1. nskibria2012@gmail.com : ns kibria : ns kibria
শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ন

সিরাজগঞ্জ চলনবিলে হাঁসপালন দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৪ বার পঠিত
১৮

মির্জা আব্দুর রব বুলবুল, জেলা প্রতিনিধি (সিরাজগঞ্জ) ঃ- নদী, খাল ও বিল এতিনে
গঠিত হয় চলনবিল। পুরো চলনবিল এলাকার খোলা জায়গা ও পানি হাসঁপালনের
উপযুক্ত জায়গা বলে হাঁসপালনকারী খামারীরা জানান। বাংলাদেশের ঐতিহাসিক
চলনবিল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর সারা দেশের মানুষের কাছে শস্য ও মৎস্য ভান্ডার
হিসেবে সু-পরিচিত। চলনবিলের উপজেলা হ’ল তাড়াশ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর,
ফরিদপুর ,ভাঙ্গুড়া, চাটমহর, গুরুদাসপুর, সিংড়া ও আত্রাই। সরেজমিনে তথ্য
অনুসন্ধানে দেখা যায়, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সহ¯্রাধিক বেকার যুবক/যুবতীরা
হাঁসপালন করে লাভবান হওয়ায়, এ এলাকায় দিন দিন হাঁসপালন করা জনপ্রিয় হয়ে
উঠছে বলে এলাকাবাসী এ প্রতিবেদককে জানান। এছাড়া চলনবিল এলাকার বিভিন্ন
স্থানে ৩শতাধিক হাঁসের বাচ্চা ফুটানোর হ্যাচারী রয়েছে। এজন্য হাঁসের বাচ্চা
পাওয়া সহজলভ্য হয়েছে। যারফলে হাঁস পালন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং হাঁসপালন
করে অনেক বেকার ছেলে-মেয়ে স্বাবলম্বী হচ্ছে, তারা নতূন কর্মস্থানের সুযোগ
পেয়েছে বলে জানান। চলনবিল এলাকার স্ব-স্ব প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তাদের তথ্য মতে
চলনবিল এলাকায় ১৮শতাধিক তালিকাভূক্ত হাঁসখামারী রয়েছেন বলে জানান। এছাড়া
তালিকার বাহিরে ব্যক্তি পর্য্যায়ে আরোও ১সহ¯্রাধিক থেকে ২ সহা¯্রাধিক খামারী
গড়ে উঠেছে বলে জানা যায়। এসব খামারীদের পাশাপাশি খামারকে কেন্দ্র করে প্রত্যক্ষ
ও পরোক্ষভাবে ৫০ থেকে ৬০ হাজার বেকার যুবক/যুবতীদের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি
হয়েছে। ১টি বাচ্চা হাঁস ৬মাস বয়স হলে ডিম দেওয়া শুরু করে। শুষ্ক মৌসুমে
হাঁসকে একটু বেশি খামার দিতে হয়, হাঁসের প্রধান খামার বিলের শামুক,
ঝিনুক, গম, খুদ, ধান, ছোট ছোট জাতীয় নানা রকমের মাছ এবং ফিড মিলের
হাঁসের ফিড। তবে বর্যা মৌসুমে হাঁসের খাবার কম লাগে, কারণ এ সময়ে বিলে
পর্যাপ্ত পরিমাণ শামুক-ঝিনুক ও ছোট ছোট মাছ পাওয়া যায়। ১টি পাতিহাঁস
বছরে ২৮০ থেকে ৩২০টি ডিম দেয়, রাজহাঁস ১০ থেকে ১৫টি ডিম দেয়। একজন
খামারী ১০০টি হাঁস থেকে যাবতীয় খরচ বাদে বছরে ১লক্ষাধিক টাকা আয় করে
থাকেন। ১টি খাঁকি ক্যামবেল হাঁসের বাচ্চার দাম-২৫/-টাকা থেকে ৩৫ টাকা
এছাড়া অন্যান্য হাঁসের ১টি বাচ্চার দাম-১৩০/- টাকা থেকে ১৫০/-টাকা বলে
খামারীরা জানান। বর্তমানে ১টি পাতিহাঁসের বাজার মূল্য-৬০০ থেকে ৭০০ টাকা
এবং ১টি রাজহাঁসের বাজার মূল্য-১০০০/-টাকা থেকে ২৫০০/- টাকা এবং ১টি
পিকিং স্টার হাঁসের দাম-১৫০০/-টাকা থেকে ২৫০০/-টাকা বলে জানান। সরেজমিনে
তথ্য অনুসন্ধানে গেলে কথা হয় কহিত গ্রামের মোঃ তাজ উদ্দিন,মোঃ আব্দুল
মান্নান ও মোছাঃ মনিরা খাতুন তুলি এর সাথে তারা বলেন সরকারী তালিকাভূক্ত
খামার ছাড়াও এ এলাকায় ২২লক্ষাধিক হাঁস রয়েছে বলেন জানান। হাঁসপালন করে
চলনবিল এলাকার অনেক লোকের বেকারত্ব দূর হয়েছে, পাশাপাশি আয় বেড়েছে। হাঁস
ও হাঁসের ডিম এলাকার মানুষের চাহিদা মেটানোর পর দেশের বিভিন্ন স্থানে
বাজারজাত করে তারা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে। এছাড়া দেশের সার্বিক
অর্থনীতিতে হাঁসপালন বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে তারা এ প্রতিবেদককে জানান।
হাঁসের মাংস ও ডিম বিল পাড়ের স্থানীয় জনসাধারণের আমিষের ঘাটতি পূরণে
অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে তারা তাদের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ এলাকার হোটেল ও

রেস্টুরেন্টে হাঁসের মাংসের চাহিদা প্রচুর। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন
হাঁসের মাংস খাওয়ার জন্য এ এলাকায় আসে বলে হোটেল মালিক মোঃ আবু সাঈদ
এ প্রতিবেদককে জানান। চলনবিল বিভিন্ন স্থানে পৃথক পৃথকভাবে গড়ে উঠেছে এ
সকল খামার। এ এলাকায় চার ধরণের হাঁস পালন করেন খামারীরা এর মধ্যে খাঁকি
ক্যামবেল জাতের হাঁস, ইন্ডিয়ান রানা, চায়না জাতের হাঁস ও পিকিং স্টার জাতের
হাঁসপালন করছেন খামারীরা। বেশীর ভাগ খামারীরা জাল দিয়ে ঘর তৈরী করে হাঁসপালন
করছেন। অনেক খামারী আছে যারা প্রতিবছর এ সকল খামার থেকে ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকা
আয় করে থাকেন। এ ব্যাপারে তাড়াশ উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ
শরিফুল ইসলাম এর সাথে সরাসরি যোগাযোগ করা হলে তিনি অত্যন্ত আনরিকতার
সাথে বলেন হাঁসপালনে খামারীদের সরকারীভাবে ক্ষূদ্র নৃগোষ্ঠী জনসাধারণকে হাঁস
পালনে উদ্বুদ্ধকরণের জন্য ৬০০ জন খামারীকে ২০টি হাঁস এবং ৭৫ কেজি করে হাঁসের
খাবার ও হাঁসের চিকিৎসা ও প্রশিক্ষণ সেবা সহ বিভিন্ন ধরণের সহযোগিতা
দেওয়া হচ্ছে। শুধু তাড়াশ উপজেলায় সরকারী তালিকাভূক্ত ২০০শতাধিক হাঁসখামারী ও ৪
লক্ষাধিক হাঁস রয়েছে বলে জানান। তাই প্রতিনিয়ত এ এলাকায় হাঁস খামারীদের
সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলনবিল এলাকায় বাণিজ্যিক খামার ছাড়াও ব্যক্তি
পর্য্যায়ে অনেক খামারী রয়েছেন বলে জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..