1. nskibria2012@gmail.com : ns kibria : ns kibria
বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ০১:০০ পূর্বাহ্ন

বাস্তবতা ও জীবনের পূর্ণাঙ্গ চিত্র: এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এন এস কিবরিয়া

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬
  • ১৩ বার পঠিত
১৭

 

জীবন এক অনন্ত যাত্রা, যেখানে প্রতিটি বাঁকে আমরা নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করি, নতুন পাঠ গ্রহণ করি।

ধৈর্য, নিয়তি ও আল্লাহর বিচার

জীবনের পথে চলতে গিয়ে আমরা অসংখ্য অভিযোগ, কষ্ট আর বঞ্চনার সম্মুখীন হই। এই সময়টাতে সবচেয়ে বড় আশ্রয়স্থল হলো ধৈর্য। নিজের সব অভিযোগ, সব কষ্ট কেবল আল্লাহতালার কাছেই নালিশ হিসেবে পেশ করা উচিত।

ক্ষণস্থায়ী জীবন ও অহংকার

আমরা এই পৃথিবীতে চিরকালের জন্য আসিনি। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের একটা নির্দিষ্ট মেয়াদ আছে, যা প্রতিটা সেকেন্ডের সাথে ফুরিয়ে আসছে। আমরা আসলে মৃত্যুর কাছ থেকেই কিছুটা সময় ধার করে এই পৃথিবীতে বেঁচে আছি। তাহলে এই ক্ষণস্থায়ী জীবনে এত অহংকার, এত রাগ, এত হিংসা রেখে কী লাভ?

নিজের শান্তি ও আত্মসম্মান

অন্যের মন জুগিয়ে চলতে গিয়ে নিজের শান্তিটা নষ্ট করা উচিত নয়। নিজেকে সময় দিন। নিজের কর্ম নিয়ে ব্যস্ত থাকুন।

কর্মফল: প্রকৃতির নিখুঁত বিচার

প্রকৃতির এই নিয়মটি বড্ড নিখুঁত। আপনি আজ অন্যের জন্য যে গর্তটি খুঁড়ছেন, কাল সময়ের ফেরাতে সেই গর্তেই আপনাকে নিজেকে পড়তে হবে। এটাই চিরন্তন সত্য। আমরা অনেকেই ভাবি, আড়ালে আবডালে অন্যের ক্ষতি করলে বোধহয় কেউ তা জানতে পারবে না। নিজের স্বার্থের জন্য অন্যের পথ কাটলে, কাউকে টেনে নিচে নামালে কিংবা অন্যের জন্য গর্ত খুঁড়লে হয়তো আমরা জিতে যাব।

বিশ্বাসঘাতকতা ও অকৃতজ্ঞতা

আপনি যার জন্য নিজের সর্বোচ্চটা বিলিয়ে দেবেন, আপনার কঠিন সময়ে সেই মানুষটাই সবার আগে আপনার বিরুদ্ধে আঙুল তুলবে। সেটা পরিবারেই হোক, আত্মীয়তার মাঝে হোক, কিংবা খুব কাছের বন্ধু মহলে। আমরা যখন কারো বিপদে নিজের সাধ্যের বাইরে গিয়ে পাশে দাঁড়াই, তখন বুকভরা আশা থাকে যে মানুষটা অন্তত আমাদের এই অবদানের কদর করবে। কিন্তু বাস্তব বড় কঠিন।

অসহায়কে ঠকানো: এক চরম কাপুরুষতা

যারা প্রতিবাদ করতে জানে না, চড়া গলায় কথা বলার মতো সমাজ বা ক্ষমতার ব্যাকআপ থাকে না, অভাবের তাড়নায় তারা অনেক অন্যায় মুখ বুজে সহ্য করে নেয়। সামান্য একটু বেশি পাওয়ার আশায় বা পেটের দায়ে তারা সহজেই আপনার মিষ্টি কথায় কিংবা কূটচালের ফাঁদে বিশ্বাস করে ফেলে। তাই কোনো অসহায়, দিনমজুর বা খেটে খাওয়া মানুষকে ঠকিয়ে দেওয়াটা কোনো বীরত্ব নয়, বরং চরম কাপুরুষতা।

সহজ সরলতার মূল্য

বেশি সহজ সরল হলে জীবনে কিছু কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। আপনার মুখের উপর এমন কথা বলে ফেলবে, যেটা অন্য কাউকে বলার সাহস পায় না। আপনার নম্রতাকে অনেকেই আত্মবিশ্বাসের অভাব বলে ভুল বুঝতে পারে। সবসময় চুপচাপ থাকলে মানুষ ভাববে আপনি প্রতিবাদ করতে জানেন না।

কখন দ্বিতীয় সুযোগ দেওয়া বন্ধ করবেন? (এবং নিজেকে বেছে নেবেন)

জীবন আমাদের অনেক কিছু শেখায়, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—কখন মানুষকে ‘না’ বলতে হয়। নিচের এই পরিস্থিতিগুলো দেখা দিলে বুঝবেন, এবার অন্য কাউকে নয়, বরং নিজেকে বেছে নেওয়ার সময় এসেছে: যখন কেউ বারবার শুধু ক্ষমা চায়, কিন্তু নিজেকে বদলানোর বিন্দুমাত্র চেষ্টা করে না।

পুরুষের আসল বীরত্ব: ধৈর্য, সাহস ও সৎচরিত্রে

মানুষের ইতিহাসে বীরত্বকে অনেক সময় শুধু শারীরিক শক্তি, যুদ্ধজয় বা ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, কিন্তু প্রকৃত অর্থে একজন পুরুষের আসল বীরত্ব প্রকাশ পায় তার ধৈর্য, সাহস ও সৎচরিত্রে।

ধৈর্য একজন পুরুষের সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি।

সাহসও প্রকৃত বীরত্বের অপরিহার্য অংশ।

সৎচরিত্র একজন পুরুষকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।

ইতিহাসের বহু মহান ব্যক্তির জীবন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তাদের সাফল্যের পেছনে ধৈর্য, সাহস ও সততার বড় ভূমিকা ছিল। তাঁরা কেবল শক্তির মাধ্যমে নয়, নৈতিক দৃঢ়তা ও মানবিক গুণাবলীর মাধ্যমে মানুষের হৃদয় জয় করেছেন।

বার্ধক্য: প্রস্তুতিহীনতার মূল্য

বার্ধক্য হঠাৎ আসে না, ধীরে ধীরে তৈরি হয়।

১. সন্তানই ভরসা—এ ধারণা ঝুঁকিপূর্ণ: সন্তানকে ভালোবাসুন, তার জন্য ত্যাগ করুন, কিন্তু নিজের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ তার হাতে ছেড়ে দেবেন না।

২. জীবনসঙ্গীর উপর শতভাগ নির্ভর করবেন না: আজ যিনি আপনার পাশে আছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনিও শারীরিক সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হবেন।

৩. ভাইবোনের সম্পর্ক থাকবে, কিন্তু বাস্তবতাও থাকবে: জীবনের এক পর্যায়ে সবাই নিজ নিজ পরিবার ও দায়িত্ব নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

৪. উপকার করুন, কিন্তু হিসাব করে: মানুষের জন্য কাজ করা মহৎ গুণ।

৫. শরীরের প্রতি অবহেলা একদিন মূল্য আদায় করবে: অপর্যাপ্ত ঘুম, অনিয়মিত জীবনযাপন, ব্যায়ামের অভাব, অস্বাস্থ্যকর খাবার—এসবের প্রভাব একদিনে বোঝা যায় না।

৬. প্রয়োজনীয় কাজগুলো পিছিয়ে দেবেন না: আজ যে কারণে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাচ্ছেন না, হাঁটছেন না, সঞ্চয় করছেন না—সেই অজুহাতগুলো একদিন আপনার কাছেই ফিরে আসবে।

৭. নিজের যত্ন নেওয়া স্বার্থপরতা নয়: বরং এটি দায়িত্বশীলতার পরিচয়।

মনে রাখবেন, বার্ধক্যকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ভয় পাওয়ার বিষয় হলো—প্রস্তুতিহীন বার্ধক্য।

শরীরকে অবহেলা করার বিল একদিন না একদিন দিতেই হবে!

যখন শরীর ভালো থাকে, তখন আমরা খুব কমই তার মূল্য বুঝি। রাত জেগে থাকি, অনিয়মিত খাবার খাই, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকি, ব্যায়াম এড়িয়ে যাই। তারপরও যখন সকালে উঠে কাজ করতে পারি, তখন মনে হয়—সবকিছু ঠিকই আছে। কিন্তু শরীরের একটা নিজস্ব নিয়ম আছে।

অনেক মানুষ ক্যারিয়ার, ব্যবসা বা অর্থ উপার্জনের পেছনে এতটাই ছুটতে থাকে যে, নিজের শরীরের জন্য সময়ই বের করতে পারে না।

ঘুমকে বিলাসিতা নয়, প্রয়োজন হিসেবে দেখুন। কারণ ভালো ঘুম ছাড়া সুস্থ শরীর তৈরি হয় না। প্রতিদিন শরীরকে নড়াচড়া করান।

কেউ আপনাকে গুরুত্ব না দিলে বোঝার ১৮টি সহজ উপায়!

১. আপনার সাথে করা পরিকল্পনা হুটহাট বাতিল করে অন্য কাউকে বেশি প্রাধান্য দেয়। ২. কেবল নিজের দরকারে বা কোনো প্রয়োজনে আপনার খোঁজ নেয়। ৩. আপনার কথা মন দিয়ে শোনে না এবং আপনার জীবনের জরুরি তথ্য মনে রাখে না। ৪. আপনার কষ্ট বা অনুভূতিকে পাত্তা না দিয়ে খাটো করে দেখে।

যদি এই লক্ষণগুলো বারবার আপনার জীবনে দেখা যায়, তাহলে বুঝতে হবে সেই ব্যক্তি আপনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।

উপসংহার

জীবন এক জটিল সমীকরণ, যেখানে প্রতিটি চলক আমাদের অস্তিত্বের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

আমার নাম-মিজানুর রহমান মিজান, ইনিভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্ট ও পলিসি কনসালটেন্ট।

জীবনের ক্ষণস্থায়ীত্ব এবং মানবিক মূল্যবোধের গুরুত্ব

আমরা এই পৃথিবীতে চিরকালের জন্য আসিনি। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ আছে, যা প্রতিটা সেকেন্ডের সাথে ফুরিয়ে আসছে। আমরা আসলে মৃত্যুর কাছ থেকেই কিছুটা সময় ধার করে এই পৃথিবীতে বেঁচে আছি।

তাই যতো দিন বেঁচে আছেন, সবার সাথে ভালো ব্যবহার করুন। এই সাধারণ উপদেশটি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কারো মনে কষ্ট দিয়ে কথা বলবেন না। একটি অপ্রিয় বাক্য বা কঠোর শব্দ অন্যের মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে, যা হয়তো সারাজীবনেও শুকায় না। সামান্য কারণে কারো সাথে সম্পর্ক নষ্ট করবেন না।

আত্মসম্মান ও আত্মনির্ভরশীলতার পথ

অন্যের মন জুগিয়ে চলতে গিয়ে নিজের শান্তিটা নষ্ট করা কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। এই পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষেরই নিজস্ব মূল্যবোধ, স্বপ্ন এবং আকাঙ্ক্ষা থাকে।

নিজের লক্ষ্য ঠিক করুন, চুপচাপ পরিশ্রম করুন, আর নিজের উন্নতিটাকে নিজের হাতেই গড়ে তুলুন। এই বাক্যগুলো সাফল্যের মূলমন্ত্র। নিরন্তর প্রচেষ্টা এবং আত্মবিশ্বাসই আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে।

কর্মফল: মহাবিশ্বের নিজস্ব বিচারব্যবস্থা

প্রকৃতির এই নিয়মটি বড্ড নিখুঁত। আপনি আজ অন্যের জন্য যে গর্তটি খুঁড়ছেন, কাল সময়ের ফেরাতে সেই গর্তেই আপনাকে নিজেকে পড়তে হবে।

কেন কর্মফল থেকে পালানো অসম্ভব? এর কারণ হলো, যা দেবেন, তাই ফেরত পাবেন: আপনি বাতাসে একটা বল ছুড়ে মারলে সেটা যেমন আপনার দিকেই ফিরে আসে, মানুষের কর্মও ঠিক তেমনই। কাউকে দেওয়া মানসিক কষ্ট, ধোঁকা বা অন্যায়—সবকিছুই সুদে-আসলে একদিন নিজের কাছেই ফিরে আসে।

তাই আসুন, হিংসা আর প্রতিহিংসার পথ পরিহার করি। এই আহ্বানটি একটি শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল সমাজের ভিত্তি স্থাপন করে। কাউকে সাহায্য করতে না পারি, অন্তত কারো ক্ষতির কারণ না হই।

বিশ্বাসঘাতকতা ও অকৃতজ্ঞতা: সম্পর্কের কঠিন বাস্তবতা

আপনি যার জন্য নিজের সর্বোচ্চটা বিলিয়ে দেবেন, আপনার কঠিন সময়ে সেই মানুষটাই সবার আগে আপনার বিরুদ্ধে আঙুল তুলবে। এই বাক্যটি সম্পর্কের এক কঠিন এবং প্রায়শই বেদনাদায়ক বাস্তবতা তুলে ধরে।

এর পেছনে মূল কারণগুলো কী জানেন? এর কয়েকটি প্রধান কারণ হলো: অকৃতজ্ঞতা: কিছু মানুষের স্বভাবই এমন, কাজ ফুরিয়ে গেলে তারা পেছনের সব ত্যাগ ভুলে যায়।

“কাউকে ততটুকুই আপন ভাবুন, যতটুকু ভাবলে সে মাথায় চড়ে বসবে না। আর উপকার করুন শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, মানুষের কাছ থেকে প্রতিদানের আশা ছেড়ে দিন।

অসহায়কে ঠকানো: নৈতিকতার চরম লঙ্ঘন

যারা প্রতিবাদ করতে জানে না, চড়া গলায় কথা বলার মতো সমাজ বা ক্ষমতার ব্যাকআপ থাকে না, অভাবের তাড়নায় তারা অনেক অন্যায় মুখ বুজে সহ্য করে নেয়।

কিন্তু… ঠকিয়ে যা পাবেন, তা হজম করা কিন্তু খুব কঠিন! হয়তো সাময়িকভাবে আপনি তাকে ঠকিয়ে কিছু টাকা বাঁচিয়ে নিলেন, কিংবা নিজের কোনো স্বার্থ উদ্ধার করে নিলেন।

শেষ কথা: কাউকে সাহায্য করতে না পারেন, অন্তত কাউকে ঠকাবেন না। বিশেষ করে তাদের, যাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো আল্লাহ ছাড়া আর কেউ নেই।

সহজ সরলতার মূল্য: জীবনের কঠিন পাঠ

বেশি সহজ সরল হলে জীবনে কিছু কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এই বাক্যটি সরলতার নেতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে। আপনার মুখের উপর এমন কথা বলে ফেলবে, যেটা অন্য কাউকে বলার সাহস পায় না। সরলতার কারণে মানুষ প্রায়শই অন্যের দ্বারা অপমানিত হয়। আপনার নম্রতাকে অনেকেই আত্মবিশ্বাসের অভাব বলে ভুল বুঝতে পারে। নম্রতা একটি গুণ হলেও, কিছু মানুষ এটিকে দুর্বলতা হিসেবে দেখে। সবসময় চুপচাপ থাকলে মানুষ ভাববে আপনি প্রতিবাদ করতে জানেন না। নীরবতা কখনো কখনো ভুল বার্তা দিতে পারে। কেউ ভুল করলে আপনাকেই দোষী বানানোর চেষ্টা করবে।

কখন দ্বিতীয় সুযোগ দেওয়া বন্ধ করবেন? (এবং নিজেকে বেছে নেবেন)

জীবন আমাদের অনেক কিছু শেখায়, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—কখন মানুষকে ‘না’ বলতে হয়। এই বাক্যটি আত্ম-সম্মান এবং আত্ম-মূল্যায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে। নিচের এই পরিস্থিতিগুলো দেখা দিলে বুঝবেন, এবার অন্য কাউকে নয়, বরং নিজেকে বেছে নেওয়ার সময় এসেছে: যখন কেউ বারবার শুধু ক্ষমা চায়, কিন্তু নিজেকে বদলানোর বিন্দুমাত্র চেষ্টা করে না।

মনে রাখবেন: কাউকে দ্বিতীয় সুযোগ দেওয়া মানেই এই নয় যে আপনার আত্মসম্মানকে তারা বারবার পা দিয়ে মাড়িয়ে যাবে।

পুরুষের আসল বীরত্ব: ধৈর্য, সাহস ও সৎচরিত্রে এক গভীর বিশ্লেষণ

মানুষের ইতিহাসে বীরত্বকে অনেক সময় শুধু শারীরিক শক্তি, যুদ্ধজয় বা ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, কিন্তু প্রকৃত অর্থে একজন পুরুষের আসল বীরত্ব প্রকাশ পায় তার ধৈর্য, সাহস ও সৎচরিত্রে।

ধৈর্য একজন পুরুষের সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাধা, ব্যর্থতা ও হতাশা আসে, কিন্তু যারা ধৈর্য ধরে এগিয়ে যায় তারাই শেষ পর্যন্ত সফল হয়।

সাহসও প্রকৃত বীরত্বের অপরিহার্য অংশ। সাহস মানে শুধু বিপদের মুখোমুখি হওয়া নয়, বরং সত্য কথা বলার ক্ষমতা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তি এবং নিজের ভুল স্বীকার করার মানসিকতা।

সৎচরিত্র একজন পুরুষকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে। অর্থ, ক্ষমতা কিংবা খ্যাতি ক্ষণস্থায়ী হতে পারে, কিন্তু চরিত্র মানুষের প্রকৃত পরিচয় বহন করে। এই বাক্যটি চরিত্রের চিরস্থায়ী মূল্য তুলে ধরে।

ইতিহাসের বহু মহান ব্যক্তির জীবন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তাদের সাফল্যের পেছনে ধৈর্য, সাহস ও সততার বড় ভূমিকা ছিল। তাঁরা কেবল শক্তির মাধ্যমে নয়, নৈতিক দৃঢ়তা ও মানবিক গুণাবলীর মাধ্যমে মানুষের হৃদয় জয় করেছেন। এই বাক্যটি ঐতিহাসিক উদাহরণ দিয়ে নৈতিকতার গুরুত্ব বোঝায়।

বার্ধক্য: একটি অনিবার্য বাস্তবতা এবং প্রস্তুতির গুরুত্ব

বার্ধক্য হঠাৎ আসে না, ধীরে ধীরে তৈরি হয়। এই বাক্যটি বার্ধক্যের প্রক্রিয়াগত দিকটি তুলে ধরে।

১. সন্তানই ভরসা—এ ধারণা ঝুঁকিপূর্ণ: সন্তানকে ভালোবাসুন, তার জন্য ত্যাগ করুন, কিন্তু নিজের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ তার হাতে ছেড়ে দেবেন না।

২. জীবনসঙ্গীর উপর শতভাগ নির্ভর করবেন না: আজ যিনি আপনার পাশে আছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনিও শারীরিক সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হবেন।

৩. ভাইবোনের সম্পর্ক থাকবে, কিন্তু বাস্তবতাও থাকবে: জীবনের এক পর্যায়ে সবাই নিজ নিজ পরিবার ও দায়িত্ব নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

৪. উপকার করুন, কিন্তু হিসাব করে: মানুষের জন্য কাজ করা মহৎ গুণ।

৫. শরীরের প্রতি অবহেলা একদিন মূল্য আদায় করবে: অপর্যাপ্ত ঘুম, অনিয়মিত জীবনযাপন, ব্যায়ামের অভাব, অস্বাস্থ্যকর খাবার—এসবের প্রভাব একদিনে বোঝা যায় না।

৬. প্রয়োজনীয় কাজগুলো পিছিয়ে দেবেন না: আজ যে কারণে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাচ্ছেন না, হাঁটছেন না, সঞ্চয় করছেন না—সেই অজুহাতগুলো একদিন আপনার কাছেই ফিরে আসবে।

৭. নিজের যত্ন নেওয়া স্বার্থপরতা নয়: বরং এটি দায়িত্বশীলতার পরিচয়।

মনে রাখবেন, বার্ধক্যকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ভয় পাওয়ার বিষয় হলো—প্রস্তুতিহীন বার্ধক্য। এই বাক্যটি বার্ধক্যের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে উৎসাহিত করে।

শরীরকে অবহেলা করার বিল একদিন না একদিন দিতেই হবে!

যখন শরীর ভালো থাকে, তখন আমরা খুব কমই তার মূল্য বুঝি। এই বাক্যটি স্বাস্থ্যের প্রতি আমাদের উদাসীনতা তুলে ধরে। রাত জেগে থাকি, অনিয়মিত খাবার খাই, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকি, ব্যায়াম এড়িয়ে যাই। তারপরও যখন সকালে উঠে কাজ করতে পারি, তখন মনে হয়—সবকিছু ঠিকই আছে। এই বাক্যটি আমাদের ভুল ধারণার কথা বলে। কিন্তু শরীরের একটা নিজস্ব নিয়ম আছে।

অনেক মানুষ ক্যারিয়ার, ব্যবসা বা অর্থ উপার্জনের পেছনে এতটাই ছুটতে থাকে যে, নিজের শরীরের জন্য সময়ই বের করতে পারে না। তারা ভাবে, “এখন পরিশ্রম করি, পরে নিজের যত্ন নেব।” কিন্তু বাস্তবতা হলো, ভবিষ্যতের জন্য যে শরীরটা দরকার, সেটাকেই যদি আজ অবহেলা করা হয়, তাহলে সেই ভবিষ্যৎ উপভোগ করাও কঠিন হয়ে যায়।

ঘুমকে বিলাসিতা নয়, প্রয়োজন হিসেবে দেখুন। কারণ ভালো ঘুম ছাড়া সুস্থ শরীর তৈরি হয় না। এই বাক্যটি ঘুমের গুরুত্ব বোঝায়। প্রতিদিন শরীরকে নড়াচড়া করান। ব্যায়াম শুধু শরীর নয়, মনকেও শক্তিশালী করে।

কেউ আপনাকে গুরুত্ব না দিলে বোঝার ১৮টি সহজ উপায়!

১. আপনার সাথে করা পরিকল্পনা হুটহাট বাতিল করে অন্য কাউকে বেশি প্রাধান্য দেয়। এটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে আপনি তাদের কাছে অগ্রাধিকার নন। ২. কেবল নিজের দরকারে বা কোনো প্রয়োজনে আপনার খোঁজ নেয়। এই ধরনের সম্পর্ক স্বার্থপরতার উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। ৩. আপনার কথা মন দিয়ে শোনে না এবং আপনার জীবনের জরুরি তথ্য মনে রাখে না। এটি আপনার প্রতি তাদের উদাসীনতা প্রকাশ করে। ৪. আপনার কষ্ট বা অনুভূতিকে পাত্তা না দিয়ে খাটো করে দেখে। আপনার আবেগ তাদের কাছে মূল্যহীন।

যদি এই লক্ষণগুলো বারবার আপনার জীবনে দেখা যায়, তাহলে বুঝতে হবে সেই ব্যক্তি আপনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।

জীবনের পূর্ণাঙ্গ উপলব্ধি

জীবন এক জটিল সমীকরণ, যেখানে প্রতিটি চলক আমাদের অস্তিত্বের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

এন এস কিবরিয়া
দৈনিক যুগ যুগান্তর পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক যে যে টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিঝিল ঢাকা ১০০০

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..