1. nskibria2012@gmail.com : ns kibria : ns kibria
রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:০০ অপরাহ্ন

আবহমান গ্রাম-বাংলায় আধুনিক চাষাবাদের ছোঁয়ায় দিন দিন আখ চাষ হারিয়ে যাচ্ছে

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ৬ বার পঠিত

মির্জা আব্দুর রব বুলবুল, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:

আবহমান গ্রাম-বাংলায় আধুনিক চাষাবাদের ছোঁয়ায় গ্রামীণ জনপদের এক সময়ের জনপ্রিয় অর্থকরি কৃষি ফসল আখ চাষ দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। গ্রামীণ জনপদে ৭০ দশক থেকে শুরু করে বিংশশতাব্দী পর্যন্ত গ্রাম-বাংলার প্রতিটি জেলার গ্রামীণ জনপদে আখ চাষের
জনপ্রিয়তা ছিল চোখের পড়ার মতো বলে এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিবর্গরা জানান। বাংলাদেশে সর্বমোট ১৫টি চিনিকল রয়েছে এর মধ্যে ৯টি সচল এবং ৬টির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশের মধ্যে নাটোর জেলায় সবচেয়ে বেশি আখ উৎপাদন হয়।
সরকারের কৃষি বিভাগ থেকে জানা যায় বর্তমান সময়ে সারা দেশে ৩৬৫০০ হেক্টর জমিতে আখের চাষ হয়। সারা দেশে ৩৩ লাখ থেকে ৭৩ লাখ মেট্রিকটন আখ উৎপাদন হয়। যা প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগন্য। সারা দেশে আখ চাষ কম হওয়ায় দিন দিন
চিনিকল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আদিকালে গ্রাম-গঞ্জের ফেরিওয়ালারা শীতের সকালে পাড়া মহল্লায় ঘুরে ঘুরে আখের রস বিক্রি করতেন। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধরাও আখের রস খাওয়ার জন্য উদগ্রীব ছিল। আবহমান গ্রাম-বাংলায় নানামূখী কৃষি
চাষাবাদ হওয়ায় কালের বিবর্তনে আখের চাষাবাদ দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। আগের তুলনায় আখ চাষ দিন দিন কমে যাচ্ছে। কারণ হিসেবে অভিজ্ঞজনেরা মনে করেন দীর্ঘ সময় ধরে জমিতে ফসল আটকে থাকা, দাম ঠিকমতভাবে না পাওয়া এবং অল্প সময়ে অন্য
ফসল লাভজনক হওয়ায় কৃষকগণ আখ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে। দেশে এখন আখ উত্তোলোনের মহাৎসব চলছে। সরেজমিনে তথ্য অনুসন্ধানে গেলে দেখা যায়, কৃষকগণ উৎসবমূখর পরিবেশে তাদের জমি থেকে আখ উত্তোলোন করছে। আদিকালে এক সময়ে
আবহমান গ্রাম-বাংলার প্রতিটি গ্রামীণ জনপদের কৃষকগণ সমতল ভূমিতে প্রচুর পরিমাণ আখ চাষাবাদ করতেন। আধুনিক চাষাবাদের বিস্তারে কৃষকরা সহজলভ্য ফসল উৎপাদনে মনোনিবেশ করেছেন। এতে করে আখ চাষের পরিমাণ দিন দিন হারিয়ে
যাচ্ছে। আখ দেশের খাদ্য ও শিল্পে ব্যবহার্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্থকরী ফসল। চিনি, গুড় ও চিবিয়ে খাওয়ার জন্য কৃষকগণ আখ চাষ করে থাকে। আখ চাষ একটি দীর্ঘমেয়াদি ফসল, যা জমিতে প্রায় ১৩-১৪ মাস থাকে। দেশে খাদ্যভাব যখন কম ছিল,
তখন আখ চাষ বেশ জনপ্রিয় ছিল। বর্তমান সময়ে জনসংখ্যার বৃদ্ধির ফলে খাদ্যের চাহিদা ব্যাপক হওয়ায় দিন দিন খাদ্য শস্যসহ অন্যসব জিনিসের বাজারমূল্য অনেকটা বেড়ে গেছে। বর্তমান বাজারে অন্যান্য ফসলের তুলনায় আখের মূল্য খুব একটা
বাড়েনি যারফলে কৃষকগণ আখ চাষের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। আবহমান গ্রাম- বাংলার বাজার এলাকায় ২০০ গ্রাম আখের রস ২০ (বিশ) টাকা, ১ কেজি আখের গুড় ১৪০/-টাকা থেকে ১৬০/-টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশে আধুনিক উচ্চফলনশীল ও
স্বল্পসময়ে চাষ করা যায় এমন ফসল চাষ করে বেশি আয় করার ফলে ক্রমশ আখ চাষের জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এছাড়া তুলনামূলকভাবে নি¤œমানের জমিতে আখের চাষ করা হচ্ছে। ফলে আখের ফলন দিনকে দিন কমে যাচ্ছে। এতে করে দেশের চিনি শিল্পের ওপর এর সার্বিক প্রভাব পড়ছে। তাই অভিজ্ঞজনেরা মনে করেন আখ ফসলকে এ বিরূপ প্রভাব থেকে রক্ষার জন্য সঠিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। কারণ আখ ফসল জমিতে প্রায় ১৩-১৪ মাস অবধি থাকে, তাই দীঘ সময় কৃষকদের আখের জমির নানাবিধ ও সঠিকভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। আখ চাষের পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে মটরশুটি, ছোলা, মশুর, মুগ সহ নানা জাতির ফসলের চাষ করতে হবে। দেশের চিনিকল গুলোতে আখ সরবরাহের পর দাম পেতে দীর্ঘসূত্রতা ও নানা জটিলতার প্রেক্ষিতে আখ চাষ কমেযাচ্ছে। দেশের খাদ্য ঘাটতি পূরণের জন্য আখ চাষের জমিতে স্বল্প সময়ে লাভজনক ফসল ধান, গম, ভুট্টা, সরিষা, পেঁয়াজ-রসুন ও শাকসবজিসহ নানামূখী চাষাবাদের দিকে কৃষকগণ ঝুঁকে পড়েছেন। দেশের বহু ঐতিহ্যবাহী চিনিকল আজ কাঁচামাল ও আখের
অভাবে সংকটে পড়েছে। এ ব্যাপারে তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শমিষ্ঠা সেন গুপ্তার এর সাথে সরাসরি কথা বললে তিনি অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে বলেন যে, দেশের চিনি শিল্পকে গতিশীলকরতে ব্যাপক হারে আখের চাষ করা দরকার। কিন্তু বর্তমান সময়ে ধান, গম, ভুট্টা,সরিষা, পেঁয়াজ-রসুন ও শাকসবজির চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষকগণ আখ চাষ কম
করছেন বলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..