1. nskibria2012@gmail.com : ns kibria : ns kibria
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২২ পূর্বাহ্ন

পঞ্চগড়ে লাইসেন্সবিহীন প্যাথলজিতে লিভার পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট নিয়ে প্রতারণা, সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৬ বার পঠিত
২৯

মোঃ মোহন মিয়া

পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ে স্বাস্থ্য বিভাগের লাইসেন্স ছাড়া পরিচালিত একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে লিভার পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট দিয়ে রোগীর সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রোগী জেলা সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ভুয়া রিপোর্টের বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা অবিলম্বে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য বিভাগ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্চগড় জেলা শহরের পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মহাসড়কের আনোয়ার প্লাজায় অবস্থিত ‘মেডিকেয়ার ডায়াগনেস্টিক সেন্টার’-এ। ভুক্তভোগী রোগীর নাম সাইদুজ্জামান রেজা (৪৪)।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৯ আগস্ট (রবিবার) লিভার আক্রান্ত রোগী সাইদুজ্জামান রেজা পঞ্চগড় মকবুলার রহমান ডায়াবেটিক হাসপাতালে লিভার পরীক্ষা করান। সেখানে তাঁর ‘এসজিপিটি’ (SGPT) লেভেল ১২৭ U/L ধরা পড়ে। লিভারের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে নিশ্চিত হওয়ার জন্য তিনি আবারও পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেন। ওই দিনই তিনি মেডিকেয়ার ডায়াগনেস্টিক সেন্টারে রক্তের নমুনা দেন। তবে সেখানে দেওয়া রিপোর্টে এসজিপিটি পাওয়া যায় মাত্র ২৬.৭ U/L।

দুই প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টের বিশাল ব্যবধান দেখে সাইদুজ্জামান রেজার সন্দেহ জাগে। সঠিক তথ্য জানতে তিনি আবারও চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। চিকিৎসকের পরামর্শে পরদিন ১০ আগস্ট (সোমবার) পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে তৃতীয়বারের মতো এসজিপিটি পরীক্ষা করান। সেখানে রিপোর্টে রক্তে এসজিপিটির মাত্রা আসে ১২১ U/L। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল ও ডায়াবেটিক হাসপাতালের রিপোর্টের সঙ্গে মেডিকেয়ার ডায়াগনেস্টিক সেন্টারের রিপোর্টে চরম অসঙ্গতি দেখা দেওয়ায় সাইদুজ্জামান রেজা প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হন। এ নিয়ে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে তিনি মেডিকেয়ার সেন্টারের বিরুদ্ধে সিভিল সার্জন বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে মেডিকেয়ার ডায়াগনেস্টিক সেন্টারের পরিচালক সৈয়দা নাসরিন মিনুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। নিজেকে সাবেক বিচারপতি মনসুর এবং স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের আত্মীয় পরিচয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের বিষয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। তবে একপর্যায়ে তিনি দাবি করেন, তাঁদের সেন্টারের দেওয়া রিপোর্টে কোনো ভুল নেই।

সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে জানা যায়, লিভার প্রদাহ নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে ‘ফুল অটোমেটিক’ মেশিন ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও মেডিকেয়ার সেন্টারে এখনো পুরোনো ‘সেমি অটো’ মেশিন দিয়ে পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। আরও আশঙ্কাজনক তথ্য হলো—পঞ্চগড় ডায়াবেটিক সমিতি ও মেডিকেয়ার সেন্টার, দুটিতেই টেকনোলজিস্ট হিসেবে কর্মরত আছেন আবুল বাশার নামের এক ডিপ্লোমাধারী ব্যক্তি।

একই টেকনোলজিস্ট দুটি আলাদা প্রতিষ্ঠানে কাজ করে একই দিনে একজন রোগীর দুটি ভিন্ন রিপোর্ট কীভাবে দিলেন, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। জানা গেছে, আবুল বাশারের দেওয়া রিপোর্ট নিয়ে চলতি বছরেই একাধিক গড়মিলের অভিযোগ উঠেছিল, যার জেরে পঞ্চগড় মকবুলার রহমান ডায়াবেটিক সমিতি থেকে তাঁকে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়। বর্তমানে পঞ্চগড়ের ক্লিনিক ও ডায়াগনেস্টিক খাতে একক আধিপত্য বিস্তার করে কাজ করছেন এই টেকনোলজিস্ট।

এ বিষয়ে পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান জানান, “মেডিকেয়ার সেন্টারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগকারীর তিন প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টের মধ্যে মেডিকেয়ার সেন্টারের এসজিপিটি রিপোর্টটি চরম অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..