গ্রাম থেকে নৌকাটি ব্রহ্মপুত্র নদ হয়ে মানিকগঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা করে। বিভিন্ন নদীপথ পাড়ি দিয়ে তিন দিনে এটি কালীগঙ্গার বেউথা ঘাটে পৌঁছে। শাল কাঠের তৈরি নৌকাটি নির্মাণে প্রায় ছয় লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। প্রায় এক বছর ধরে নৌকাটি তৈরির কাজ করা হয়। প্রথমবারের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েই চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় আনন্দিত নৌকার পরিচালক ও দলীয় সদস্যরা।
নৌকাবাইচ ঘিরে কালীগঙ্গার দুই পাড়ে কয়েক লাখ মানুষের উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। নদীর পাড়ের লোকজ মেলা, নাচ-গান ও বাদ্যযন্ত্রের তালে পুরো আয়োজন পরিণত হয় মিলনমেলায়। ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার নৌকাবাইচের সংস্কৃতি তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..