1. nskibria2012@gmail.com : ns kibria : ns kibria
মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৫৪ অপরাহ্ন

এক হাজার শহীদের কাপ’ দিয়ে ফিরছে ফিলিস্তিনি ফুটবল

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৮ বার পঠিত
১৯

ক্রীড়া ডেস্ক :

চারদিকে বারুদ আর ধ্বংসের ক্ষত, বাতাসে এখনো স্বজন হারানোর কান্না। গত তিন বছর ধরে ইসরায়েলি বাহিনীর লাগাতার হামলায় ফিলিস্তিনের খেলার মাঠগুলো যেন পরিণত হয়েছিল মৃত্যুপুরীতে। বুট আর জার্সির বদলে অনেক খেলোয়াড়কেই পরতে হয়েছে কাফনের কাপড়। তবে এত শোক আর রক্তের দাগ মুছে ফেলে আবারও বেঁচে থাকার নতুন মন্ত্র খুঁজছে ফিলিস্তিন। শোককে শক্তিতে পরিণত করে আগামী সেপ্টেম্বরের শুরুতেই দেশটিতে নতুন করে বাঁশি বাজতে চলেছে রেফারির, মাঠে ফিরছে ঘরোয়া ফুটবল।

ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ) আনুষ্ঠানিকভাবে এই ক্রীড়াযজ্ঞ শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া এই বিশেষ টুর্নামেন্টের নাম দেওয়া হয়েছে ‘কাপ অব আ থাউজেন্ড মার্টিয়ার্স’ বা ‘এক হাজার শহীদের কাপ’। মূলত চলমান যুদ্ধে যে ১ হাজার ১৪ জন ফিলিস্তিনি ফুটবলার প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাতেই এমন আবেগঘন নামকরণ করা হয়েছে। রামাল্লায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পিএফএ সভাপতি জিবরিল রাজুব এই চ্যাম্পিয়নশিপ শুরুর কথা নিশ্চিত করেন।

যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশে এই টুর্নামেন্টের পরিধি চমকে দেওয়ার মতো। এতে সব মিলিয়ে ২২৬টি ক্লাব অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে পশ্চিম তীরের ১৪৬টি এবং গাজার ৪৪টি দলের পাশাপাশি লেবাননে থাকা ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরের ৩৬টি দলও অংশ নেবে। টুর্নামেন্টের প্রথম দিনেই তিনটি আলাদা জায়গায় একসঙ্গে খেলা শুরু হবে। ফয়সাল আল-হুসাইনি স্টেডিয়ামে জাবাল আল-মুকাবের খেলবে ট্রাইব অব খলিলের বিপক্ষে, গাজায় শাবাব রাফাহর প্রতিপক্ষ খাদামাত রাফাহ এবং লেবাননের শরণার্থী ক্যাম্পে আল-আনসার লড়বে আল-নাহদার বিরুদ্ধে।

গত বছরের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা তীব্রতর হলে ফিলিস্তিনের জনজীবনের পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনও পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে। ঘরবাড়ি কিংবা হাসপাতালের মতো অসংখ্য খেলার মাঠ ও স্টেডিয়াম গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে পিএফএ সভাপতি জিবরিল রাজুব বলেন, ‘এত রক্ত ঝরার পরও আমরা আমাদের আশা ছাড়িনি। আমাদের কাছে খেলাধুলা মানেই বেঁচে থাকার প্রতীক।’

তবে নতুন করে এই শুরুটা মোটেও সহজ নয়। পিএফএ বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। খেলোয়াড়রা যেন সম্মানের সঙ্গে মাঠে ফিরতে পারেন, সেজন্য বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাসহ আন্তর্জাতিক ফেডারেশনগুলোর কাছে আর্থিক সাহায্যের আবেদন করেছে তারা। একইসঙ্গে ফিফার সাহসিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ফিলিস্তিন। অবৈধ ইসরায়েলি বসতিভিত্তিক ক্লাবগুলোকে নিষিদ্ধ করা এবং রাজনৈতিক চাপের কাছে মাথা নত না করে ফিফা তাদের নিজস্ব আইন ঠিকমতো প্রয়োগ করতে পারে কি না, সেদিকেই এখন নজর ফিলিস্তিন ফুটবল সংস্থার।

ঘরোয়া ফুটবলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মঞ্চেও নিজেদের মেলে ধরতে প্রস্তুত হচ্ছে ফিলিস্তিনের জাতীয় দল। আগামী জানুয়ারিতে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান কাপকে সামনে রেখে সেপ্টেম্বরে চীনের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে তারা। এছাড়া জাপানে হতে যাওয়া আসন্ন এশিয়ান গেমসের জন্যও কোমর বেঁধে নামছে ফিলিস্তিন। সেখানে ১৯টি ভিন্ন ভিন্ন ইভেন্টে অংশ নিতে ৬৭ জন নারী ও পুরুষ অ্যাথলেটসহ মোট ১০৮ সদস্যের একটি বিশাল দল পাঠাচ্ছে দেশটি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..