1. nskibria2012@gmail.com : যুগ যুগান্তর : যুগ যুগান্তর kibria
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১২ পূর্বাহ্ন

অর্থাভাবে অনিশ্চিত মেধাবী রুকসানার উচ্চশিক্ষা, অসুস্থ মায়ের চিকিৎসাও বন্ধের পথে

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৫ বার পঠিত

রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি:
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার সিংড়া গ্রামের মেধাবী শিক্ষার্থী রুকসানা খাতুন। এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে রাজশাহী সিটি কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে সে। ভালো ফলাফলে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখলেও দারিদ্র্যের কঠিন বাস্তবতায় সেই স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে। অর্থের অভাবে বই-খাতা কেনা, শহরে থাকার ব্যবস্থা করা কিংবা নিয়মিত যাতায়াতের খরচ জোগাড় করতে পারছে না তার পরিবার। এরই মধ্যে কিডনি রোগে আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসা নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

রুকসানার বাবা নূর মোহাম্মদ পেশায় একজন দিনমজুর। পরিবারের বসবাসের জন্য রয়েছে দুটি টিনের ঘর। ধোপাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় প্রতিবেশী ও শিক্ষকদের সহযোগিতায় পড়ালেখা চালিয়ে গেছে সে। এমনকি এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের টাকাও জোগাড় হয়েছিল অন্যের সহায়তায়। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও অধ্যবসায়ের ফলে জিপিএ-৫ অর্জন করে রুকসানা। পরে রাজশাহী সিটি কলেজে ভর্তির সুযোগ পায় সে।

তবে কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়াই যেন তার সংগ্রামের শেষ নয়, বরং নতুন এক সংকটের শুরু। পুঠিয়া থেকে প্রতিদিন রাজশাহী শহরে যাতায়াত করে পড়াশোনা করা তার পক্ষে কঠিন। আবার শহরে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হলে প্রয়োজন থাকা-খাওয়া, বই-খাতা ও অন্যান্য শিক্ষা উপকরণের খরচ। পরিবারের সামর্থ্য না থাকায় এসব ব্যয় মেটানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে রুকসানা ও তার স্বজনেরা।

রুকসানার ভালো ফলাফলের পর অর্থাভাবে কলেজে ভর্তি হওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়লে তার পাশে দাঁড়ান পুঠিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাশ। তাঁর সহযোগিতায় কলেজে ভর্তি হতে সক্ষম হয় রুকসানা। তবে ভর্তি-পরবর্তী পড়াশোনার ব্যয় বহনের জন্য এখনো স্থায়ী কোনো সহায়তার ব্যবস্থা হয়নি।

এদিকে রুকসানার মা রাফিয়া বেগম কয়েক বছর ধরে কিডনি রোগে ভুগছেন। গত ১৮ অক্টোবর পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গেলে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পরে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনার সামর্থ্য হয়নি পরিবারের। ফলে অসুস্থ মাকে বাড়িতে রেখেই দিন কাটাচ্ছেন দিনমজুর বাবা নূর মোহাম্মদ।

 

রুকসানার আরও তিন বোন রয়েছেন। তাঁদের বিয়ে হয়ে গেছে। নিজেদের সংসার চালাতে হিমশিম খাওয়ায় তাঁরাও ছোট বোনকে আর্থিকভাবে তেমন সহযোগিতা করতে পারছেন না। ফলে একদিকে মায়ের চিকিৎসা, অন্যদিকে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া—দুই সংকটই এখন পরিবারটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রুকসানা খাতুন বলে, “আমার আরও তিনটি বোন আছে। তাদের বিয়ে হয়ে গেছে। তাদের আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়, তাই তারা আমাকে সেভাবে সহযোগিতা করতে পারে না। কিন্তু আমি থেমে যেতে চাই না। পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই। লেখাপড়া করে বড় হয়ে পরিবার, দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে চাই।”

ধোপাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমান (মন্টু) বলেন, “বিদ্যালয়ে পড়ার সময় আমরা বিভিন্নভাবে রুকসানাকে সহযোগিতা করেছি। এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময়ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এই মুহূর্তে তার পাশে দাঁড়ালে সে অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবে।”

মেধা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকা সত্ত্বেও কেবল অর্থের অভাবে যেন থেমে না যায় রুকসানার শিক্ষাজীবন—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে অসুস্থ মায়ের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। রুকসানার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ এবং মায়ের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও মানবিক সহায়তাকারীদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..