নিজস্ব প্রতিবেদক :
সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের মানববন্ধন ও সমাবেশ
নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস আজ বুধবার। এ উপলক্ষে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে নেতারা বলেন, ইয়াসমিনের ওপর বর্বরোচিত ঘটনার পর কেটে গেছে ২৭ বছর। কিন্তু নারীর প্রতি সহিংসতা কমেনি বরং বেড়েছে ভয়াবহভাবে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২১ সালে সারাদেশে ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন মোট ১ হাজার ৩২১ জন নারী। এর মধ্যে ধর্ষণ পরবর্তী হত্যার শিকার হয়েছেন ৪৭ জন এবং আত্মহত্যা করেছেন ৯ জন। একটি ঘটনা বর্বরতা-বীভৎসতায় আরেকটিকে ছাড়িয়ে যায়। সমতলে-পাহাড়ে, ঘরে-বাইরে, পথে-গণপরিবহনে, কর্মক্ষেত্রে-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমন কোন স্থান নাই যেখানে নারী নিপীড়নের শিকার হয় না। বর্তমান সময়ে গণপরিবহন একটা আতঙ্কের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। রাজধানীতে গণপরিবহনে গত ছয় মাসে ৬৩.৪ শতাংশ নারী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। গত এক মাসে কয়েকটি ধর্ষণের খবর পত্রিকাতেই এসেছে। সময় যত এগোচ্ছে ততই শিক্ষার্থী, কর্মজীবী বা গৃহিণী নারীর গণপরিবহন ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গণপরিবহনে নিরাপত্তা না থাকলে নারীর অগ্রযাত্রা ব্যাহত হবে। কিন্তু নারীর জন্য নিরাপদ গণপরিবহনের দাবি বারবার অবহেলিত হচ্ছে সরকার ও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে। এমনকি গণপরিবহনে ঘটে যাওয়া কোন নির্যাতনের উল্লেখযোগ্য বিচারও পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদকরুখশানা আফরোজ আশা। বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম মোহাম্মদপুর থানার সাধারণ সম্পাদক সেলিনা আক্তার, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি লাবনী বন্যা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট ঢাকা নগর শাখার দপ্তর সম্পাদক সোহাগী সামিয়া। সমাবেশ পরিচালনা করেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম ঢাকা নগরের সংগঠক সুস্মিতা মরিয়ম।
বক্তারা আরও বলেন, নারী-শিশু নির্যাতন-ধর্ষণ-হত্যা এসব অপরাধের বিচার না হওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় কারণ অপরাধীর সরকার প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতি। অর্থ ও ক্ষমতার শক্তি দিয়ে এরা সকল অপরাধ থেকে পার পেয়ে যায়। মাদক-পর্ণোগ্রাফি নারী শিশু পাচার-নির্যাতন-ধর্ষণ-হত্যা এসব অপরাধমূলক ঘটনার ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের নেতা কর্মীদের যুক্ততা প্রায়ই সামনে আসে। ক্ষমতায় থাকলে যে কোন অপরাধ করে পার পাওয়া যাবে এই তাদের মনোভাব এবং বাস্তবতা। আর যেখানে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নেই, সেখানে নারী-শিশু নির্যাতন বাড়বে এটাই স্বাভাবিক।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, নারী শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সামাজিক প্রতিরোধ প্রয়োজন। ইয়াসমিন ধর্ষণ ও হত্যার বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলন আমাদের সেই শিক্ষা দেয়
প্রসঙ্গত, ১৯৯৫ সালের ২৩ আগস্ট রাতে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে ইয়াসমিন পুলিশ কর্তৃক ধর্ষিত ও হত্যার শিকার হয়েছিল। পরের দিন দিনাজপুরে প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশ গুলি চালিয়ে হত্যা করে সাতজনকে। এরপর আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এ আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ১৯৯৭ সালে বিচারে ধর্ষক ও খুনিদের ফাঁসির রায় এবং ২০০৪ সালে তা কার্যকর হয়। ইয়াসমিন ধর্ষণ ও হত্যার বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলন ও বিচারের রায় মানুষের মনে এক প্রতিবাদী চেতনার জন্ম দেয়। এই আন্দোলন এবং হত্যার স্মরণে প্রতিবছর ২৪ আগস্ট পালিত হয় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস।
Leave a Reply