1. nskibria2012@gmail.com : যুগ যুগান্তর : যুগ যুগান্তর kibria
শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন

ময়মনসিংহে গ্যাস না পেয়ে মহাসড়কে অবরোধ সিএনজি চালকদের

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬
  • ৯৮ বার পঠিত

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

যাত্রী পরিবহনে না নেমে সড়কেই বিক্ষোভ করেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকেরা।
যাত্রী পরিবহনে না নেমে সড়কেই বিক্ষোভ করেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকেরা।

ভোরে গ্যাস নেওয়ার আশায় ঘর থেকে বের হলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও গ্যাস পাননি সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকেরা। ক্ষোভে যাত্রী পরিবহন বন্ধ রেখে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। প্রায় আড়াই ঘণ্টার অবরোধে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে কর্মস্থলগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী ও দূরপাল্লার যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ময়মনসিংহ নগরের দিগারকান্দা এলাকায় চালকেরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে গ্যাস সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিভিন্ন স্লোগানে তারা জানান, কয়েক দিন ধরে জেলার বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকায় তাদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।

চালকদের ভাষ্য, গ্যাসসংকট এখন আর এক দিনের নয়। কয়েক দিন ধরে ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভোর থেকেই দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অনেক চালক গ্যাস না নিয়েই ফিরে যাচ্ছেন। এতে প্রতিদিনের আয়ের বড় একটি অংশ হারাতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অবরোধের প্রভাবও বাড়তে থাকে। ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়ে। মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। এর প্রভাব আশপাশের সড়কেও ছড়িয়ে পড়ে। অফিসগামী অনেকেই সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারেননি। শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নিয়ে বিপাকে পড়েন। কেউ কেউ বাস থেকে নেমে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে গন্তব্যের দিকে রওনা দেন। জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া যাত্রীদের ভোগান্তি ছিল সবচেয়ে বেশি।

যাত্রী পরিবহনে না নেমে সড়কেই বিক্ষোভ করেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকেরা।
যাত্রী পরিবহনে না নেমে সড়কেই বিক্ষোভ করেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকেরা।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া চালক ইদ্রিস আলী বলেন, “গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করতেই দিনের অর্ধেক সময় চলে যায়। এরপর আর আগের মতো ট্রিপ দেওয়া যায় না। আয় কমে গেছে, সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”

আরেক চালক ইকবাল হোসাইন বলেন, নিয়মিত যাত্রী পরিবহন করতে না পারায় যেমন তাদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি সাধারণ মানুষও নির্ভরযোগ্য পরিবহনসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। গ্যাস সরবরাহের এই সংকট নতুন নয়। মাঝেমধ্যেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হলেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। দ্রুত ও নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন বলেন, ময়মনসিংহ শহর ও আশপাশের এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা অন্যতম প্রধান গণপরিবহন। এই খাতে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে শুধু চালকদের আয়ই কমে না, পুরো যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়। এতে নগর ও জেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ে।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিব্বিরুল আহমেদ বলেন, অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনরত চালকদের সঙ্গে আলোচনা করে। পরে বেলা ১২টার দিকে চালকেরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..